ছোট গল্পঃ

বেওয়ারিশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০

বেওয়ারিশ
অলঙ্করণঃ দীপঙ্কর ভৌমিক

লেনিন কলোনির হাটের ঠিক মুখেই ননীগোপাল পয়রার চায়ের দোকান। বেশ পুরনো। দোকানের গল্প বলতে গেলে উত্তেজনায় ননীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। পরতে-পরতে গল্প। সে গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়। লাঠি হাতে গামছা কাঁধে প্রতি বিকেলে এখনও দোকানে এসে বসে। নাতি-নাতবৌ দোকান চালায়, ননী গল্প করে। হাত-পা ফুলেছে জীর্ণতার ভারে। কিন্তু বেঁচে থাকার জীবনীশক্তি প্রবল। শেষবেলায় এত গল্প সে রাখে কোথায়! তাই শ্রোতা পেলেই  ঝড়ের মতো বেরিয়ে আসে কথা। নিখিল মগ্ন শ্রোতা। কলকাতা থেকে বেরিয়েছে প্রায় চার দিন। লজ ভাড়া নিয়ে আছে। কেন যে এ রকম ভাবে ঘুরছে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপভূমিতে, সে কথা কাউকে বলতে পারে না। আসলে সে দত্তক সন্তান। কিন্তু বনেদি পরিবারের প্রচ্ছায়ার মধ্যে কখনও অতীত খোঁজার কথা মনে হয়নি। সারা জীবন অর্থ-বৈভব আর ব্যস্ততা। মনের মধ্যে অশান্তিটা এসেছে রিটায়ার করার পর। বাতিল আলমারির কাগজ সরাতে গিয়ে একটি চিঠি পেয়ে যায় সে। কয়েকটা লাইন পড়েই চমকে ওঠে। পত্রপ্রেরকের ঠিকানা দেখে সন্ধান পায় তার পিতা-পিতামহের জমিদারি গ্রামের। ভরতপুর আবাদমহল। ষাট বছর আগের চিঠির ঠিকানা ধরে অতীত খোঁজা অবাস্তব মনে হয়েছিল। কিন্তু চিঠিটি পাওয়া থেকে মাঝে-মাঝেই বুকের ভিতরটা খচখচ করত। স্ত্রী শিপ্রা জানে নিখিল দত্তক। সম্বন্ধের সময় সবটা জানাতে হয়েছিল। শিপ্রার মতে, অ্যাডপ্টেড যারা, তাদের অতীত খোঁজার ফল ভাল হয় না। খুব বাস্তববাদী সে। কিন্তু নিখিলের মন মানে না।

অফিসের সেমিনারে শিপ্রা চলে গেছে শিলিগুড়ি। এক সপ্তাহ পর ফিরবে। সুযোগটা হাতছাড়া করল না নিখিল। দু’দিন ধরে খোঁজখবরের পর অনেক কষ্টে ননীগোপাল পয়রার সন্ধান মিলেছে। এত দিন পরে তাকে যে সশরীরে পাওয়া যাবে, ভাবতে পারেনি সে। ভাগ্যক্রমে বার্ধক্যজীর্ণ মানুষটি এখনও সচল। এ ক’দিন তার গল্পই শুনছে শুধু। বলার তোড়ে ননী খেয়াল করে না কিছু। ননীগোপালের  মতে, যে বছর ঠাকুরমশাই এই গাঁয়ে এসে মিটিং করলেন, সেই বছর দোকানের প্রতিষ্ঠা। ঠাকুরমশাই মানে সৌম্যেন ঠাকুর, কলকাতায় বাড়ি। ঠিকানাটা এখনও গড়গড় করে মুখস্থ বলতে পারে ননী।


নিখিল বুঝতে পারল সেই সিদ্ধিলাভ ননীগোপালের  হয়েছে। চাহিদা ছোট হলে সিদ্ধিলাভ এমন আর কী ব্যাপার! না-খেতে-পাওয়া জীবন থেকে খেতে-পাওয়া জীবনে উত্তরণ। নাতির হাতে দোকান ভাল চলে। ছেলেদের আলাদা আলাদা বিঘেখানেক করে জমি। আর কী চাই! জঙ্গলে গিয়ে বাঘের মুখে তো আর পড়তে হচ্ছে না। ননী তার তিন ছেলের কাউকে জঙ্গলে যেতে দেয়নি। কড়া হুকুম তাদের প্রতি, “জঙ্গলে যাবা চলবে না। মাটির কাছে পুড়ে থাকো। মাটি মা! ছলনা জানে না।”

ননী মাটিকে প্রণাম করে। তার পর বলে, “আসলে বাবা, এই আদেশ দে গেচে ওদের মা। ওই যে হেমনলিনী ভ্যারাইটি এস্টোর… আমার ইস্তিরি। প্রয়াত হুয়েছে। আমার থেকে তার বয়স কিছুডা বেশি ছেল কিনা। তা, বছর পাঁচেক বেশি।”

