মাদী হাতিকে না পেয়ে পুরুষ হাতির তুলকালাম কান্ডঃ ঘরবাড়ি ভাংচুর হত্যা ৩

রবিবার, ২৪ মে ২০১৫

মাদী হাতিকে না পেয়ে পুরুষ হাতির তুলকালাম কান্ডঃ ঘরবাড়ি ভাংচুর হত্যা ৩

 

বাBagerhatগেরহাটঃ মাদী হাতিকে কাছে না পেয়ে পুরুষ হাতিটি উন্মত্ত হয়ে বসতবাড়ি ভাংচুরসহ ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায় । তার আক্রমণে তিন জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ঘটে গত ২২ মে শনিবার বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গারফা গ্রামে। নিহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)। তিনি সেখানে মেয়ে-জামাই বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন ।  অপর নিহতরা হলেন, কাহালপুর গ্রামের যতিন্দ্রনাথ বিশ্বাসের স্ত্রী কুসুম বিশ্বাস (৬১) ও বাসাবাড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান ফকির (৪৫)। এ সময় হাতি সেখানে অন্তত সাতটি বসত ঘর ভাংচুর করে ।


মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ন ম খায়রুল আনাম নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মনোয়ারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং অন্য দু’জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। মনোয়ারার লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। অপর দু’জনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হাতির মাহুত ও গ্রামবাসী পুলিশের সহযোগিতায় হাতিটিকে কিছুটা শান্ত করতে সক্ষম হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতিটি মোল্লাহাট উপজেলার বাসাবাড়ি গ্রামে জনৈক আবুল হোসেনের বাঁশ বাগানে অবস্থান করছে। এদিকে এই গ্রামেরই একজনসহ তিন জনকে হত্যাকারী হাতিটি এখানে অবস্থান নেয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

ঘটনার প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোরে সবার অগোচরে হাতিটি উন্মত্ত হয়ে শেকল ছিড়ে মধুমতি নদী পার হয়ে মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গারফা গ্রামে ঢুকে পড়ে। উন্মত্ত হাতিটি এখানে অন্তত সাতটি ঘর ভাংচুর করে। এখানে হাতির আক্রমণে মনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। উন্মত্ত হাতিটি পরে লেজ ও শুঁড় তুলে ডাকতে ডাকতে দৌড়াতে থাকে এবং কাহালপুর গ্রামে পথচারী কুসুম বিশ্বাস ও বাসাবাড়ি গ্রামে মিজান ফকিরকে হত্যা করে।

mad-elephant-at-bagerhat-1বাসাবাটি গ্রামে মিজানুর রহমান ফকিরকে হত্যার ঘটনায় প্রতক্ষদর্শী ঐ গ্রামের মনির হোসেন মোল্লা বলেন, সকাল সাতটার দিকে হাতিটি যখন ডাকতে ডাকতে দৌড়ে আসছিলো তখন মিজান সেকেল মোল্লার বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি নিচ্ছিলেন। আকস্মিকভাবে হাতিটি পেছন থেকে মিজানকে শুঁড় দিয়ে তুলে আছাড় দেয় এবং পেটে পাড়া দিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে দেয়। ঘটনাস্থলেই মিজান মারা যান। হাতিটি এ সময় টিউবওয়েলটিও পেচিয়ে তুলে আনার চেষ্টা করে এবং ভেঙে ফেলে। পরে হাতিটি আবুল হোসেনের বাগানে আশ্রয় নেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটি সেখানেই অবস্থান করছিলো ।

হাতির মাহুত মো: ফারুক কর্তৃক জানা যায়, হাতিটির মালিক  সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকার জনৈক মতিয়ার রহমান। তার আরও একটি পোষা মাদী হাতি আছে। তিনি হাতি দুটি দেশের বিভিন্ন স্থানে সার্কাস দলের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকেন । মাদী হাতিটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় একটি সার্কাস দলের সাথে থাকা অবস্থায় গত সপ্তাহে প্রজননের জন্য পুরুষ হাতিটিকে সেখানে আনা হয় । গত শুক্রবার মাদী হাতিটি ফকিরহাট থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুরুষ হাতিটি গোপালগঞ্জ জেলার গুনাপাড়া এলাকায় রাখা হয়। গত রাতেও সেটি গুনাপাড়ায় রাস্তার পাশে শেকল বেঁধে রাখা ছিল  । ধারণা করা হচ্ছে মাদী হাতিটির বিরহে সে উন্মত্ত হয়ে পড়ে এবং এলাকায় তান্ডব ঘটায় ।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ন ম খায়রুল আনাম বলেন, হাতির মালিক হাতিটি সরিয়ে নিতে না পারলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৪ মে ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৪ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com