মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!

রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!
মাহমুদুল খান আপেল

 


Opinoinস্বাধীনতার অনেক পরের প্রজন্ম হওয়া, যুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য হয়নি। তবে, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, অনুভব করতে শিখেছি, তখন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের যে অনুভুতি ভিতরে কাজ করতো, সেটা ছিলো অন্য সব অনুভুতি থেকে আলাদা। এই শব্দটা মনে এলেই একদিকে ভেসে উঠতো একদল বীর সেনানীর বীরুত্বের কথা, আর অন্যদিকে একদল নির্যাতিত মানুষের কথা, সেই সাথে সব নির্যাতিত মা-বোনদের কথা। একদিকে অনুপ্রেরনায় বুকটা ভরে উঠতো, অন্যদিকে ক্ষোভের আগুনে পুড়তো হৃদয়টা। সব কিছু মিলিয়ে সত্যিই এক অন্যরকম অনুভুতি। গর্ব ভরে নিশ্বাস নিয়ে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, এই খোলা আকাশ শুধুই আমাদের। মনে হলেই গর্বে বুকটা ভরে উঠতো, তাই শুকরিয়া আদায় করতে দেরী করতাম না উপরওয়ালার কাছে, পাশাপাশি মনের অজান্তেই দোয়া চলে আসতো সব বীর সেনানীদের জন্য। আর অন্যদিকে ধিক্কার দিতাম সেই সব মানুষ রুপী জানোয়ারদের, নিজের দেশের মানুষের প্রতি যারা এরকম পৈশাচিক অন্যায় করতে পারে। রাগে ক্ষোভে শরীরের রক্ত গরম হয়ে উঠতো। ছোট বেলায় এই অনুভুতি এমন ভাবে কাজ করতো যে স্বাধীনতা লেখা একটা ছেড়া কাগজ মাটিতে পরে থাকতে দেখলে, সংগে সংগে সেটা কুড়িয়ে নিয়ে সযত্নে পকেটে রেখে দিতাম। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এলে শরীরে এক অন্যরকম শিহরন বয়ে যেতো। লুকিয়ে লুকিয়ে লম্বা প্রাচীর টপকিয়ে বারোটার আগেই গিয়ে হাজির হবার চেস্টা করতাম সেই মুক্তির মিছিলে। আমার মনে হয় একটি স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের অনুভুতি ঠিক একই রকম। এখানে নেই কোন সঠতা, নেই কোন ভাড়ামী, এটাই সত্যিকারের অনুভুতি।

এরপর বড় হতে থাকলাম আর দেখতে থাকলাম সেই নিস্পাপ অনুভুতিতে কালীমা লেপনের দুর্বার প্রতিযোগিতা। ধীরে ধীরে সেই অনুভুতিকে পুজি করে শুরু হলো রাজনৈতিক পতিতাবৃত্তি। ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট মানুষ সেটাকে তাদের নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবী করতে শুরু করলো। প্রথম দিকে সেটা দেখে অবাক হতাম, ধীরে ধীরে বিস্মিত হতে শুরু করলাম। এরপর নিজের জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে এর রহস্য আবিস্কারের চেষ্টা করতে লাগলাম। দেখলাম যা ভেবেছিলাম তাই। খুব সহজ সমিকরন, কেউ যদি আমার সত্যিকারেই কোন উপকার করে, তাহলে তাকে সে কথা বললে সে লজ্জা পারে। আর যদি সে নিজেই প্রতিদিন যখনই দেখা হয় তখনই যদি বলে, “মনে আছে তো, আমি আমি কিন্তু আপনার ঐ উপকার টা করেছিলাম”। প্রথমে কৃতজ্ঞাবসত শুনতে ভালোই লাগবে কিন্তু বছরের পর বছর একই কথা শুনতে কেমন লাগবে। তখন স্বাভাবিক ভাবে সন্দেহ জাগবে ঘটনা কি এবং এক সময় ঠিকই বের হবে যে সে আসলে সেদিন কোন উপকার করেনি, বরং সেই ছিলো তার সেই বিপদের নাটের গুরু। সেকথা যেনো কোন দিন জানতে না পারি, সে জন্যই সে উপকারের কথা বলে ভুলিয়ে রাখতো। আজকে ঠিক একই অবস্থা আওয়ামিলিগের। স্বাধীনতা ছাড়া এদের মুখে কোন কথা নেই, কিন্তু সত্যিকার অর্থে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এদের কোন অবদান তো নাই ই বরং এরা আরো বেশী ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। দেশের হয়ে কাজ করা সত্যিকারের মুক্তিবাহীনির বিরুদ্ধে এরা গড়ে তুলেছিলো তথাকথিক মুজিব বাহিনি। সেকারণে সত্যিকার মুক্তি যোদ্ধাদের কে একসাথে তিন ধরনের শত্রুর মোকাবেলা করতে হয়েছে, পাকি হানাদার বাহিনী, তাদের দোসর ঘৃন্য রাজাকার আল বদর, আর উটকো ঝামেলা মুজিব বাহিনী। সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধে এদের কোন অবদান নেই। এদের প্রধান লক্ষ্য ছিলো যুদ্ধ পরবর্তিতে দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। সেই কুটচাল নিয়ে এরাছিলো ব্যাস্ত। সেই দুর্বলতা কে ঢাকবার জন্য সরাক্ষন তাদের মুখে চেতনার কথা। এদের বর্তমান রাজনৈতিক পতিতাবৃত্তির একমাত্র অবলম্বন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মানুষের স্বাভাবিক সহজ রল অনুভুতিকে পুজি করে টিকিয়ে রেখেছে তাদের ধান্দাবাজী। নেশা গ্রস্থদের যেমন এক সময় আর প্রচলিত নেশায় কাজ হয় না, তখন এক্স্টিম ওভারডোজ নিতে হয়, তেমনি যুদ্ধঅপরাধীদের বিচার নামক প্রহসন করে এই ওভারডোজ দেয়া হচ্ছে জনগন কে। সেই সকল ঘৃন্য অপরাধীদের বিচার এদেশের দেশ প্রেমিক প্রতিটি জনগন চাই, কিন্তু সেটাকে পুজি করে যে জঘন্য হিংস্র খেলায় মেতে উঠেছে তার মাসুল অচিরেই দিতে হবে। সেই সাথে আমার মতো লক্ষ কোটি ছেলেমেয়েদের স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত করে প্রতিশোধের যে আগুন জ্বালানো হয়েছে, সেই আগুনেই একদিন তারা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এই আমার দোয়া উপর ওয়ালাক কাছে। ফেস বুক স্টাটার্স থেকে

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২২ নভেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com