মালাউন ও আমরা

শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৬

মালাউন ও আমরা

 

muktoইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলম,ওয়াশিংটন ডিসিঃ “মালাউন” শব্দের ব্যবহার নিয়ে অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় টর্নেডো চলছে।  “মালাউন” শব্দটি বর্তমানে Talk of the country in Bangladesh। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ শব্দটি বহুলভাবে আলোড়ন তৈরি করে । পাক সেনা ও রাজাকাররা হিন্দুদেরকে তখন “মালাউনকা বাচ্চা” বলে গালি দিত । তখন এর অর্থ জানতাম না তবে বুঝতাম হিন্দুদের গালি দেওয়ার জন্য খারাপ অর্থে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে । দেশ স্বাধীন হবার পরও এর ব্যবহার দেখেছি হিন্দুদের গালি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার জন্য । দীর্ঘদিন পর এ শব্দটি ব্যাপক আলোচনায় আসায় এর অর্থ অনুসন্ধান করে জানতে পারলাম এটি একটি আরবী শব্দ যার অর্থ অভিশপ্ত বা প্রভূর ক্ষমা বা দয়া হতে বঞ্চিত ।


অতি সম্প্রতি পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে ফেসবুকে ছবি পোষ্টকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েক দফা হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে । যে হিন্দু লোকটি ছবিটি পোষ্ট করেছে তার ক্ষেত্রে শব্দটি যথার্থ অর্থাৎ সে অভিশপ্ত এবং ক্ষমা থেকে বঞ্চিত । তবে ব্যক্তির দোষ পুরো সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেয়া অনূচিত । পত্রপত্রিকায় দেখলাম ওই এলাকার এমপি মৎস ও পশু সম্পাদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক ঘটনার অতিরঞ্জনের জন্য হিন্দুদেরকে (মালাউনের বাচ্চা ) বলে দোষারোপ করেছেন যার কারণে ঘটনার মোড় ভিন্নদিক নিয়েছে । সকল হিন্দুরা এখন এক হয়ে মন্ত্রীর বিচার চাইছে কিন্তু কোথাও দেখলাম না তারা ঘটনার সূত্রপাতকারীর বিচার চাইছে । এটি Double standard । এদেশ অসাম্প্রদায়ীক দেশ। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সবাই মিলে একসঙ্গে বসবাস করা এদেশের ঐতিহ্য। সব ধর্মের মানুষ এদেশে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে। আমরা সবাই মানুষ, সবাই এদেশের সন্তান। কিন্তু সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী এভাবে কথা বলে যেমন সংখ্যালঘুদের অপমাণ করেছেন। তেমনি যে হিন্দু লোকটি কাবা শরীফকে অবমাননা করে ছবি পোষ্ট করেছে সেও জঘন্য অপরাধ করেছে । তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে । আমরা চাই সে যদি সতিই এটি করে থাকে তবে তাকে দ্রূত বিচার আইনে বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হউক । যাতে আর কোন লোক অন্যের ধর্মীয় মতামত বা বিশ্বাস নিয়ে খেলা করতে না পারে । আমাদের দেশে হিন্দুদের কেউ কিছু বললে আমরা একযোগে নিন্দা ঝড় বয়ে দেই কিন্তু প্রতিদিন দেখি ভারতে মুসলমানদের নিগ্রহ করা হচ্ছে তার জন্য কারো কোন প্রতিবাদ দেখিনা । কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, “Cow is safer in India than a Muslim” to suggest “growing intolerance” in the country. মুসলমানদের নিয়ে কত বড় অবমাননাকর কথা তিনি বললেন অথচ এনিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই ।

বিদ্রঃ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নহে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / নভেম্বর ০৫, ২০১৬

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:১২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com