বাগেরহাটের ফকিরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষঃ আহত ২০

শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

বাগেরহাটের ফকিরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষঃ  আহত ২০

Fakirhat বাগেরহাটঃ গত ১৮ ডিসেম্বর বাগেরহাটের ফকিরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহষ্পতিবার রাতে ফকিরহাট উপজেলার ডাংক বাংলোর মোড় এবং পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় তারা ২-৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। আহতদের উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।


উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি শেখ হারুণ অর রশিদের সমর্থকদের সঙ্গে সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শিরীন আক্তারের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ দাবী করেছে।

উভয়পক্ষের আহতরা হলেন, সোহাগ, মো. ইমরান, দারা, মতিয়ার রহমান, এনামুল, শেখ নজরুল ইসলাম, শেখ মফিদুল ইসলাম, শেখ জুয়েল, আকরাম শেখ, আব্দুল খালেক, আলাউদ্দিন, শেখ কেরামত, হাসান মল্লিক, ডলার, শেখ বিল্লাল, আরজু, শাহাবুদ্দিন ও আসলাম। এদের বাড়ির ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকী, বাহিরদিয়া এবং সাতশৈয়া গ্রামে। আহতদের মধ্যে এনামুল, সোহাগ, দারা, ডলার, আরজু এবং আলাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কল্যাণ দেবনাথ রাতে বাগেরহাট নিউজকে বলেন, আহত ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের শরীরে ইট, লাঠিসোটাসহ ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এরমধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফকিরহাট থানার ওসি মো. শমসের আলী রাতে জানান, ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ হারুণ অর রশিদের সঙ্গে নিহত জাহিদের স্ত্রী ও সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শিরীন আক্তারের বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় ডাক বাংলোর মোড়ে হারুণের এক সমর্থক রুবেলের সঙ্গে শিরীন আক্তারের সমর্থক শুভ’র কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা মারামারি শুরু করে। এই মারমারির খরব উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে এরমধে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ফকিরহাটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনা জানতে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিরীন আক্তার এবং উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি শেখ হারুণ অর রশিদের মুঠোফোনে বারবার ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com