বিএনপি-খালেদা জিয়া তালা ও পুলিশে অবরুদ্ধ

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৫

বিএনপি-খালেদা জিয়া তালা ও পুলিশে অবরুদ্ধ

 

1421344339ঢাকাঃ দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও প্রেক্ষাপটে সাধারণদের মতে বিএনপি মানেই ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তাকে ঘিরেই দল। আর এখন বেগম খালেদা জিয়া। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি মিশে গেছে দলের সাথেই। গত ১৩ দিন ধরে দলীয় কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। একই সময় ধরে নিজ কার্যালয়ে অরবুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়া। এদিকে পুলিশ প্রাচীরে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে গতকাল অবরুদ্ধ করতে ‘চুকিয়ে’ শ্রমজীবীদের নিয়ে এসেছিল শ্রমিক লীগ। তার বসত বাড়িটিতেও সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। শূন্যবাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের অলস সময় কাটছে। খালেদা জিয়ার এক নিকটাত্মীয় সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে গিয়ে বাতি জ্বালিয়ে দিয়ে আসেন।


গত ৩ জানুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে গুলশানের নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়ার সাথে স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী, পেশাজীবী, মহিলাদলের নেত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দেখা করেছেন। তাদের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তার সাথে দেখা করেছেন ডা. আজিজুল হক ও ডা. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক। তবে হরতালের কারণে গতকাল মহিলা দল নেতাকর্মীরা সেখানে যাননি।

এদিকে অবরুদ্ধ থাকার কারণে খালেদা জিয়ার গুলশান দুই নম্বরে ৭৯নং সড়কের ১ নম্বর বাড়িটি এখন নীরব-নিস্তব্ধ। কেবল খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) দুইজন এবং পুলিশের দুইজন সদস্য পালাক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজধানীর গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল গেটে অন্যদিনের মতোই বিপুল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন আগের মতোই। কার্যালয়ের সামনে রয়েছে পুলিশের দুইটি বড় ট্রাক ও জলকামান। সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহন এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। ২০১০ সালে ক্যান্টমেন্টের মঈনুল রোডের বাসা থেকে উচ্ছেদের পর থেকে বেশ কয়েকবছর ধরে এই বাড়িতেই বাস করছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার সাথে সেখানে আত্মীয়স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীরা ও অন্যান্য সুশীলসমাজ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তার সাথে সাক্ষাতের জন্য সেখানে যেতেন। এখন দলের নেতাকর্মীরা আর আগের মতো গিয়ে ভিড় জমান না। বাসার সামনে নেই তেমন পুলিশি কড়াকড়ি। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ সদস্য ও দুই জন পুলিশ সদস্য বাড়ির পাহারায় নিয়োজিত আছেন। এরআগে ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে বেশ কয়েকদিন এই বাড়িটিতেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তিনবারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।

বাসার সামনে দায়িত্বপালনরত সিএসএফ সদস্য নূরুন্নবীর বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী বা কোনো স্বজন ম্যাডামের এই বাসায় আসেন না। কারণ, তিনি এখন কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। ফলে তার এই বাড়িতে এখন অন্য কেউ আসেন না। তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ভাবি কানিজ ফাতেমা সন্ধ্যায় এসে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে দিয়ে চলে যান।

খালেদা জিয়া বাসায় অবস্থানকালে সামনের সড়কটিতে দলের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করত। কিন্তু গত ৩ জানুয়ারি রাত ওই সড়কে জনসাধারণ ও যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে অবশ্য কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

গতকাল দিনভর সেখানে দেখা গেছে, সামনের সড়কে যথারীতি পুলিশে তল্লাশি চৌকি বসানো আছে। ওই সড়কে সাধারণ মানুষ ও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পথচারী ও সাংবাদিকদেরও পরিচয়পত্র দেখিয়ে ওই সড়কে প্রবেশ করতে হয়। কার্যালয়ের মূল গেটে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশের নারী সদস্যরা। কার্যালয়ের সামনের দিকে রাস্তার মাঝখানে পরস্পরমুখী হয়ে পুলিশের নারী ও পুরুষ সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। কার্যালয়ের দক্ষিণ দিকে সড়কের মাঝখানে রয়েছে পুলিশের হলুদ রঙের জলকামান। কার্যালয়ের উত্তর দিকে পুলিশের দুইটি বড় ভ্যান আড়াআড়িভাবে রাখা আছে।

নেতাকর্মীদের পদচারণায় কর্মচঞ্চল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন নেতাকর্মী শূন্য। প্রবেশ পথে কেচি গেটে ঝুলছে একাধিক তালা। কার্যালয়ের সামনে এবং সংশ্লিষ্ট সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। র‌্যাবের সদস্যদের দেখা গেছে সশস্ত্র পাহারায়। এই কার্যালয়ের সামনে ঠাঁই দাঁড়ানো পুলিশের একটি জলকামান, প্রিজন ভ্যান ও রায়টকার। ওই এলাকার প্রবেশ পথের দুই দিকে বসানো হয়েছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। যান চলাচলও সীমিত।

কার্যালয়ের কর্মচারীরা চলে গেছেন নিজ নিজ গ্রামে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে পুলিশের তৎপরতার কারণে আশপাশের ব্যাবসায়ীরাও মনমরা দিনাতিপাত করছেন। সুত্রঃ ইনকিলাব

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com