মিশরে আল-জাজিরার তিন সাংবাদিকের পুনর্বিচার

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০১৫

মিশরে আল-জাজিরার তিন সাংবাদিকের পুনর্বিচার

 

শনিবার রিপোর্টঃ মিশরের সর্বোচ্চ আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য করার দায়ে আল জাজিরার সাজাপ্রাপ্ত তিনজন সাংবাদিকের পুনর্বিচারের আদেশ দিয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বিবিসি।


শুনানিও স্থগিত করা হয়েছে। তবে পুনর্বিচারের জন্যে নতুন কোনও দিন তারিখ ঠিক করা হয়নি এখনও।

এর আগের বিচারে বিবিসির সাবেক সাংবাদিক পিটার গ্রেস্টাসহ তিনজন সাংবাদিকের সাত থেকে দশ বছরের জেল হয়েছে।

জেলখানায় আটক তিন সাংবাদিক – মিশরীয় বংশোদ্ভূত ক্যানাডিয়ান মোহাম্মদ ফাহ্মি, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক পিটার গ্রেস্টা এবং মিশরীয় নাগরিক বাহের মোহাম্মদকে শুনানির সময় আদালতে হাজির করা হয়নি।

কিন্তু মিশরের আপিল আদালত যখন রায় দিল যে এদের নতুন করে বিচার করতে হবে, তখন আদালত কক্ষে উপস্থিত আত্মীয়স্বজনরা হতবাক হয়ে পড়েন।

কারণ রায়ের কিছুক্ষণ আগেই বিবাদী পক্ষের কৌঁসুলিরা মনে করছিলেন এই তিন সাংবাদিক জামিন পাবেন এবং সম্ভবত তাদের আজই মুক্তি দেয়া হবে।

তারা ধরে নিয়েছিলেন, কোন ভাবে মো. ফাহ্মিকে আজ ছেড়ে দেয়া হবে এবং একসাথে সবাই মিলে তারা বাড়ি ফিরে যাবেন।

আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিচারের বিরুদ্ধে মিশরে বিক্ষোভ হয়েছে

আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিচারের বিরুদ্ধে মিশরে বিক্ষোভ হয়েছে

আল-জাজিরার সাংবাদিকদের বিচারের বিরুদ্ধে মিশরে বিক্ষোভ হয়েছে বিচার চলাকালীন ছবি। তবে এই আদেশের সময় তাদের আদালতে আনা হয়নি

কিন্তু দু:খজনকভাবে সেটা ঘটেনি। এখন নতুন করে বিচার শুরু করলে তা হবে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

২০১৩ সালে মিশরের সামরিক বাহিনীর হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির ক্ষমতাচ্যুতর সময়ে এই তিন সাংবাদিককে আটক করা হয়।

সে সময় তারা আল-জাজিরা টেলিভিশনে কাজ করতেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তারা মি. মোরসির অনুগত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে মিশরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুরু থেকেই অবশ্য আসামীদের তিনজনই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তারা বলছেন, পেশাগত কারণেই তারা মুসলিম ব্রাদারহুড সংক্রান্ত খবর পরিবেশন করেছেন।

কিন্তু তখনকার আদালত তা মানেনি এবং তাদের তিনজনকেই সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।

কায়রো থেকে বিবিসি সংবাদদাতা খবর দিচ্ছেন যে মিশরের ভাবমূর্তির জন্য সাংবাদিকদের এই বিচার একটা বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলছেন, আল-জাজিরার মালিক কাতারের শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশরের সম্পর্কে আগে যে শীতলতা ছিল, তা ইদানীং কাটতে শুরু করেছে।

ফলে আশা বাড়ছে যে তারা মুক্তি পাবেন। কিন্তু কবে, তা এখনই বলা কঠিন।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com