মানিকগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের দাফন সম্পন্ন

রবিবার, ০৩ জুলাই ২০১৬

মানিকগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের দাফন সম্পন্ন

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জঃ বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের গুলি ও গ্রেনেড হামলায় নিহত পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম।

শনিবার রাতে নিজ এলাকায় তৃতীয় জানাজা শেষে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।


এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে গাড়িতে করে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি আনা হয়। গাড়ি এসে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে মা, স্ত্রী, ছেলে, দাদি, ভাইসহ স্বজনের বুকফাটা কান্নায় সেখানে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

রবিউলের ছোট ভাই শামসুদ্দিন সামস জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিনের লাশ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল শেষে কাফনের কাপড় পরানো হয় তাঁদের।

বাদ আসর বিকেল সাড়ে ৫টায় একসঙ্গে প্রথম জানাজা রাজারবাগ পুলিশ লাইন জামে মসজিদে ও দ্বিতীয় জানাজা শহীদ এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তন ময়দানে সম্পন্ন হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং নিহত দুই কর্মকর্তার স্বজনরা অংশ নেন।

এরপর রবিউলের লাশ গাড়িতে করে রাত সোয়া ৮টার দিকে গ্রামের বাড়ি কাটিগ্রামে আনা হয়। লাশের সঙ্গে আসেন তাঁর ব্যাচের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বশির উদ্দিন, আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, নাজমুল শাকিব খান, নিশাত রহমান মিথুন, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও কাজী মাকসুদা লিমা।

রাত পৌনে ১১টার দিকে কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাজা দেওয়া হয়। এরপর ১১টার দিকে বাবার কবরের পাশে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা রবিউলের তৃতীয় জানাজায় মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শরিক হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস।

রবিউলের মামাতো ভাই রুবেল হোসেন ও স্বজনরা সংক্ষিপ্ত নিহত এই পুলিশ কর্মকর্তার জীবনী বর্ণনায় জানান, আবদুল মালেক ও করিমন নেছার ছেলে রবিউল। নয় বছর আগে তাঁর বাবা মারা গেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। রবিউলের ডাকনাম কামরুল। এই নামেই তাঁকে ডাকতেন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্ঠজন।

কাটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৯৭ সালে কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রবিউল। এর পর ১৯৯৯ সালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।

বিসিএসের ৩০তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালের জুন মাসে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন রবিউল। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।

২০০৮ সালে ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া এলাকার উম্মে সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোলজুড়ে আসে সাজেদুল করিম সামি (৬)। আর সাত মাসের আরেক অনাগত সন্তান স্ত্রী গর্ভে রেখেই আত্মত্যাগ করলেন পুলিশের এই কমিশনার।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ জুলাই ০৩, ২০১৬

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৩ জুলাই ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com