মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০

মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্যাতিত পারভীন আকতার বাদী হয়ে গতকাল  মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-২২।


মামলায় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম ছাড়াও ধৃত নাছির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন এবং ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

এসময় থানায় উপস্থিত ছিলেন, পারভিন আকতার ছাড়াও তার মেয়ে সেলিনা আকতার সেলি, মেয়ের স্বামী রোবেল প্রকাশ রাসেল।

এর আগে সোমবার সকালে চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলায় প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম

মামলার বাদী পারভীন আকতার দাবী করেন, তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানা আদিবপুর সেলিমের বাড়ি এলাকা মৃত আবুল কালামের স্ত্রী। তার দুই ছেলেও ৫ মেয়ে। প্রায় দুই বছর পূর্বে তার স্বামী মারা যান। ২১ আগস্ট তার ছেলে এমরান এবং ছেলের দুই বন্ধু ছুট্টো ও দুই মেয়ে রুজিনা আক্তার, সলিনা আকতারসহ ভাড়া বাসা থেকে প্রথমে মাইক্রোবাসযোগে শান্তিরহাট হতে সাতকানিয়া কেরানিহাট আসেন। কেরানিহাট থেকে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে মেইন রোড দিয়ে তার ছোট মেয়ে বেবী আক্তার এর শ্বশুরবাড়ি চকরিয়া থানার ডুলাহাজার পূর্ব হায়দারনাশী যাওয়ার পথে চকরিয়া থানাধীন হারবাং স্টেশনের অনুমান ১ কিলোমিটার উত্তর দিকে বৃন্দাবন লালব্রিজ রাস্তায় পৌঁছলে মোটরসাইকেল যোগে ৬ জন লোক তাদের আক্রমণ করে সিএনজি-অটোরিকশা ধাওয়া করতে থাকে। তাদের সিনএনজি চালক ভয়ে তাদেরকে নিয়ে হারবাং স্টেশন পশ্চিম দিকে রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করে। মোটরসাইকেলে থাকা লোকজনসহ আরও লোকজন তাদের পিছন পিছন ধাওয়া করে দক্ষিণ পহরচাঁদা নির্মাণাধীন রেললাইনের উপর তাদেরকে আটক করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। ইতোমধ্যে তাদের পিছু ধাওয়া করে মোটরসাইকেল লোকজনসহ অজ্ঞাতনামা আসামি ঘটনাস্থলে আসে তাদের আটক করে। ঘটনাস্থলে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তাদেরকে ঘটনাস্থলে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে বেদম মারধর করা হয়। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল সেটসহ ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করা হয়।

বাদী পারভীন আকতার এজাহারে আরও দাবী করেন, লোকজন তাদেরকে মারধর করে কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যান। তাদেরকে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে নিয়ে আসার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনারুল হক প্রথমে পরিষদের কাঠের চেয়ার দিয়ে তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
চেয়ারম্যান মিনার তার মেয়ে সেলিনা আক্তার শেলীর তলপেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ঘটনাটি হারবাং পুলিশকে জানালে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে থেকে তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসা করান।

তিনি আরও দাবী করেন, ঘটনায় জড়িতরা তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে গরু চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কোমরে রশি বেধে প্রকাশ্যে রাস্তায় হাঁটিয়ে সামাজিকভাবে সম্মানহানি করে। তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হয়ে তাদের আইনজীবী ও অন্যান্যদের ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জেনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলো- হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম (৪০), উত্তর হারবাং বৃন্দারবন খিল এলাকার জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮), একই এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯) ও এমরান হোসনের ছেলে জসিম উদ্দিন। চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম ছাড়া বাকী ৩ আসামি কারাগারে রয়েছে।

মামলায় যাবতীয় আইনী সহায়তা করেন, মানবাধিকার কমিশন এর কক্সবাজার জেলা চেয়ারম্যান মো.শাহ পরান।

চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মামলার তিন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। প্রধান আসামী চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলামসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কোমরে রশি বেঁধে ও গরু চুরির অপবাদ দিয়ে আসামি করে হয়রানী করা মা ও মেয়ের আইনজীবী মো. ইলিয়াস আরিফ বলেন, সোমবার সকালে মামলার পাঁচ আসামিকে (মা ও মেয়েসহ) কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। এরপর তাদের জামিনের আবেদন করলে আদালত তিন নারীর জামিন মঞ্জুর করেন।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ আগষ্ট ২৬, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com