ব্রুকলিনে বন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক খুন

শনিবার, ০৯ জুন ২০১৮

ব্রুকলিনে বন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক খুন

Probashহাসানুজ্জামান সাকী, নিউইয়র্কঃ  নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে দুর্বৃত্তের  গুলিতে আরিফ মোহাম্মদ ইয়াকুব রনি (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক খুন হয়েছেন ( ইন্নালিল্লাহে… রাজেউন )।  যখম হয়েছেন বন্ধু  এহসানুল কবীর (২৩)।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রুকলিনের ওশ্যান এভিনিউয়ে ফ্ল্যাটবুশ ডিটমাস পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ব্রুকলিনের ফ্ল্যাটবুশ ডিটমাস পার্ক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নীচে লবিতে গল্প করছিলেন দুই বন্ধু রনি ও কবীর।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে বাংলাদেশি যুবকদের তর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তাদেরকে মারধর করতে থাকে।

এ সময় কবীরকে ছুরিকাঘাত করলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন রনি। তখন রনিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ এসে রনিকে স্থানীয় কিংস কাউন্টি হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় কবীরকে প্রথমে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে এবং পরে মাইমনিডেস মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ড এলাকার কাছে মিনা স্ট্রিটের বাসিন্দা ট্যাক্সি চালক আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াকুবের এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে রনি বড়। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনীর দাগনভূঁইয়ায়। রনি নিজেও ট্যাক্সি চালাতেন।

এহসানুল কবীর

পুলিশ হেফাজতে আহত এহসানুল কবীর

ছেলের মৃত্যুর খবরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন রনির মা। বড় ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট দুই বোন। পুরো পরিবারে শোকের মাতম চলছে। ২৪ বছরের টগবগে ছেলে হারানো ব্যথা ভুলতে পারছেন না আত্মীয় স্বজনরা।

রনির বাবা আবু নাসের ইয়াকুব এ প্রতিনিধিকে বলেন, রাত আড়াইটার তিনি যখন কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন অদূরেই ওশ্যান এভিনিউয়ে রাস্তা বন্ধ দেখতে পান। পুলিশের প্রতিবন্ধকতা দেখে তিনি ভিন্ন রাস্তায় বাসায় আসেন। তখনও তিনি জানতেন না যে ওই রাস্তার পাশে এপার্টমেন্টের নীচে ছেলের লাশ পড়ে আছে।

ইয়াকুব বলেন, ‘সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজের পরই দুই ব্যক্তি বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। বাড়িতে তখন আমি আর আমার দুই মেয়ে। আমার স্ত্রী তখন নামাজ পড়তে মসজিদে ছিল। প্রথমে আমি ভয়ে দরজা খুলিনি। কিন্তু পরে একাধিকবার কড়া নাড়লে এবং রনির খোঁজ করলে আমি দরজা খুলে দেই। সাদা পোশাকের দুই পুলিশ তখন ঘরে ঢুকে আমাকে রনির মৃত্যুর খবর জানায়।

২০১৬ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বরোর ওজনপার্কে ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্প্যানিশ যুবক অস্কার মোরেলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার একদিন পরই একই বরোর ওশ্যান এভিনিউয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।

এমন হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। তারা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৯ জুন , ২০১৮

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:০০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৯ জুন ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com