যুক্তরাষ্ট্রে নিরবে নিভৃতে উদযাপিত হলো খৃষ্টমাস ডে

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে নিরবে নিভৃতে উদযাপিত  হলো খৃষ্টমাস ডে
ছবিঃ সংগ্রহ

২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।  আজ থেকে দুই হাজার বারো বছর আগে বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেমের এক গোশালায় কুমারী মাতা মেরির কোল আলো করে এসেছিলেন যিশু খ্রীষ্ট ।  ইসলাম ধর্মে যিশুই হজরত ঈসা (আঃ) আর মেরি হলেন বিবি মরিয়ম। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা এই দিনকে বলে মেরী  খ্রীষ্টমাস, আর মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা বলে বড় দিন।

যিশুর  জন্মতিথি উপলক্ষে গোটা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রতিবছর  এই দিনটি  উৎসব আমেজের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে।


কিন্তু এবারের চিত্রটি ভিন্ন। বিশেষত থ্যাংকসগিভিং ডের ছুটিতে শত নিষেধ সত্ত্বেও মানুষের ছুটি কাটাতে দেশময় ঘুরে বেড়ানো এবং সেই সূত্রে করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে বড়দিন এসেছে অনেকটাই বিমর্ষ ভাব নিয়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আগে থেকেই মানুষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে আগের মতো  আনন্দ ফূর্তির মধ্যদিয়ে উদযাপন না করে এক রকম নিরবে নিভৃতে  নিজেদের মতো করে বড়দিন উদ্‌যাপন করছে দিনটি।

আশা করা হয়েছিল বড়দিনের আগেই করোনা টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ লাখের বেশি মানুষকে করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টিকা প্রদান কর্মসূচি আরও জোরদার হচ্ছে। কিন্তু করোনা বিস্তার ঠেকাতে এর দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ থেকেও আসছে একের পর এক দুঃসংবাদ।

এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আবারও আলোচনায় উঠেছে গণ-রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার (হার্ড ইমিউনিটি) প্রসঙ্গটি। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, এই কাজটি টিকার মাধ্যমেই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষকে টিকা নিতে হবে।’

এই পরিমাণ টিকার উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রয়োগ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনো স্বাস্থ্য সতর্কতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁরা মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছেন। কেউ কেউ ইউরোপের দেশগুলোর মতো করে আবার অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন শুরুর কথাও বলছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বাজে বিষয়টি উপহার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড়দিনের ঠিক আগে আগে অনেক আলোচনার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় করোনা প্রণোদনা বিল কংগ্রেসে পাস হলেও তাতে সই করেননি ট্রাম্প। হঠাৎ করেই তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বলেছেন, প্যাকেজে প্রস্তাবিত বেকারভাতার পরিমাণ কম হয়ে গেছে। তিনি আরও বেশি দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি সরকারি ব্যয় সম্পর্কিত বিলেও সই করেননি। লাখো মানুষকে উৎসবের আগে আর্থিক কষ্টে রেখে চলে গেছেন ছুটিতে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ ও এ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২৩ ডিসেম্বর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯-এ মারা গেছে তিন সহস্রাধিক মানুষ। এরই মধ্যে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশটির সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঙ্গরাজ্য হিসেবে সামনে এসেছে টেনেসি ও ক্যালিফোর্নিয়ার নাম। প্রথম ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের অবস্থাও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আর এই সতর্কতার কারণেই জৌলুশ হারিয়েছে বড়দিন। আগের মতো সান্তা ক্লজকে ঘিরে শিশুদের ভিড় দেখা যায়নি এবার। বড়দিন উপলক্ষে সুসজ্জিত পথগুলোয় নেই মানুষের ভিড়। ফলে এসব সজ্জা এখন বরং বিষণ্নতার জন্ম দিচ্ছে।

 

ইসলাম গ্রহণকারীদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সহযোগিতা করে থাকে দুবাইয়ের এই প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এবং টোল ফ্রি ৮০০৬০০ নম্বরে কলের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের অনুরোধে সাড়া দেয় মোহাম্মদ বিন রাশিদ সেন্টার ফর ইসলামিক কালচার।

সংস্থাটির নওমুসলিম কল্যাণ শাখার প্রধান হানা আব্দুল্লাহ আল-জাল্লাফ বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা একজন নওমুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আমরা নওমুসলিমদের সেবায় নিয়োজিত আছি। তাঁদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক নানাবিধ সমস্যায় সেন্টার ফর ইসলামিক কালচার কাজ করে।’

শনিবারের চিঠিআটলান্টা২৬ ডিসেম্বর২০২০

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com