মোংলা বন্দরে বাড়ছে জাহাজ, দেখছে লাভের মুখ

শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭

মোংলা বন্দরে বাড়ছে জাহাজ, দেখছে লাভের মুখ

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দক্ষিণবঙ্গের বাগেরহাটে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবন্দর মোংলা ।১৯৫০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে একটি সরকারি অধিদপ্তর হিসাবে যাত্রা শুরু করে এবং মে ১৯৭৭ সালে, চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামক একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং পুনঃরায় ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে এটি নাম পরিবর্তনপূর্বক “মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ” হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবন্দরটিতে কয়েক বছর ধরে বেড়েছে জাহাজের আগমন-নির্গমন। ফলে দীর্ঘদিন লোকসানের তকমা লাগা বন্দরটি ধীরে ধীরে দেখছে লাভের মুখ।

প্রতিষ্ঠার প্রথম দিক থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি এবং খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ও সার আমদানির মধ্য দিয়ে জমজমাট হয়ে ওঠে বন্দরটি। পরে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি। তবে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ড্রেজিংয়ের অভাবে পশুর চ্যানেলের নাব্য কমে যায়। হ্রাস পায় জাহাজের আসা-যাওয়া। ফলে স্থবির হয়ে পড়া এ বন্দরকে সে সময় মৃত ঘোষণা করা হয়।


তবে সম্প্রতি পশুর চ্যানেলের ড্রেজিং, নিজস্ব ড্রেজার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ বন্দরকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলায় মৃত মোংলা বন্দর লোকসানি দুর্নাম ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাড়ছে মোংলা বন্দরে জাহাজের আগমন, পণ্য হ্যান্ডলিং ও আয়।

Mongla 2এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তফা কামাল জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ বন্দরে জাহাজ ভিড়েছিল ৬২৩টি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) জাহাজ এসেছে ২৯৪টি। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরে এসেছে ৮০টি জাহাজ।

মোস্তফা কামাল আরো জানান, জাহাজ আগমনের এ সংখ্যা বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙেছে। এর আগে ২০১৫-১৬  অর্থবছরে ৪৮২টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪১৬টি এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৩৪৫টিতে। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে জাহাজ আগমন সংখ্যা কমতে থাকলেও তা ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে বাড়তে শুরু করে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে মোংলা বন্দরের ওপর আরো চাপ বাড়বে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দরজুড়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। বর্তমানে বন্দরে যে পরিমাণ জাহাজ আসছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা ঠিক রাখা, মোংলা থেকে যশোর বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কপথ সংস্কার করতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সব শ্রেণির মানুষকে কাজ করতে হবে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০২ ডিসেম্বর, ২০১৭  

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:২৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com