যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ নিহত ৪

শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ নিহত ৪

Jesযশোরঃ যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি এলাকায় ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন ।

এ ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকটি পুড়িয়ে দেয় এবং সাত ঘণ্টা যশোর-চৌগাছা সড়ক অবরোধ করে।

এদিকে, একই এলাকার মান্দারতলায় যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে নসিমনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।


 

এদিকে, একই এলাকার মান্দারতলায় যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে নসিমনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এদিকে, একই এলাকার মান্দারতলায় যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে নসিমনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ইনামুল হক জানান, শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের পলতাডাঙা মোড়ে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষ হয়। তার পরপরই ছাত্ররা সড়ক আটকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা।

নিহতরা হলেন- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু হানিফ (২৫), চৌগাছা উপজেলার চাঁন ধাপরা গ্রামের মাওলানা হাবিবুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫০), একই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আনিছুর রহমান (২২) এবং ফুলসরা গ্রামের খিজির আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম।

ওসি জানান, চৌগাছাগামী নসিমনটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। একজন মারা যান যশোর সদর হাসপাতালে।

ট্রাকচালক উল্টোদিক থেকে আসা একটি বাসকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নসিমনটি সামনে পড়ে যায় এবং সংঘর্ষ হয়। এরপর নছিমনটি ট্রাকের সঙ্গে আটকে গেলে ওই অবস্থায় শ্যালো ইঞ্জিন চালিত বাহনটিকে বেশ খানিকটা পথ টেনে নিয়ে যায় ট্রাকটি।

দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহতের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকে আগুন দেয়। তবে তার আগেই ট্রাক চালক পালিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নেভাতে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেয়; ফলে ট্রাকটি পুরোপুরি পুড়ে যায় বলে জানান ওসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এরপর যশোর-চৌগাছা সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিবহন শ্রমিকদের একটি দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়।

ওসি বলেন, “দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা যশোর-চৌগাছা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।”

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাসি (২৩), চৌগাছার হুদাপুরের খাদিজা (৩৫), তার মেয়ে বৃষ্টি (৮) ও তামান্ন (১৫), স্বপ্না (২৩), তার মেয়ে রত্না (৫), শিবনগর গ্রামের বিকাশ বিশ্বাস (৪০), চূড়ামনকাঠির আবু সাইদের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (১২), ওলিদ (৪৮) ও ঝিনাইদহের মহেশপুরের মোহাম্মদ ইয়াসিন (৩৫)। হতাহতদের সবাই ওই নসিমনের আরোহী ছিলেন।

এদের মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের ভর্তি করা হয়েছে যশোর সদর হাসপাতালে।

স্বপ্না ও জাহিদুল বাদে বাকি সবার আঘাতই গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক কাজল মল্লিক।

এ ঘটনার পর ওই সড়কে নছিমন-করিমন-আলমসাধুর মতো শ্যালো ইঞ্জিনচালিত বাহন চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার।

বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে হানিফের জানাজা 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিহত আবু হানিফের লাশ সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের উদ্দেশে নিয়ে গেছে তার সহপাঠীরা।

হানিফ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুমারজানি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, আসরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় লাশ তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় সহপাঠীরা।

নসিমনের ধাক্কায় আরও একজনের মৃত্যু

কোতোয়ালি থানার ওসি আরও জানান, বেলা ১টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে মান্দারতলায় নসিমনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আমজাদ হোসেন (৪০)।

তিনি সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানান ওসি।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com