মুক্তিতে দারুণ খুশি, দেখতে চান ছেলের মুখ

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০১৫

মুক্তিতে দারুণ খুশি, দেখতে চান ছেলের মুখ

 

কক্সবাজার: মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) হাতে অপহরণের শিকার বিজিবির নায়েক রাজ্জাক দেশে ফিরতে পেরে আনন্দিত। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশবাসীর প্রতি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। একই সঙ্গে দেখতে চেয়েছেন নবজাতক ছেলের মুখ।


মিয়ানমারে আটদিন আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফিরে আসেন দেশে। টেকনাফে নামার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। এপর দেশবাসীর ভালোবাসার জন্য প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতা।

রাত ৮টার দিকে মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্লতা প্রকাশ করে রাজ্জাক বলেন, ‘দেশে ফিরে আসতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। দেশবাসীর এতো ভালোবাসা আমার জন্য ভাবতে পারছি না।’

নিজের ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তার উচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায়। তিনি নবজাতক সন্তানের মুখ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বিজিবি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে ফেরেন। ফিরেই মুক্তিপ্রাপ্ত নায়েক রাজ্জাককে বিজিবির টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়ানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে উৎফুল্লতা প্রকাশ করেন বিজিবি নায়েক আব্দুর রাজ্জাক।

টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বাংলামেইলকে জানান, মংডুকে বিজিপির কার্যালয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুপুর ২টা নাগাদ নায়েক রাজ্জাককে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করা হয়। এসময় বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে নায়েক রাজ্জাকের বিষয় ছাড়াও সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত ১৭ জুন বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালানি সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি চালায় বিজিবি। ওই সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির কয়েকজন সদস্য ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। এক সময়ে টহল দলটি বিজিবি নৌযানের কাছে গিয়ে থামে। বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা জলসীমা ত্যাগ করেনি। উল্টো নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে। এ সময় বিজিবির অন্য সদস্যরা বাধা দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময়ে বিজিবির সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাজ্জাককে তুলে নিয়ে বিজিপি ট্রলারটি মিয়ানমারের মংডুতে চলে যায়। বিজিবির সদস্যদের ধারণা ওই ট্রলারে ইয়াবাসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য ছিল।

এ ঘটনার পর রাজ্জাককে ফেরতে পেতে পাতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায় বিজিবি। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি মিয়ানমারের পক্ষ থেকে। এভাবে নানা জল্পনা-কল্পনা আর আলোচনা সমালোচনার আটদিন পর বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মংডুতে দুদেশের পতাকা বৈঠকে রাজ্জাককে ফেরত দেয়া হলো।

এর আগে ২২ জুন রাজ্জাককে ফেরত দিতে কঠিন শর্ত জুড়ে দেয় বিজিপি। তাদের দাবি ছিল গত ২৯ মে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে উদ্ধার সাগরভাসা ৭২৭ জনের মধ্যে ৫৫৫ জনই বাংলাদেশি। এদের ফেরত নিলেই বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়া হবে।

মিয়ানমারের এ শর্তে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে অনেকেই মিয়ানমারের সরকার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এ ব্যাপারে কথা উঠে জাতীয় সংসদেও। মিয়ানমারের ওই আচরণকে উদ্ধত্য হিসেবেই দেখতে শুরু করে সবাই। এমন পরিস্থিতির একদিন পর ২৩ জুন কোনো রকম শর্ত ছাড়াই রাজ্জাককে ফেরত দিতে সম্মত হয় বিজিপি।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৬ জুন ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com