ভারতের উপহারের ২০ লাখ টিকা আসবে আগামিকাল

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

ভারতের উপহারের ২০ লাখ টিকা আসবে আগামিকাল
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় তৈরি অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা কোভিশিল্ড। ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার সকালে জানিয়েছিলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশকে একটি ভালো সংখ্যক করোনাভাইরাসের টিকা উপহার হিসেবে দিতে চায়। তবে তিনি উপহারের টিকা আসার সময় জানাতে পারেননি। কিন্তু রাতেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানালেন, উপহারের ২০ লাখ টিকা ২০ জানুয়ারি বুধবার আসবে।

ভারত সরকার সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় তৈরি অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ কোভিশিল্ড নামের টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দিতে চায়, তা গতকাল রোববার এক চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে দেওয়া চিঠির ভাষা অনুযায়ী, ২০ তারিখেই টিকা আসার কথা।’


আরো পড়ুনঃ

ভারতে করোনা টিকা নেওয়ার পর সাড়ে ৪ শ’ মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘ভারতের দেওয়া ওই চিঠিতে উপহার হিসেবে অক্সফোর্ডের তৈরি ২০ লাখ টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০ তারিখ পার হওয়ার আগে আমরা ধরেই নিচ্ছি, সময়মতোই টিকা চলে আসবে।’

এদিকে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ‘কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী, ২৫ বা ২৬ জানুয়ারি করোনার টিকার প্রথম লট আমরা পেয়ে যাব বলে আশা করি। এবং আমাদের ভারত সরকারও কিছু টিকা উপহার হিসেবে দেবে। আশা করছি, সেটাও যেকোনো সময় চলে আসবে। এই উপহারটি আমাদের প্রথম লটেরও আগে এসে যেতে পারে। সংখ্যাটি এখনই বলতে পারব না, তবে একটি ভালো সংখ্যার টিকা আসবে।’

আরো পড়ুনঃ
ভারতে করোনা টিকা নিয়ে হাসপাতাল কর্মীর মৃত্যু
———————————-

সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে প্রতি ডোজ টিকা চার ডলারে কিনবে বাংলাদেশ সরকার। আর তা নিয়ে আসা ও সারা দেশে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেক্সিমকো পাবে এক ডলার করে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দামের ব্যাপারে ভারত সরকার যে দামে কিনবে, তা যদি আমাদের দাম থেকে কম হয়, তাহলে আমাদের কম দামে দেবে। আর আমাদের যে দামে চুক্তি হয়েছে যদি দাম তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আমরা বেশি দেব না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেওয়ার জন্য ৪২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকায় প্রস্তুত রয়েছে ৩০০টিরও অধিক কেন্দ্র।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা দেওয়ার পর কী হবে আমরা এখনো জানি না। আমরা অন্যান্য দেশে লক্ষ্য করেছি, কী হচ্ছে। কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। কাজেই তাকে যদি সেবা দিতে হয়, তাহলে হাসপাতালের কাছে বা পাশে থাকলে বেটার হবে। সরকার যখন টিকা বা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে বিনা মূল্যে, সুতরাং টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে বা কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে তার চিকিৎসা দেবে কি দেবে না, এই সন্দেহ পোষণ করাটা আমি মনে করি না সঠিক।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা চাই না, একটি প্রাণহানিও হোক। এবং এই যে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে, এর পেছনে সবাই-ই কাজ করেছে, আপনারাও কাজ করেছেন, প্রচার-প্রচারণা করেছেন। আপনারা বলেছেন, পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন। যার ফলে লোকে সজাগ হয়েছে, মাস্ক পরতে শিখেছে, সঠিক চিকিৎসা সঠিক সময়ে নিতে শিখেছে। আমাদের দেশের প্রায় ৫০ পারসেন্ট লোক মারা গেছে..ষাটোর্ধ্ব লোক। আরো প্রায় ৩০ পারসেন্ট লোক মারা গেছে, ৫০ বা ৬০-এর মধ্যে যাঁরা আছেন। কাজেই তাঁদের সজাগ করে দেওয়া, তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করা—এটা বলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ জানুয়ারি ১৯, ২০২১

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com