সিলেট এমসি কলেজে নববধূকে গণধর্ষণঃ

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর ও অন্যান্যরাঃ ফাইল ছবি

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে নববধূকে দলবেঁধে গণধর্ষণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুর ও হাসান আল মামুনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংগঠনটি।

ছাত্রলীগ কর্তৃক তরুণীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে সিলেটে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।


আজ শনিবার বেলা ১ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে সাধারণ ছাত্রদের মিছিল শুরু হয়ে নগরের বন্দরবাজার ঘুরে চৌহাট্টা পয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পথসভা করেন ছাত্ররা।

ওই পথসভায় ছাত্র অধিকার পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল সুজনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমসি কলেজসহ সারাদেশে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে। অতীতে এই সন্ত্রাসীরা এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়েছিল। নিজের দলীয় কর্মীদের খুন করেছিল তারা। পুরো সিলেটের ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হত্যা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সিলেট শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ছাত্র অধিকার পরিষদের উপর হামলা চালিয়েছিল। ছাত্রলীগের অপকর্মে সবসময় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নীরব ভুমিকা পালন করেছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, এই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে। টিলাগড় এলাকায় যেসব গডফাদার এই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় তাদেরও বিচার করতে হবে। যেহেতু ধর্ষণকারীরা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী তাই তাদের এই ঘটনায় অবশ্যই দায় নিতে হবে। আমরা এমসি কলেজের অধ্যক্ষ ও শাহপরাণ থানার ওসির পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।

ছাত্র অধিকার পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক নাজমুস সাকিব বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের কোনও অপকর্মেও বিচার না হওয়াতে তারা বারবার অপরাধ করছে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করলে ছাত্র অধিকার পরিষদ কঠোর কর্মসূচি দিবে।

আরো পড়ুনঃ

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে গণধর্ষণে ছাত্রলীগের ৬ নেতা জড়িত

ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মৃদা বলেন, ধর্ষণকারী যে দলেরই হোক ছাত্র অধিকার পরিষদ এর সর্বোচ্চ বিচার চায়। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ধর্ষণসহ সকল অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ সিলেটের সদস্য এইচ এম আক্তার, ইফতেখার মো. নাবিল চৌধুরী, মো. ফয়সল আহমদ, সামাদ আহমদ, পাপলু আহমদ, নাইম আহমদ, সালমান আহমদ, মাজেদ আহমদ, ইকবাল আহমদ, মারুফ ফারহান, মাসুদ আহমদ, শাহরিয়ার আহমদ শাহরিয়া, ইমরান আহমদ, নুরুল হুদা লস্কর, জাবেদ আহমদ, ইমরান চৌধুরী, মুসা মিয়াসহ অন্যারা।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাতেই ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে ঢাকাসুর সাবেক ভিপি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুরকে অভিযুক্ত করা হয়। লালবাগে মামলা দায়েরের পর ওই ছাত্রীই রাজধানীর কোতয়ালী থানায় আরো একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, ওই মামলাতেও সেই ৬ জনকেই আসামি করা হয়। পরে সর্বশেষ সেই একই ছাত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারায় রাজধানী শাহবাগ থানায় সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ এনে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। এই তিনিটি মামলাই বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

শনিবারের চিঠি /  আটলান্টা / সেপ্টেম্বর ২৬,২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com