বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভে টান

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২

বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভে টান
প্রতিকী ছবি

আমদানি বিল পরিশোধ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। গত দুই মাসে ২২৪ কোটি মার্কিন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করার পর রিজার্ভের আকার দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলার, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ গত বছরের ২৫ আগস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন (২২৪ কোটি) ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর আগে কখনোই আকুভুক্ত দেশগুলোর এত বেশি বিল শোধ করেনি বাংলাদেশ। এর ফলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১২৬ কোটি ডলার। বর্তমানের আমদানির খরচ হিসেবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। অথচ সাত-আট মাস আগেও ১০ থেকে ১১ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আমদানি ব্যয় অধিক হারে বেড়েছে। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে মাসে আমদানি খাতে গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো। করোনার মধ্যে তা কমে গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সবশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানিতে খরচ হয়েছে ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি বৃদ্ধির কারণেই রিজার্ভ কমছে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার ধাক্কাও রিজার্ভে পড়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে, তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির পণ্য আমদানি খরচের হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৫৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:১০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com