ননীর নাতি গোষ্ঠ হঠাৎ বলে

ওঠে, “ঠাকদার জেবনে কেচ্ছা অনেক। মেলা চটকালি তেতো ওঠপে। ছাড়ান দেন।”

আজকালকার ছেলেদের ভাষা কী রকম যেন। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র। নিখিল কিছু বলল না। ননী হা-হা করে হেসে ওঠে। সব কেচ্ছাই যেন তার সীমানার ও পারে।

ননীর চায়ের দোকান এখন আর সেই দোকান নেই। ‘হেমনলিনী ভ্যারাইটি স্টোর্স অ্যান্ড টি স্টল’। একচালা থেকে দোচালা, তার পর আটচালা। এখন একেবারে পাকা। ননীর সময়ে হাটবারে চায়ের সঙ্গে শিঙাড়া-চপ চলত। তৈরি করত তার বউ হেম। দশ পয়সা থেকে শুরু করে একটা চপের দাম হল এক টাকা। প্রতি হাটবারে এক-দেড়শো করে আয়।

“আগুনের পাশে বুসে হেম কষ্ট পাতো। কিন্তু কিচ্ছু করার ছেল না। চারটে ছেলে-মেয়ে, কী কুরে চালাব! নিজির বুলে তো কিচ্ছু ছেল না। জমিদারবাবু যে বেইমানি কুরে গেল। কী করব কও? না হলি…”

কথা সম্পূর্ণ  করতে পারে না ননী। দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে কান্না এসে জড়িয়ে ধরে কণ্ঠ।

ননীর নব্বই বছরের লম্বা জীবন। শুধু জীবনটাই যে লম্বা তাই নয়, বেঁচে থাকার সংগ্রামটাও কাহিনি। কাঁথিতে বিয়াল্লিশের ঝড়-বন্যায় তার সব হারিয়েছিল। বাবা-মা, ভাই-বোন কারও সন্ধান পায়নি। একটা ভাসমান নৌকোয় কী ভাবে যে উঠে পড়েছিল, মনে করতে পারে না। বছর বারো বয়স তখন। সাগরজলে মোচার খোলের মতো ফাঁকা নৌকা ভাসছিল। ঝড়ের তিন-চার দিন পর এক দল বাউলে বন থেকে ফেরার পথে মাঝিবিহীন নৌকোটি ধরে ফেলে। কিন্তু ভেতরে তাকিয়ে তারা অবাক। ফুটফুটে ফরসা নাদুসনুদুস একটি ছেলে ঘুমোচ্ছে।

ননী বলে, “আমার গায়ের রং ছেল মাখমের মতো। তাই যুধিষ্ঠির বাউলে  নাম দেছেল ননী।”

কপালে হাত ঠেকায় সে, তার পর বলে চলে, “আমি বাবা বুলে ডাকতাম। আসলে আমার নাম নলিনী পয়রা। উনিই কুরে দেলেন ননীগোপাল। ওই নাম বুয়ে চলিছি। আর তো অতীত বুলে কিচু নি।”

চোখের জল মোছে ননীগোপাল। কত জল জমে আছে চোখে! শেষবেলায় সব যেন উজাড় হতে চায়। নিখিল চুপ থাকে কিছু ক্ষণ। তার পর প্রশ্ন করে, “হেমনলিনী কে? তাঁকে আপনি কোথায় পেলেন?”

এত ক্ষণে ননী নিখিলের দিকে গভীর ভাবে তাকায়। কত ট্যুরিস্ট আসে, গল্প করে, চলে যায়। এমন প্রশ্ন কখনও কেউ করেনি যেন। ননী বললে, “আমার ইস্তিরি বললাম যে!”

“কোথায় পেলেন তাঁকে?”

নিখিল প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকে। ননী চোখ নামিয়ে নেয়।

“সে তো অনেক কতা বাবা। সব কতা বলতি তো পারিনে। বুক ফাটে যায় যে!”

নিখিল হাত ধরে ননীগোপালের, বলে, “বলুন প্লিজ়, আমার খুব দরকার যে গল্পটা।”

ননী বলে, “গপ্পই বটে। তুমি কি গপ্প নেকো?”

নিখিল বলল, “মনে করুন তাই।”

ননী আস্তে-আস্তে বলল, “এ গপ্পটা নিকো না, থাক।”

কিন্তু, তীরে এসেও জল না ছুঁয়ে কি ফিরে যাওয়া যায়! নিখিল

অধীর হয়ে ওঠে। জিজ্ঞেস করে, “আপনি যতীন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীকে চিনতেন?”

