ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম পেট্রোলবোমা

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৫

ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম পেট্রোলবোমা

 

শনিবার রিপোর্টঃ টানা অবরোধে সব মিলে রাজধানীতে পেট্রোলবোমা আতঙ্ক বাড়ছে। অবরোধে এ পর্যন্ত রাজধানীতে শতাধিক বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মগবাজারে একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। রোববার ইডেন কলেজের দুই ছাত্রী পেট্রোলবোমার শিকার হয়েছেন। তারা এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শুয়ে কাতরাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কাছে দারুণ অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হলেও সাধারণ মানুষের জন্য ককটেল ও পেট্রোল বোমা পরিণত হয়েছে ভয়ঙ্কর ত্রাসে। চোখের পলকে পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে যানবাহন, ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে মানুষ, নিমিষেই ঝড়ে যাচ্ছে প্রাণ। তথ্যমন্ত্রীর হিসাবে, গত ১৫ দিনের হরতালে ককটেল ও পেট্রোল বোমা হামলায় অন্তত ২৭ জন মানুষ মারা গেছেন। দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন শতাধিক। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পেট্রোলবোমা। এছাড়া এই বোমা বানানোর উপকরণও সহজলভ্য। কম খরচে বানানো যায় বলে অবরোধকারী দুর্বৃত্তরা এখন এই দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই ধরনের কাজে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তো যুক্ত রয়েছেন। এর বাইরে অনেকেই টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে থাকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে এ বিষয়টি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে যারাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।


এদিকে পেট্রোলবোমার সহজলভ্যতা এর ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পেট্রোল বে‌‌ামা হামলা চালাতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়া দুষ্কৃতিকারীরা জানিয়েছে কত সহজে ও সুলভে এগুলো পেয়েছে তারা। কী কারণে এগুলো তাদের পছন্দের শীর্ষে। এর আগে আটক পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে আটক বোমা মনির, বোমা মানিক, বোমা সোহেল, সজিব, মুরাদ বোমা তৈরির নিয়ম, বিক্রি ও বোমার ব্যবহার সম্পর্কে পুলিশ ও র‌্যাবকে বিস্তারিত তথ্য দেন।

হামলাকারী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পেট্রোল বোমা বানাতে কোমল পানীয়ের বোতলই বোমাবাজদের বেশি পছন্দ। ২৫০ মিলি লিটারের বোতলে এক থেকে দেড়শ’ গ্রাম পেট্রোল ও কিছু কাচের টুকরা কিংবা মারবেলের ভাঙ্গা টুকরা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হারিকেনের ফিতা ঢুকিয়ে টুকরা কাপড় দিয়ে ওই বোতলের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সামান্য খরচেই বিধ্বংসী ও ক্ষেত্র বিশেষে প্রাণঘাতী এই বোমা তৈরি হয়ে যায়। বোতলের ফিতায় আগুন না দেওয়া পর্যন্ত বোমাবাজদের কাছে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে বোতলের ফিতায় আগুন দেওয়ার দশ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই এটি ছুঁড়ে মারতে হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে পেট্রোল বোমার চাহিদা বাড়ায় এগুলোর দামও বেড়েছে। বোমা প্রতি দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বোমার ক্ষমতা অনুযায়ী এর দাম নির্ধারিত হয়। এর সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ২০০ টাকা। সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকায়ও বিক্রি হয় এ বোমা। ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায় ককটেল কিনতে পাওয়া যায় বোমার বেপারীদের কাছ থেকে। তবে কমদামি ককটেলই সাধারণ বোমা হামলাকারীদের পছন্দ। কোনও কারণে পথে বিস্ফোরিত হলে হামলাকারীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে কম।

পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বোমার খুচরা ও পাইকারি বেপারি রয়েছে বলে জানান গোয়েন্দারা। তবে অবরোধ হরতালের কারণে ঢাকার বাইরে থেকেও বোমা সাপ্লাইয়ের অর্ডার আসছে বেপারীদের কাছে। ফলে অভিজ্ঞ বোমার কারিগররা অর্ডারমতো বোমা সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যবসা জমে উঠায় অনেক অনভিজ্ঞ লোক বোমা তৈরি করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে গ্রেফতারকৃত বোমাবাজরা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানান।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com