যমুনার ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

রবিবার, ১২ জুন ২০১৬

যমুনার ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

মহব্বত হোসেন, টাঙ্গাইলঃ বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রক্ষা পাচ্ছে না ফসলি জমিও।
এ অবস্থায় গৃহহারা পরিবারগুলো আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

প্রতি বর্ষা মৌসুমে যমুনায় ভাঙনের কবলে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবারও তীব্র ভাঙনে ভুয়াপুর উপজেলার জগৎপুরা, গুলিপেচা, অর্জুনা, কুঠিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি এরই মধ্য নদীতে তলিয়ে গেছে।


গুলিপেচা গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২০-২৫ দিন আগে নদীতে ভাঙন শুরু হয়। সাধারণত বর্ষায় প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হলো মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তাঁর মতে, ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে ভুয়াপুর-তারাকান্দি সড়কটি হুমকির মধ্যে পড়বে। ভাঙন এলাকা থেকে আর মাত্র ৫০ থেকে ১০০ গজ দূরেই এই সড়ক। তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত সার এ সড়ক দিয়েই সারা দেশে সরবরাহ হয়ে থাকে।

স্থানীয় সিরাজ মণ্ডলের প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। অবশিষ্ট আছে শুধু বসতভিটা। তিনি জানান, নদীর মধ্যে বিশাল চর জেগে উঠেছে। যে কারণে বাম পাড়ে নদীর গভীরতা বেড়ে যাওয়াই ভাঙনের প্রধান কারণ। যে মাত্রায় ভাঙন চলছে, তাতে বাম তীরে কোনো ফসলি জমি বা বসতভিটা অবশিষ্ট থাকবে না বলে মনে করেন তিনি। একই আশঙ্কা করেছে স্থানীয় অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্তরা ভাঙনরোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকায় ভাঙনরোধে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এটি নির্মাণ করা হলে ভাঙন থেকে আপাতত রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ এনটিভি অনলাইনকে জানান, বিষয়টি মাথায় রেখে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে ভাঙনের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ মে ১২, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১২ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com