বোস্টন ম্যারাথন দৌড়ে হামলাকারী জোখার দোষী সাব্যস্ত

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০১৫

বোস্টন ম্যারাথন দৌড়ে হামলাকারী জোখার দোষী সাব্যস্ত

 

Chokhar

জোখার সারনায়েভ

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্কঃ বোস্টনে ম্যারাথন দৌড়ে হামলায় শিশুসহ তিনজন এবং পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অপরাধে জোখার সারনায়েভকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ম্যাসাচুসেটসের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে ৩০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।


২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল বোস্টনে ম্যারাথন দৌড়ে বোমা বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয় এবং আহত হয় ২৬০ জনেরও বেশি। একুশ বছর বয়সী জোখার সারনায়েভের কি সাজা পাওয়া উচিত ম্যাসাচুসেটস এর বিচারকরা আগামি সপ্তাহে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রসিকিউটররা বলছেন, চেচেন আমেরিকান বংশোদ্ভূত জোখার সারনায়েভ এই হামলার মাধ্যমে আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। বিচার কার্যক্রম চলার সময় তিনি বলেছেন, মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে আমেরিকা যে আচরণ করছে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতেই এই হামলা। ওই বোমা বিস্ফোরণে নিহতদের একজন ছিলেন আটবছর বয়সী মার্টিন রিচার্ড। রায় পড়ে শোনানোর পর, তার মায়ের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। সারনায়েভের আইনজীবীরা ওই হামলায় তার ভূমিকার কথা স্বীকার করলেও, তারা দাবি করছেন, পুরো বিষয়টির পরিচালনা করেছে তার বড় ভাই তামেরলান সারনায়েভ, যিনি এরইমধ্যে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। বড়ভাইয়ের কারণেই উগ্রপন্থী বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন তিনি। চেচেন বংশোদ্ভূত সারনায়েভ এর পরিবার প্রায় এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের পাড়ি জমান। 

ঘটনার পর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে তামেরলান ও তাঁর ছোট ভাই জোখার সারনায়েভকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পুলিশের অভিযানে তামেরলান নিহত হন। পরে জোখারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জোখারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন জাঁদরেল আইনজীবী জুডি ক্লার্ক। 

ওই সময় বড় ছেলে তামেরলানকে সমাহিত করতে রাশিয়ার দাগেস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন তাঁদের মা-বাবা। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ম্যাককুল প্রস্তাব দিয়েছিলেন  জোখার ও তামেরলানের মা জোবাইদা সারনায়েভ যুক্তরাষ্ট্রের ঢুকলে তাঁদেরকে যেন জিজ্ঞাবাবাদ করা হয়। তাঁর বিশ্বাস, জিহাদি কার্যক্রমের সঙ্গে জোবাইদার যোগাযোগ রয়েছে। তবে জোবাইদা এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। 

বোস্টনে হামলার ঘটনায় পুলিশ জোখারের তিন বন্ধু আজমত তাজহায়াকভ, দিয়াস কাদারবায়েভ ও রোবেল ফিলিপোসকেও গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাজে বাধা ও মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে ওই তিনজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়। আজমত ও দিয়াস কাজাখস্তানের নাগরিক।  আজমত ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি জাল স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এর আগেও অনেক হামলাকারী স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। এ জন্যই বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক কারণে গত ৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজমতকে বের করে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীকে বের করে দিলে তার ভিসাও বাতিল হয়ে যায়। তবে আজমত সম্পর্কে এ তথ্য এসইভিআইএস-তে ছিল না। ফলে সে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে সমর্থ হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ। এ ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জ্যানেট নাপোলিটানোর কাছে স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর চার্লস ই গ্রাসলে। জবাবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আজমত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে। তার ভিসার মেয়াদ ছিল ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। আজমত সম্পর্কে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর এসইভিআইএস চালু করা হয়। টুইন টাওয়ারে হামলাকারীরা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে এবং বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নেয়। পরে বিমান ছিনতাই করে হামলা চালায়।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১০ এপ্রিল ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com