যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদকেও ‘শহীদ’ বলছে জামায়াত

সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫

যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদকেও ‘শহীদ’ বলছে জামায়াত

Jatioচট্টগ্রাম : ফাঁসির দড়িতে ঝুলা শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও ‘শহীদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে তার দল জামায়াত জামায়াত ইসলামী। হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যখন তার বিরুদ্ধে রায় দেয়। তখন এই রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে এটিকে সরকারের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি।
রোবাবর বিকেল ৪টার সময় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্যারড ময়দানে যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের এক গায়েবানা জানাজায় দলের পক্ষ থেকে নেতারা এসব দাবি করেন।

এরআগে রোবাবর সকালে রাউজানের গহিরায় সাকা চৌধুরীর জানাজায় যাওয়ার সময় মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে সাকাপত্মী ফরহাত কাদের চৌধুরী বলেছিলেন, ‘তুমি কাঁদবে না, তোমার আব্বু শহীদ হয়েছে।’ যিনিও একই অপরাধে মুজাহিদের সাথে একমঞ্চে ফাঁসিতে ঝুলেছেন।
জানাজাপূর্ব সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জাতীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী হিসাবে ন্যায় ও সত্যের পথে ছাত্রজীবন থেকেই দেশ ও জাতির কল্যাণে সততা, দক্ষতা, যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করে দুর্ণীতিমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে অনেক ভূমিকা পালন করেছেন। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে জামায়াতকে নেতৃত্বশূণ্য করার জন্য ষড়যন্ত্র মূলকভাবে হত্যা করেছে। এভাবে জাতীয় নেতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বকে হত্যা করে জাতির মুক্তি আন্দোলনকে স্তদ্ধ করা যাবে না।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘তিনি (মুজাহিদ) একজন সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়াই ছিল তাঁর অপরাধ। নেতৃবৃন্দ জামায়াত নেতা শহীদ আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দীন কাদের চৌধুরী এর রক্তের বদলায় আল্লাহর জমিনে ইসলামকে বিজয়ী করে এর বদলা নেয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।’’


গায়েবানা জানাজার দৃশ্য

গায়েবানা জানাজার দৃশ্য

জানাজা পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, সালাহ উদ্দীন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, সালাহ উদ্দীন কাদের এর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের, বড় ছেলে ফায়েজ কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, নগর বিএনপির সহসভাপতি আবু সুফিয়ান প্রমুখ ।
আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, আ.জ.ম. ওবায়েদুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ, ডাঃ ছিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা লিয়াকত আখতার ছিদ্দিকী, মাওলানা হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ ন্যাপ এর নগর সভাপতি ওসমান গণি সিকদার, লেবার পার্টির নগর সেক্রেটারী মুজিবুর রহমান, নগর উত্তর শিবিরের সভাপতি নুরুল আমিন ও নগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, জামাল উদ্দীন কাদের চৌধুরী, শামীম কাদের চৌধুরী, শাকের কাদের চৌধুরী, সাকিব কাদের চৌধুরী, খাতিব কাদের চৌধুরী প্রমূখ।
জানাজায় ইমামতি ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী ও জানাজা শেষে কুনুতে নাযেলা পাঠ করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২৩ নভেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com