বাগেরহাটে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাগেরহাটে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযুক্ত ইউপি সচিব দেবাশীষ মল্লিক ছবিঃ সংগ্রহ

বাগেরহাট জেলার কচুয়া সদর ইউনিয়ন ও গোপালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সচিব দেবাশীষ মল্লিকের বিরুদ্ধে সরকারী সম্পদ আত্মসাত, গ্রাম পুলিশদের হাজিরা খাতা আটকিয়ে রাখা, মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার, অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিব দেবাশীষ মল্লিক বাগেরহাট সদর উপজেলার সাহসপুর গ্রামের জগদীশ মল্লিকের ছেলে। প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেছেন কচুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১০জন গ্রাম পুলিশ।

অভিযোগে জানা যায়, স্যার না বলায় গ্রাম পুলিশদের হাজিরা খাতা দীর্ঘ কয়েক মাস আটকিয়ে রেখেছে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, সাধারন মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার, অবৈধ ভাবে টাকা দাবী, সুবিধা দেবার কথা বলে সাধারন মানুষের কাছ থেকে ব্যাংকে হিসাব খুলিয়ে টাকা নেয়া ও অধিক টাকা সিম কিনিয়ে দেওয়া, করোনা কালীন সরকারি-বেসরকারি ত্রান আত্মসাৎ, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধিদের সাথে অনৈতিক আচরন করা।


তিনি ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে আসেন, জন্মনিবন্ধনের জন্য তাকে ৫০ টাকা না দিলে স্বাক্ষর করেন না।  এক প্রবাসী সাংবাদিকের কাছেও তিনি জন্মনিবন্ধনের ব্যাপারে  অর্থ চেয়েছিলেন।

জানা যায়, কচুয়া ইউপির বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার  জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি সিকদার মনজিলুর রহমান বছরের গোড়ার দিকে এসেছিলেন তার জন্মনিবন্ধন সনদপত্রের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে । কারণ বিগত ৩ বছরে আগে তিনি স্বদেশে এসে কচুয়া ইউপি আইটি টেকনিশিয়ান প্রশান্ত পাইকের মাধ্যেমে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র পাবার জন্য অনলাইনে দরখাস্ত করেছিলেন । সনদপত্রটি তিনি পাননি । প্রসান্ত তখন সচিব দেবাষীশের সাথে দেখা করতে বলেন । সচিব তখন সাংবাদিকের কাছে জিজ্ঞেস করেন, আপানার বয়স কত ? বয়সের উত্তর দিলে বলে , আপনার বয়স তো অনেক এবং অনেকদিন প্রবাসে থাকেন । এখন সনদ নিতে হলে কিছু খরচাপাতি আছে । সাংবাদিক তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন বয়স যতই হোক না কেন আমি এ ইউনিয়নের বাসিন্দা । জন্মসনদ পত্র পাওয়া আমার নাগরিক অধিকার । তাতে খরচাপাতি লাগবে কেন ? বিতর্কের মধ্যেই সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে পরামর্শ দেন । এ সময়ে সেখানে ইউপি সদস্য  সিকদার আরিফুল ইসলাম ডলারও উপস্থিত ছিলেন ।  ইউপি চেয়ারম্যান তখন অফিসে ছিলেন না।  তিনি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ না করেই প্রবাসে ফিরে যান ।

অভিযোগ রয়েছে গোপালপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগে সম্প্রতি সাবেক একজন বৃদ্ধ ইউপি সদস্য তাকে কেরানি বাবু বলায় বৃদ্ধ সদস্যকে গালমন্দ করে তার রুম থেকে বের করার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকাকালীন সময় তার বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে কচুয়া সদর ইউনিয়নে বদলি হলে মঘিয়া ইউনিয়নের চৌকিদার, দফাদারসহ সাধারন ভুক্তভোগীরা খুশিতে মিষ্টি বিতরন করেছিল।

এ বিষয়ে কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদি বলেন, আমি বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে আছি।

গ্রাম পুলিশদের দেয়া অভিযোগ পেয়ে অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি এখন ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করছি। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ বলেন, এবিষয়টি আমি শুনেছি, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্রেড লাইসেন্স চাওয়ায় অশোভন আচরণ করায় সচিব দেবাশীষ মল্লিকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুজ্জামান সাইদ

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দেবাশীষ মল্লিক গোপালপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। আমার জরুরীভাবে একটি ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হওয়ায়, তাৎক্ষনিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছেন। তখন আমি ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেখানে যাই।দিনটি ছিল ২৭ আগষ্ট ২০২০ বেলা সম্ভবত সাড়ে ১১ টা।  সচিবের সাথে  ট্রেড লাইসেন্সের ব্যাপারে কথা বলি। তখন তিনি আমাকে বলেন এখন ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। কারণ জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমার সাথে অশোভন আচরণ করেন। যা আমি তার কাছ থেকে আশা করিনি। তাৎক্ষনিকভাবে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্থানীয় লোকজন  এসে জানতে চাইলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন “আমি চেয়ারম্যানের চাকরি করিনা, আমি ডিসিকে বলছি, তোদের দেখিয়ে দিচ্ছি”। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ইউপি সচিব দেবাশীষ মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যাবস্থা গ্রহনসহ দ্রুত অপসারনের দাবী জানান।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক দেব প্রসাদ পাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দেবাশীষ মল্লিকের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগ শুনেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com