বাইডেনের জন্য যেভাবে সাজানো হয়েছে ওভাল অফিস

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১

বাইডেনের জন্য যেভাবে সাজানো হয়েছে ওভাল অফিস
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুধবার শপথ নিয়েছেন জো বাইডেন। সরকার প্রধান বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রেসিডেন্ট অফিসেরও চেহারা। বুধবার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওভাল অফিস এক নজর দেখার সুযোগ হয়েছে সাংবাদিকদের। ক্ষমতার পালাবদলের ফলে ওভাল অফিসে যে পরিবর্তন ঘটেছে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

প্রেসিডেন্টে অফিসে কি ঘটছে বা কি নীতি ঘোষণা করা হবে তা নিয়েই মূলত সবার আগ্রহ থাকে। তবে অফিস কিভাবে সাজানো হবে, কোন ধরনের শিল্পকর্ম বা ছবি থাকবে এসব বিষয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তাদের পরিবার এবং স্টাফরা খুবই নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করে থাকেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যে টেবিলে বসে কাজ করেন সেটির নাম রেজুলুট ডেস্ক। টেবিলের বাম পাশে জোসেফ ডুপ্লেসিসের আঁকা বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের একটি শিল্পকর্ম রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের বহু শিল্পকর্ম ধার করা। এই শিল্পকর্মটিও স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশন’স ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্ট থেকে ধার করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বাইডেনের সামনে ফ্রাঙ্কলিনে চিত্রকর্ম এবং চাঁদের পাথর রাখা হয়েছে, যার মানে হচ্ছে যে, বিজ্ঞানের প্রতি প্রেসিডেন্টের আগ্রহ রয়েছে। আর তার ডেস্কের পেছনে লাতিনো অধিকারকর্মী সিজার চাভেজের ব্রোঞ্জের একটি আবক্ষ মূর্তি রাখা হয়েছে।

কৃষকদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই অধিকারকর্মীর ছবি আবক্ষ মূর্তিই নয় বরং তার নাতনীও বাইডেনের প্রশাসনে স্থান পেয়েছেন। জুলি চাভেজ রদ্রিগেজ হোয়াইট হাউজের আন্তঃসরকার বিষয়ক অফিসের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

টেবিলের ডান পাশে ‘অ্যাভিনিউ ইন দ্য রেইন’ পেইন্টিং রাখা হয়েছে। ১৯১৭ সালে আঁকা এই তৈলচিত্রটি ওবামা এবং ক্লিনটন প্রশাসনের সময়ও ওভাল অফিসে ছিল। সাবেক  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে এটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

পোস্ট জানিয়েছে, ক্যামেরায় ধরা না পড়লেও মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং রবার্ট এফ. কেনেডির আবক্ষ মূর্তিও ওভাল অফিসে ঠাঁই পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নাগরিক অধিকার রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টার পক্ষে বাইডেনের সমর্থন ফুটে উঠেছে বলেও জানিয়েছে পোস্ট।

এছাড়াও রোজা পার্কস, এলেনর রুজভেল্টসহ আরও বেশ কয়েকজনের ভাস্কর্য ওভাল অফিসে বসানো হয়েছে। অফিসের অন্যান্য অংশে জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিঙ্কন, ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, থমাস জেফারসন, অ্যালেক্সান্ডার হ্যামিলটন এবং ড্যানিয়েল ওয়েবস্টারের পেইন্টিং লাগানো হয়েছে। তবে উইন্সটন চার্চিলের একটি আবক্ষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

রেজুলুট ডেস্কে আরও একটি বিষয়ে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। তা হচ্ছে- টেবিলের ওপর একটি কাপ এবং পিরিচের সেট এবং কলমের বাক্স দেখা গেছে। ট্রাম্প ডায়েট কোক পছন্দ করতেন। তাই তার জন্য সোডা নিয়ে আসতে ওভাল অফিসে একটি বাটন ছিল বলে জানা যায়। চা বা কফিসহ খুব কমই ছবিতে ধরা পড়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প মোটা এবং কালো মার্কার পেন ব্যবহার করে সরকারি নথিতে সই করতেন। এটাকে সেলিব্রেটি অটোগ্রাফ স্টাইল বলে। আগের প্রেসিডেন্টদের ব্যবহৃত প্রথাগত কলম দিয়েই শুরুতে সই করতেন ট্রাম্প। তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প শার্পি-স্টাইল মার্কার দিয়ে সই করা শুরু করেন।

পরিবর্তন এসেছে অন্যান্য আরও অনেক কিছুতেই। যেমন সবশেষবার ওভাল অফিসে যখন ট্রাম্প কাজ করেছেন তখন তিনি পুরু, লালচে বাদামি এক্সিকিউটিভ সিটের ওপর বসা ছিলেন। তবে বাইডেন বুধবার যখন কার্যনির্বাহী আদেশে সই করেন, তখন তিনি বোনা, কালো বাদামি চামড়ার চেয়ারে বসেছিলেন।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তার ব্যক্তিগত অফিসে এ ধরনের চেয়ার ব্যবহার করতেন। ফার্নিচারের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন করেছেন বাইডেন। নিজের অফিস সাজাতে ক্লিনটনের শাসনামলের দুটি ফার্নিচার ওভাল অফিসে বসিয়েছেন তিনি।

আর যেসব জিনিস ওভাল অফিস সরিয়েছেন বাইডেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- মার্কিন সামরিক বাহিনীর শাখার পতাকা। আর প্রেসিডেন্ট টেবিলের পেছনে পরিবারের সদস্যদের একগাদা ছবি সারি সারি করে রেখেছেন বাইডেন। সেখানে ট্রাম্প সাধারণত তার চ্যালেঞ্জ কয়েনের সংগ্রহ প্রদর্শন করতেন।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ জানুয়ারি ২২, ২০২১

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com