বিরল সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে তাগিদ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিরল সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে তাগিদ

আব্দুস সালাম আরিফ,পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নানা সামুদ্রিক মাছ আটকা পড়ছে জেলেদের জালে। এসব মাছ ধরা পড়ার পরে মৎস্য বন্দরে আনা হলেও তা সংরক্ষণ নিয়ে কেউ উদ্যোগ নেয় না। একই সঙ্গে ওই সব মাছের প্রকৃতি ও জীবন ধারণের তথ্যসহ বিলুপ্তির কারণ উদঘাটনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আড়ৎদাররা বিরল প্রজাতির ওইসব মাছ কিনে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির ওইসব মাছ সরকারিভাবে সংরক্ষণ করে তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।


গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মৎস্য বন্দর আলীপুরের বাচ্চু ফিসের মালিক আবুল হোসেন কাজীর জালে বিরল প্রজাতির একটি মাছ ধরা পড়ে। নাইউরীপাড়া ঘাটে আনা হলে প্রায় ২০ মণ ওজনের ওই মাছটি এক নজর দেখার জন্য শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে। মাছটির দু’পাশে দুটি পাখার মত রয়েছে। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট ও প্রস্থ ৬ ফুট। এছাড়া লেজ ও মাথার অংশ পর্যন্ত লম্বায় ১২ ফুট। দেখতে অনেকটা শাপলা পাতা মাছের মতো।

স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি বাদুর মাছ হিসেবে পরিচিত। তবে ধরা পড়া মাছটির স্থানীয় বাজারে চাহিদা না থাকায় এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র চার হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির ক্রেতা মো. আক্কাস উদ্দিন বলেন, স্থানীয় মানুষের কাছে এ মাছটির তেমন কদর নেই। তাই এটি শুঁটকি করার পর চট্টগ্রামে চালান করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম  জানান, মাছগুলো সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকে। এটি শাপলাপাতা মাছের প্রজাতির হলেও এর ইংরেজী নাম মন্টা-রে ফিস। সমুদ্রে তাপমাত্রা যেসব স্থানে বেশি ওইসব স্থানে এসব মাছ বসবাস করে। তবে বঙ্গোপসাগর-মালদ্বীপের সমুদ্র সীমানায় এ মাছ বেশি দেখা যায়।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে বিরল প্রজাতির আরো একটি মাছ ধরা পড়ে। দুপুরে মৎস্য বন্দর আলীপুরে মাছটি নিয়ে আনার পরে উৎসুক জনতা ভিড় করে। আলীপুরের রাজা মোল্লার ট্রলারের জেলেরা ৫০ কেজি ওজনের ও ১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩ ফুট প্রস্থের মাছটি ধরে নিয়ে আসে। স্থানীয় মোল্লা ফিশে মাছটি সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে  গোলপাতা মাছ হিসেবে পরিচিত

স্থানীয়দের কাছে গোলপাতা মাছ হিসেবে পরিচিত

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. জামাল জানান, স্থানীয় পর্যায় মাছটিকে গোলপাতা মাছ বলা হয়ে থাকে। তবে চাহিদা না থাকায় এটি কমমূল্যে বিক্রি হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে ধরা পড়া বিরল প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. লোকমান হোসেন। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হচ্ছে। এ কারণে অনেক সামুদ্রিক মাছ সম্পর্কে আমরা অজানাতেই থাকছি। জেলেদের জালে ধরা পড়া এসব মাছ সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা নিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারতো। এর ফলে দেশের মৎস্য সেক্টরে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতো।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com