যুক্তরাষ্ট্রে মাইকে আজানের অনুমতি ভারতে নিষেধাজ্ঞা

শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে  মাইকে আজানের অনুমতি ভারতে নিষেধাজ্ঞা
প্রতিকী ছবিঃ

যুক্তরাষ্ট্রের  নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের পেটারসন নগরে নামাজের জন্য মসজিদে মাইকে লাউড স্পিকারের মাধ্যমের আজান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পেটারসন কাউন্সিল সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার ভেতর মাইক ব্যবহার করে আজান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের ভোট নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পিটারসনের মেয়র আন্দ্রে সায়েগ।

অন্যাদিকে ভারতের উত্তর প্রদেশে দুটি মসজিদকে আজানের সময়ে মাইক ব্যবহার করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।


পিটারসনের মেয়র আন্দ্রে সায়েগ বলেন, ‘মসজিদে আজানের বিষয়টি কাউন্সিল বিবেচনা করলেও এটি একটি সর্বজনীন আলোচনার বিষয়। আমি জনগণের কাছ থেকে সবাইকে এই আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। এ বিষয়ে সবার মতামত শোনা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণ কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারে, তাই তাদের মতামতও শুনতে চাই।’
শহরটির মুসলিম বাসিন্দাদের মতে, এটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গির্জার ঘণ্টার মতোই। যদি সেটির অনুমতি থাকে, তাহলে অবশ্যই আজানের অনুমতি থাকতে হবে।’
পেটারসনের বাসিন্দা ইসান অ্যাল্টন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। কারণ, শনিবার বা রোববার লোকেরা গির্জায় আহ্বানের জন্য ঘণ্টা বাজায়। যেটি কোনো সমস্যা মনে করা হয় না। অতএব মাইকে আজান দেওয়ায় কোনো সমস্যা হওয়া উচিত নয়।’
নিউজার্সির আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য পেটারসনের কর্মকর্তাদের সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের মুক্ত মনোভাব আমাদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ভেতর শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকবে।
পেটারসনের বেশির ভাগ বাসিন্দা এই পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘সন্ধ্যা থেকে রাত ও ভোরের দিকে আজানের শব্দে মানুষের সমস্যা হতে পারে।’

ভারতের উত্তর প্রদেশে দুটি মসজিদকে আজানের সময়ে মাইক ব্যবহার করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিচারপতি পঙ্কজ মিথাল এবং ভিপিন চন্দ্র দীক্ষিতের ডিভিশান বেঞ্চ বলেছে, “কোনও ধর্মই এটা শেখায় না যে প্রার্থনা করার সময়ে মাইক ব্যবহার করতে হবে বা বাজনা বাজাতে হবে। আর যদি সেরকম কোনও ধর্মীয় আচার থেকেই থাকে, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যাতে অন্যদের তাতে বিরক্তির উদ্রেক না হয়।”

জৌনপুর জেলার বাদ্দোপুর গ্রামে অবস্থিত দুটি মসজিদে আজানের সময়ে মাইক ব্যবহারের অনুমতি নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন মাইক ব্যবহারের অনুমতিকে নবায়ন করতে চায় নি। তার বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল।

কিন্তু শব্দ দূষণরোধ আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নানা রায় তুলে ধরে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, “সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার আছে ঠিকই কিন্তু সেই ধর্মাচরনের ফলে অন্য কারও অসুবিধা করার অধিকার কারও নেই।”

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com