ননী চমকে ওঠে, বলে “তুমি তারে চেনো?”

“আপনি চেনেন কি না বলুন?”

ননী বললে, “হ্যাঁ, চেনতাম।…তুমি কেডা?”

নিখিল বলতে যাচ্ছিল, ‘সেই কথা জানব বলেই তো এসেছি। না হলে পঁয়ষট্টি বছরের এই বার্ধক্যে…’

কিন্তু কিছুই বললে না। কিছু ক্ষণ চুপ থাকার পর আনমনে বলতে শুরু করল ননী, “যুধিষ্ঠির বাউলে মারা গেলি তার ছেলেরা আমারে আর বাড়ি রাখতি চায়নি। আমি গরুর বাগালি কুরতাম। বছর কুড়ি বয়স তখন। এক দিন গরু বাঁধা পুড়ল জমিদারের খোঁয়াড়ে। ছাড়াতি গেলাম, আটকে দেলে দারোয়ান। আমার কাজ গেল। এর পর ওই কাছারি বাড়িতে

ছোট রায়চৌধুরীবাবুর নতুন রক্ষিতার দেখভালের দায়িত্ব পাই। ফাইফরমাশ খাটতাম। ওরা বুইদি পারেছিল  আমি বেওয়ারিশ।”

ননী চুপ হয়ে যায়। মাথা নিচু হয়ে আসে তার। নিখিল বললে, “ওই রক্ষিতার নাম ছিল বিনতা, আমি কি ঠিক বলছি?”

ননীর চোখ দু’টি যেন অনাদায়ী খাজনার দায়ে কাছারিতে হাজির প্রজার মতো ভাষাহীন। নিখিল বললে, “বাকিটা আপনিই বলুন। আমার কাছে লুকিয়ে লাভ নেই।”

ননী আকাশের দিকে তাকালে। ঈশ্বর ছাড়া এ কথা আর কারও জানার কথা নয়। তবে কি ধরা পড়ে গেল সে! বুকের ভিতর মাটি চাপা দেওয়া সেই অপরাধ এ বার স্বীকার করতে হবে? ননীর চোখ দিয়ে জল গড়ায় নীরবে। নিখিল ধৈর্য রাখতে পারে না।

“আপনি না বললেও যা সত্যি তা বেরিয়ে পড়বে।”

“বিনতা বেওয়াই আমার ইস্তিরি হেম। আমি নলিনী আর সে হেম, হৈমবতী। ছোট রায়চৌধুরী সন্তানহীন ছেলেন। আমার সঙ্গে হেমরে রেকে এট্টা বাচ্চা চেয়েছেল। আমরা দু’জনই যে বেওয়ারিশ! সেই বাচ্চা পেয়ে গেলে বাবু তারে ছাড়ে যায়। কিন্তু আমি হেমরে ছাড়তি পারিনি। বামনের বেধবা। বড় অভাগিনী! আমাতে আর তাতে যে কোন পোভেদ ছেল না। দু’জনই যে…”

হাউহাউ করে কেঁদে ওঠে ননীগোপাল। নিখিল নীরব। অতীত খুঁজতে এসে ঠিক করল কি! সব অতীত যে মধুর হয় না! গলার কাছে তিতকুটে নোনা স্বাদ। পায়ের তলার মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। স্রোতস্বিনী মাতলার বুকে ভাটির টান। দোয়ানিয়ার বাঁকে পাক খেয়ে যায় লোনাজল। বাইনের শিকড় জালের মতো আটকে রাখে মাটি, তবু পাড়ের ভাঙন আটকায় না। নিখিলের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। পকেট থেকে চিঠিটি বার করল সে। পোস্টকার্ড। দুটি লাইনে লালকালির দাগ।

… ছোটবাবু, তোমার পায়ে পড়ি। ছেলেটিরে এক বার অন্তত দেখিয়ে নিয়ে যেয়ো। দূর থেকে দেখব।…

নিখিলের মুখের পেশি কঠিন হয়ে ওঠে। বললে, “ছেলেটির বিনিময়ে আপনি কী পেয়েছিলেন?”

