মাকে জড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদলেন মেয়র আরিফ

বুধবার, ৩০ মার্চ ২০১৬

মাকে জড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদলেন মেয়র আরিফ

সিলেট : ২০১৩ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুই বারের সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। এক বছর দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আরিফের কারাজীবন। গতকাল সোমবার তিনি মাত্র ১৫ দিনের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি সিলেট এসে পৌঁছেন। সিলেটে এসেই অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করেন আরিফ। নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ৭০১নং রুমে মাকে দেখতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন সিসিক অভিভাবক।


পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান আরিফ। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরমর্শ নেন আরিফ। ডাক্তার তাকে দু’দিনের জন্য ছুটি দেয়। আর এ সুযোগেই তিনি মঙ্গলবার বেলা সোয় ১১টায় সিলেট আসেন।

এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন সোহেল, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রাজিক মিয়া, দিনার খান হাসু, রেজওয়ান আহমদ প্রমুখ তাকে স্বাগত জানান। পরে তারা আরিফকে নিয়ে মাউন্ড এডোরার সপ্তম তলায় যান। সেখানে ৭০১নং রুমে অসুস্থ মাকে দেখে আরিফ কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন নগরপিতা আরিফ। অসুস্থ মাও কেঁদে কেঁদে ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্ট করেন। এরপর কিছুক্ষণ মায়ের শয্যাপাশে সময় পার করনে তিনি।

পরে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ওই হাসপাতালেই ভর্তি হন। বর্তমানে হাসপাতালের ৪০৫নং রুমে আরিফ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে সিলেট পৌঁছার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মেয়র আরিফ নগরবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার মা ও নিজের সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এছাড়াও নগরবসীর দোয়ার মাধ্যমে তিনি সকল ধরনের অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরদিন আরিফসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। তারপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

নিজের অসুস্থতা এবং মায়ের অসুস্থতার প্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছিলেন আরিফ। তবে বিস্ফোরক মামলা থাকার কারণে তিনি মুক্তি পাননি। পরে গত রোববার বেলা ১১টায় আরিফের নিজের অসুস্থতা এবং মায়ের অসুস্থতার প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বিস্ফোরক মামলায় জামিন লাভ করেন। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ তার ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিল লাভের পরদিন সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

এদিকে প্রিয় সন্তান আরিফের জামিন হয়েছে শুনে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছটফট করছিলেন আমেনা খাতুন। কবে আরিফ আসবেন আর তাকে বুকে টেনে নেবেন, এমন ভাবনায় সময় কাটছিল আমেনা খাতুনের। অবশেষে মঙ্গলবার বেলা সোয় ১১টায় সিলেট পৌঁছার পরপরই নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে সেখানে যান আরিফ। মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করে বুকে জড়িয়ে ধরেন আরিফ। মা-সন্তানের সাক্ষাতে হাসপাতালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাদের আবেগাপ্লুত কান্নায় উপস্থিত সবার চোখই ভিজিয়ে দেয়।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ মার্চ ৩০, ২০১৬

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩০ মার্চ ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com