বাগেরহাটে ইউপি চেয়ারম্যান শ্রীঘরে

বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৪

 

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বাগেরহাটঃ বাগেরহাটের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে দায়িত্বরত অবস্থায় এক শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুলেরকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে আদালত।


মঙ্গলবার সকালে ওই আলেচিত মামলায় তিনি বাগেরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট নুসরাত জাহানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী মোঃ মাহফুজার রহমান ( লাহু) মঙ্গলবার জানান, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষিকাকে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সরকারী কাজে বাধা ও ওই শিক্ষিকাকে শ্লীতাহানির চেষ্টা করেন পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুল। মঙ্গলবার সকালে আসামী জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করে।

তথ্যসংগ্রহকারী শিক্ষিকার স্বামী মোঃ রবিউল আলম খোকন জানান, পেড়িখালী ইউপি চেয়্যারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুল এই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে ঢাকায় আতগোপন করেন। ১১ নভেম্বর শাহাবাগ থানা পুলিশ গুলিস্থান এলাকার হোটেল পীর ইয়ামেনী থেকে তাকে আটক করে। কিন্তু সেখানে ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান প্রভাব বিস্তার করেন। ফলে শাহাবাগ থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। চেয়ারম্যান বাবুল এলাকায় ফিরে তার লোকজনকে যেখানে আমাকে পাবে সেখানেই গুলি করে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে খোকন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবী করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রমে তথ্যসংগ্রহকালে রামপাল উপজেলার বড় কাটালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বেগম খাদিজা ইয়াসমিন ও তার স্বামী মোঃ রবিউল আলম খোকনকে পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুল মারধর করেন। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহকারী বেগম খাদিজা ইয়াসমিনের স্বামী মোঃ রবিউল আলম অভিযোগ করলে গত ১০ জুলাই রামপাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুল রামপাল থানায় প্রভাব বিস্তার করে তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি ও শিক্ষিকা বেগম খাদিজা ইয়াসমিন ও তার স্বামী মোঃ রবিউল আলম খোকনকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করছেন বলে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গত ২৩ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়। একই সাথে রামপাল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়। বাগেরহাট পুলিশ সুপারের নির্দেশে এই আলোচিত মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com