ননী বললে, “কিচ্ছু পাইনি, বিশ্বাস করো বাবা! কিচ্ছু না। বলিছিলেন পঞ্চাশ বিঘে জমি দেবে। কিন্তুক কথা রাখিনি। শেষতক খাওয়া জুটত না।”

নিখিলের চোখে জল। কী বলবে সে বুঝে পায় না। স্বামী-স্ত্রী থাকে প্রাসাদোপম বাড়িতে। ছেলে-মেয়ে প্রবাসী। কলকাতার বনেদি পরিবার। এখন এই পরিচয় কেমন করে বইবে সে! নিখিল উঠতে যাচ্ছিল। ননী সকরুণ চোখে তাকাল। এই দৃষ্টির কোনও অর্থ খুঁজে পেল না সে। চলে যাচ্ছিল নীরবে। শেষে কী ভেবে ননীর পায়ে হাত দিল।

ননী কান্না-ধরা গলায় বলল, “তুমি কেডা, জানিনে। যদি সে-ই হও, আমারে ক্ষমা কুরো বাবা। যে পাপ করিচি বাঁচার জন্যি করিচি।”

নিখিল কোনও উত্তর দেয়নি। ফিরে গিয়েছিল সে। কিন্তু ঘরে ফিরে শান্তিতে থাকতে পারেনি এক দিনও। ওর স্ত্রী শিপ্রা এ সব জানে না। জানাতে পারেনি নিখিল। ভাঙা ট্রাঙ্কের মধ্যে পড়ে থাকা জমিদারি দলিলপত্র নাড়াচাড়া করতে শুরু করেছিল হঠাৎ। বাহান্ন বিঘে সিলিং-ভুক্ত জমি এখনও রয়ে গেছে ভরতপুরে। উকিল ডাকল নিখিল। শিপ্রা বিরক্ত হয়েছিল প্রথমে। পরে সম্পত্তির মূল্য হিসেব করে চুপ হয়ে যায়। কয়েকদিন ধরে টানা চলে উকিল, কোর্ট-কাছারি। মাসদুয়েকের মধ্যে একটা দলিল তৈরি করে ফেলে সে। তার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে এক দিন একাই চলে এসেছিল লেনিন কলোনি। আকাশে মেঘের ঘনঘটা। সামনের সবুজ গ্রামটির গা ছুঁয়ে মেঘ। বৃষ্টি নামবে। ভরতপুরের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে নিখিলের হঠাৎ মনে হয় সে জমিদার। মাথা উঁচু করে দানপত্র বিলোতে এসেছে।

‘হেমনলিনী ভ্যারাইটি স্টোর্স…’। দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। অপলক তাকিয়ে থাকে। ননীর নাতি গোষ্ঠ দোকান থেকে বলে, “কি ছার, ভাল তো? দাদু তো পটল তুলেছে। ছেরাদ্দ-শান্তি সব হুয়ে গেল।”

নিখিলের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। বসে পড়ল সে। নিজের অজান্তে দু’ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে। দোকান ছেড়ে বেরিয়ে এল। গোষ্ঠ হাঁক পাড়ল, “শরিল খারাপ না কি, স্যর? চা দেব?”

নিখিল ফিরে দাঁড়াল, “তোমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবে এক বার?”

গোষ্ঠ প্রথমে দোকান ফেলে যেতে ইতস্তত করছিল। তার পর কী ভেবে বললে, “বাইকে বসেন।”

মিনিট দশেকে বাড়ি পৌঁছে গেল। ননীগোপালের বড় ছেলে বিজন মাদুর পেতে বারান্দায় শুয়ে। মুণ্ডিত মস্তক, জীর্ণ শরীর। নিখিল বিজনের হাত ধরল। ব্যাগ থেকে দলিল বার করে বললে, “আমার পিতা যতীন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী তোমার পিতার কাছে ঋণী ছিলেন। এই দলিলের বাহান্ন বিঘে জমি তোমার পিতার। তোমরা ভাই-বোনেরা ভাগ করে নিয়ো।”

বিজন স্থির চোখে নিখিলের দিকে তাকিয়ে থাকলে কিছু ক্ষণ। দলিলের প্রতি কোনও আগ্রহ দেখাল না। বলল, “লেনিন কলোনির পঞ্চাশ ঘর কোতায় যাবে তা হলি? আবার পাপের ভাগিদার করবেন জমিদারবাবু?”

“পাপ!”

নিখিল রায়চৌধুরীর হাত কেঁপে যায়। পায়ের তলার মাটি টলতে থাকে যেন। চোখ ঘোরাতেই দেখতে পায় এক দল আদুল গায়ের কচিকাঁচা ঘিরে  দাঁড়িয়ে। আচমকা আকাশ চিরে বিদ্যুতের ঝলক। তীব্র শব্দ। নিখিলনারায়ণ আঁতকে ওঠে। হাত থেকে পড়ে যায় দলিল। দমকা হাওয়ায় ছিন্নভিন্ন হয়ে এ দিক-ও দিক উড়তে থাকে পাতাগুলো। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। দামাল শিশুরা হাওয়া আর বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ন্ত কাগজের পিছু নেয়। বিজন নিখিলের হাত ধরে ঘরের দাওয়ায় জলচৌকিতে বসাল। নিখিল তাকিয়ে দেখে, সামনে মাটির দেওয়ালে এক ফ্রেমে ননীগোপাল আর হৈমবতী। হাসছে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ আগষ্ট ২৯, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com