প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মংলায় অবৈধ খালের বাঁধ অপসারণ শুরু

বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মংলায় অবৈধ খালের বাঁধ অপসারণ শুরু

 

মংলা, বাগেরহাটঃ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মংলা বন্দরের প্রথম আন্তর্জাতিক নৌরুট মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের কুমারখালী নদীর অর্ধশতাধিক মরে যাওয়া শাখা খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


গতকাল  সকালে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমারখালী নদীর শাখা ওড়াবুনিয়া খালের বাঁধকেটে এই কাজের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এই রেকর্ডীয় খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করে আসছে।

সম্প্রতি সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক এই নৌচ্যানেলটি চালুর জন্য মংলা-ঘষিয়াখালীর ২২ কিলোমিটার অংশের সকল অবৈধ চিংড়ি ঘের অপসারণ করে চ্যানেলটি দ্রুত খনন কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমারখালী অংশের অবস্থিত সকল অবৈধ চিংড়ি ঘের উচ্ছেদ ও বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ভারত নৌ-বানিজ্য প্রটোকলভুক্ত আন্তর্জাতিক নৈ-পথটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সরকারী রেকর্ডীয় খাল অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা চিংড়ি ঘের অপসারণ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা সরকারের উদ্ধার করা খালগুলোকে নিয়মিত তদারকি করা দাবী জানিয়েছেন। তা নাহলে সরকারের নেয়া উদ্যোগ কোন কাজে আসবেনা বলে মন্তব্য করেছেন।

রামপাল উপজেলা সদরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান এ প্রতিনিধিকে জানান, ২০-২৫ বছর ধরে এই নদীর শাখা খালগুলোতে অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চিংড়ি চাষ করে আসছে। ফলে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে এসব খাল ও নদীতে পানি সরবরাহ। আর একারনে চ্যানেলটিতে পানির সাভাবিক প্রবাহ ব্যহত হয়ে পলি জমে ধিরে ধিরে কুমারখালী নদীসহ পুরো নৌ পথটি বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলার পেড়িখালি এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন শেখ (৫৬)  জানান, এই নদী দিয়ে ৪/৫ বছর আগেও বড় বড় জাহাজ, কার্গ, লঞ্চ-ইষ্টিমার চলত। কিন্তু পলী পড়ে নদী মরে যাওয়ায় এখন মানুষ পায় হেটে পার হচ্ছে এই নদী।

মংলা বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির ২২ কিলোমিটার পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে গত তিন বছর বিকল্প হিসাবে সুন্দরনের ভিতর দিয়ে নৌযান চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চ্যানেলটি খনন কাজ শেষ করে চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নৌ-চ্যানেলটি পূনজ্জীবিত করতে চলতি বছরের ১ জুলাই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) প্রায় তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শুরু করে। গত প্রায় ছয় মাসে তারা তাদের নিজস্ব ৫টি ড্রেজার দিয়ে মাত্র চার কিলোমিটার অংশ খনন করেছে।

Khal 03স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই এলাকায় চিংড়ি চাষ শুরুর সময় থেকে আমি এর বিরোধীতা করে আসছি। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে পাইনি। তখন ব্যবস্থা নেওয়া গেলে আজ এই অবস্থা তৈরি হতোনা।’ এখন প্রশাসন পাশে আছে। স্থানীয়রাও চায় নৌ পথটি দ্রুতই চালু হোক। তাই আশা করছি দ্রুতই কাজ শেষ হবে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুস সামাদ বলেন, রেকর্ডীর সরকারী যেসব খাল অবৈধ ভাবে দখল করে চিংড়ি চাষ চলছিলো তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আগামী এক মাস ধরে এই কাজ চলবে।

খালের বাঁধ অপসারণ কাজের উদ্বোধনে অনান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শুকুর আলী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নিজামুল হক মোল্যা, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাফা মোহাম্মদ  আরিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com