ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা

রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

hasiএনআরবি নিউজ, ওয়াশিংটন ডিসিঃ শতাধিক দেশের কুটনীতিক, এনজিও ব্যক্তিত্ব, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের মুহূর্মুহু করতালিতে মুখরিত পরিবেশে মা শেখ হাসিনা কর্তৃক সীমিত সম্পদ নিয়েই বাংলাদেশের মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নের উদ্ভাবনী শক্তি ও বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের জন্যে ‘জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এ এওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেটি গ্রহণ করলেন জয়। এওয়ার্ড গ্রহণের আগে মায়ের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জয়।


যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো (জিএসএসডি এক্সপো)-২০১৪ এর ৫ দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী উৎসবে ২১ নভেম্বর শুক্রবার বেলঅ ১২টায় এই এওয়ার্ড হস্তান্তর করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক অনুভূতি প্রকাশকালে সজীব ওয়াজেদ জয় এনআরবি নিউজকে বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে শেখ হাসিনা প্রশাসনের নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এই এ্যাওয়ার্ড তারই স্বীকৃতি। জয় উল্লেখ করেন, বাঙালি প্রজন্মের মেধা এবং কর্মস্পৃহার কাছে অর্থনৈতিক সমস্যা আজ পরাভূত। একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা যেমন লাঠি হাতেই পরাক্রমশালী একটি বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছিলেন, ঠিক একইভাবে এখন শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিয়োজিত। জয় বলেন, এ এ্যাওয়ার্ড বাংলাদেশের মানুষকে আরো উজ্জীবিত এবং উৎসাহিত করবে সম্মুখে এগিয়ে চলার চলমান কাজে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন।

পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো ২০১৪-এ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকারী, বেসরকারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংবাদ মাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ।

ডিজিটাল ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া এবং শিক্ষার প্রসারে বৈপ্লবিক ধ্যান-ধারনার সমন্বয়ের জন্য শেখ হাসিনাকে এ এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়। এবার মানবতার কল্যাণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জনকারী আরো কয়েক ব্যক্তি ও রাষ্ট্রকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে কোরিয়ার বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় , ম্লায়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উচ্চ প্রযুক্তি সম্পর্কিত মালযেশিয়ার শিল্প-সরকার গ্র“প, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ড. অহমেদ এম আল মেরাইখ, অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটের মহাসচিব হোযে মাউগুয়েল ইনসুলা, এডিইসি উদ্ভাবনের জন্যে এডিইসির চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জেমস ডনভোন, সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশনের চেয়ারম্যান ডাটো চিয়ন ই লী, ভারতের একদল তরূনী সমাজকর্মীর উদ্ভাবিত সর্বসাধারণের জন্যে সৌরশক্তি ‘লিটার অব লাইট’র নির্বাহী পরিচালক ইলেস এঞ্জেলা ডায়াজ ।

উল্লেখ্য, মেধা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে শতাধিক দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক, নীতি-নির্ধারক, শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংগঠক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, জাতিসংঘের সকল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, সহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৭ নভেম্বর সোমবার ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো’ শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর শুক্রবার তা শেষ হলো।

শেখ হাসিনার এওয়ার্ড হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো কমিটির কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের সময় বাংলাদেশে তৃণমূলে তথ্য প্রযুক্তি প্রসার, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন, সর্ব সাধারনের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে সমাজে অবহেলিত মানুষের জীবনধারার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে অগ্রগতি এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এই ‘ভিশনারী এ্যাওয়ার্র্ড’ পাবার যোগ্যতা অর্জন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় সকলে দাঁড়িয়ে বিপুল করতালিতে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। উপস্থিত সুধীজনের সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ও অভিভূত হন মা শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী কর্মের এমন স্বীকৃতির জন্যে। জয়ের কাছে এওয়ার্ড হস্তান্তর করেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ইপিং ঝু এওয়ার্ড গ্রহণের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আসাদুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপপ্রধান এম এ মুহিত প্রমুখ জয়কে অভিনন্দন জানান। ড. শাহজাহান মাহমুদ এ সময় উল্লেখ করেন, এ এওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে মূলত: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রস্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা বিনিয়োগেরই স্বীকৃতি এলো।

দারিদ্র বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যার সুব্যবস্থাপনা, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতা এবং নারী ক্ষমতায়ন, জ্বালানী, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরা বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেছেন এ এক্সপোতে। ‘২০১৫ পরবর্তী বিশ্বকে কীভাবে দেখতে চাই’ সে আলোকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তারাও মতামত ব্যক্ত করেছেন। ‘অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস’ (ওএএস) এবং জাতিসংঘের ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন’ অফিস যৌথভাবে বার্ষিক এ এক্সপোর আয়োজন করে। ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক এ সমাবেশ হয়ে আসছে। এবারের আয়োজনটি ছিলো সপ্তম বার্ষিক এক্সপো।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষিণের দেশগুলোর সামগ্রিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা দিগন্ত বিস্তৃত করার অভিপ্রায়ে ২০০৮ সালে জাতিসংঘে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন অফিস স্থাপন করা হয়। প্রতি বছরের সমাবেশে উন্নত বিশ্বের উন্নয়ন পরিক্রমার অভিজ্ঞতা অবহিত হয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে সেই ধারা প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com