যুক্তরাষ্ট্র কী স্নায়ু-যুদ্ধকালে ফিরে যাচ্ছে ?

রবিবার, ৩১ মে ২০১৫

যুক্তরাষ্ট্র কী স্নায়ু-যুদ্ধকালে ফিরে যাচ্ছে  ?

 

বর্ণমালা নিউজ, নিউইয়র্কঃ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন-ভাঙনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে আমেরিকার যে একাধিপত্যের সূচনা হয়েছিল এবং আপাত অবসান ঘটেছিল স্নায়ু-যুদ্ধের, মনে হচ্ছে সে অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। দক্ষিণ চীন-সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে এবং ইউক্রেন প্রশ্নে ও রাশিয়ার নাকের ডগায় ন্যাটোর হঠাৎ মহড়া নিয়ে আমেরিকা বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছে দেশ দুটির সঙ্গে। শুরু হয়ে গেছে হুশিয়ারি-পাল্টা হুশিয়ারি। হুশিয়ারিতে যুদ্ধের কথাও উঠে আসছে। তিন দেশের সামরিক শক্তির খতিয়ান প্রকাশ শুরু হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। সরাসরি যুদ্ধ না হলেও স্নায়ু যুদ্ধ যে নব আঙ্গিকে শুরু হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে চলেছেন।


আমেরিকা দক্ষিণ চীন সাগরে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে চীন-মার্কিন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং। চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র দৈনিক গ্লোবাল টাইমস সোমবার এক সম্পাদকীয়তে এ মন্তব্য করেছে।

গ্লোবাল টাইমস বলেছে, আমেরিকা বেইজিংকে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখতে বলা বন্ধ না করলে এ যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে মানব-সৃষ্ট যে দ্বীপ নির্মাণের পরিকল্পনা বেইজিং হাতে নিয়েছে তাতে ওই অঞ্চল আরো বেশি সামরিকীকরণের দিকে যাবে। গ্লোবাল টাইমস এ সম্পর্কে বলেছে, ‘যদি আমেরিকার শেষ কথা এই হয় যে, চীনকে ওই নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে হবে তাহলে দক্ষিণ চীন সাগরে চীন-মার্কিন যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে।’

দৈনিকটির সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, ‘মানুষ সংঘাত বলে যা বুঝে থাকে ওই যুদ্ধের বিস্তার হবে তার চেয়ে অনেক বেশি।’ তবে দৈনিকটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, “দক্ষিণ চীন সাগরের নির্মাণকাজ শেষ করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর এবং এটি চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ‘শেষ কথা’।” দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের কৃত্রিম দ্বীপের নির্মাণকাজ এবং ওই এলাকার আকাশে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের ওড়াউড়ি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা তীব্রতর হয়। গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, ‘আমরা আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সংঘাত চাই না, তবে এটি যদি আসে তাহলে আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।’ এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশে গোয়েন্দা বিমান না ওড়াতে সতর্ক করে দিয়েছিল চীন। স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীন একটি তিন হাজার মিটার দীর্ঘ রানওয়ে তৈরির কাজ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই এলাকারই সুবি প্রবাল প্রাচীর অঞ্চলে কয়েকটি ছোট দ্বীপের মাঝের কিছুটা এলাকা সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে আরো একটি রানওয়ে তৈরির কাজ শুরু করে চীন। চলতি বছরের শেষে ওই রানওয়ে তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে চীন সাগরে জাপানের অধিকারে থাকা কয়েকটি জনমানবহীন পাথুরে দ্বীপের স্বত্ব দাবি করায় ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৩১ মে ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩১ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com