মোদী বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী আটক

বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

মোদী বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী আটক
মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী

রাজধানীর মতিঝিলে যুব অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে আটক হয়েছেন ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম।  বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে মাওলানা রফিকুল, নুরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তাদের প্রিজনভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ভ্যানে বসেই আটক নুরুজ্জামান নামে একজনের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন রফিকুল ইসলাম।


‘মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী সমর্থক’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ লাইভটি শেয়ার করে। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫৬ হাজারের বেশি।

প্রিজনভ্যান থেকে মাত্র ২৯ সেকেন্ডের ওই লাইভে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ, সম্মানিত দেশবাসী আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের পুলিশ প্রিজনভ্যানে নিয়ে এসেছে। এই যে আমাদের আরও কিছু ভাই। আমরা বলব— আমরা আসলে দেশের বিরুদ্ধে না, ইসলামের বিরুদ্ধে না, আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা আহত করেছেন, আঘাত করেছেন, আমরা তাদের বলব— আমাদের আঘাত করা আর দেশকে আঘাত করা একই কথা। আমরা ইসলামবিরোধী না দেশবিরোধী না।’
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। দেখতে ছোট হওয়ায় তাকে সবাই শিশুবক্তা বলেন। যদিও তিনি শিশুবক্তা পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘরে রাজধানীর মতিঝিল শাপলাচত্বরে যুব অধিকার পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ডাকা হয়।  মিছিলে যুব, ছাত্র অধিকারসহ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন।  পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। মিছিলকারীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
যুব অধিকার পরিষদ আয়োজিত এই বিক্ষোভে পুলিশ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা মশিউর রহমানের। তিনি জানান, পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে।  এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

তিনি আরও বলেন, আমরা মতিঝিল শাপলাচত্বর পার হচ্ছিলাম, এ সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এখান থেকে শিশুবক্তা রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান জানান, পুলিশ বিক্ষোভে গুলি ছোড়েছে। এতে ছাত্র ও যুব অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— নুরুল হক নুর, সাজিদ, মৃণাল, মুরাদ প্রমুখ। এদের মধ্যে সাজিদসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন নুরুল হক নুর। এই তথ্য জানিয়েছেন নুরের ভাগ্নে মিঠু। তিনি  টেলিফোনে  এ প্রতিনিধিকে বলেন, মামা পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
তবে রফিকুল ইসলামকে আটকের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  মতিঝিল থানায় ফোন করা হলে ডিউটি অফিসার আরাফাত  জানান, তার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

মতিঝিল জোনের এডিসি নুরুল আমিন বলেন, তারা মিছিল নিয়ে শাপলাচত্বর এলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করে। আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com