ভারতের আদালতে নির্দোষ সালাহউদ্দিনঃ সহসা দেশে ফিরছেন

শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

ভারতের আদালতে নির্দোষ সালাহউদ্দিনঃ সহসা দেশে ফিরছেন

অনলাইন ডেস্কঃ ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় দেশটির আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের একটি আদালত শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান  এই তথ্য নিশ্চিত করেন।


শায়রুল জানান, সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। বিএনপির এই নেতা খালাস পাওয়ায় আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার কাগজপত্র পাওয়া সংক্রান্ত কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো সেরে তিনি শিগগির দেশে ফিরবেন।

রায় ঘোষণার পর সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী এ পি মহন্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত সালাহ উদ্দিন আহমদকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে দ্রুত তাকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছে।’

রায়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘প্রমাণিত হলো যে, আমার মক্কেল নির্দোষ ছিলেন।’

এই রায় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আজই রায় ঘোষণা হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানতে পারিনি।’

তাকে কি পুলিশের মাধ্যমে পুশব্যাক করা হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, জানলে জানানো হবে।

২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে শিলংয়ের পুলিশ। প্রায় সাড়ে তিন বছর বিচার চলার পর কয়েক দফা পেছানোর পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

downloadসালাউদ্দিনের অন্তর্ধান রহস্য অবশ্য এখনও জানা যায়নি। ২০১৫ সালে বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন চলাকালে নিখোঁজ হন তিনি। পরে তাকে ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া যায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের শিলংয়ে।

সেখানে উদভ্রান্তের মতো ঘুরছিলেন বিএনপি নেতা। পরে থানায় নেয়া হলে নিজের পরিচয় দেন সালাহউদ্দিন। তার দাবি, তিনি কীভাবে শিলং গেছেন, সেটি জানেন না।

২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে মেঘালয়ের শিলং পুলিশ। ১৯৪৬ সালের ১৪ ধারা অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে করা মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় শিলং পুলিশ।

এতে বলা হয়, সালাহউদ্দিন আহমেদের শিলংয়ে আকস্মিক উপস্থিতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়াতে তিনি ভারতে এসেছেন।

গত ২৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ১৩ আগস্ট রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বের দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় আদালত সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এ ছাড়া তাকে শিলংয়ে পাওয়ার পর যে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়, সেই হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। এরপর প্রশাসনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হন। ২০০১ সালে তিনি কক্সবাজার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / অক্টোবর ২৫,২০১৮

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com