বস্টন ম্যারাথন বোমা হামলায় জোখারের মৃত্যুদন্ড

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০১৫

বস্টন ম্যারাথন বোমা হামলায় জোখারের  মৃত্যুদন্ড

 

Zokhar

জোখার সারনায়েভক

বস্টনঃ ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বোমা হামলার দায়ে জোখার সারনায়েভকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন মার্কিন বিচারক। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে।


২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বোস্টন ম্যারাথনে জোড়া বোমা হামলায় তিনজন নিহত ও ২৬০ জন আহত হন। চেচেন বংশোদ্ভূত দুই ভাই জোখার সারনায়েভ ও তামেরলান সারনায়েভ এই হামলায় জড়িত বলে দাবি পুলিশের। বোস্টন হামলার এক দিন পর পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত হন বড় ভাই তামেরলান। পরদিন আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় ছোট ভাই জোখারকে। জোখার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মৃত্যুদন্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সারনায়েভকে ইন্ডিয়ানার একটি কারাগারে রাখা হতে পারে। তবে জোখার আপিল করতে পারবেন। এ কারণে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

রায় দেয়ার সময় হতাহতদের পরিবারের লোকজন অশ্রুসজল ছিলেন। তবে জোখারের মধ্যে কোনো ভাবাবেগ ছিলো না।

বোমা হামলায় মৃত্যুর খুব কাছ থেকে বেঁচে এসেছেন সিডনি করকোরান। হামলায় তার মা দুই পা হারান। রায় শোনার পর করকোরান বলেন, এখন তিনি চলে যাবেন। তারা ন্যায় বিচার পেয়েছেন। তার ভাষায়, চোখের বদলে চোখ নিতে হবে।

আদালতে ১৪ ঘন্টা যুক্তিতর্কের পর বিচারক রায় দেন, সারনায়েভ জোখার কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। ফলে মৃত্যুদন্ডই তার প্রাপ্য।

মার্কিন অ্যাটর্নি কারমেন অরতিজ বলেন, ‘বিচারক রায় দিয়েছেন। জোখার জীবন দিয়ে তার অপরাধের মূল্য দেবেন।’

১৯৮৪ সালের পর থেকে ম্যাসাচুসেটসে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়নি। তবে অপরাধ গুরুতর হওয়ায় জোখারের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হলো। রায় ঘোষণার পর মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল লোরেটা লিনচ বলেন, ‘ভয়াবহ এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য এবং অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে হতাহত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।’ তবে জোখার সারায়েভের মৃত্যুদন্ডকে হতাহতদের পরিবারের অনেকে সমর্থন করেনি। গতকাল শুক্রবার রায় হওয়ার পর কোনো মন্তব্য না করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে চলে যান বোমা হামলায় নিহত আট বছরের বালক মার্টিন রিচার্ডের বাবা-মা। তারা গত মাসে বোস্টন গ্লোব পত্রিকায় এক নিবন্ধে লেখেন, তারা জোখারের মৃত্যুদন্ড চান না। হামলায় পা হারিয়েছেন হিদার অ্যাবট। হামলায় আহত ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ওই সংস্থার ফেসবুক পেজে তিনি বলেন, জোখারের মৃত্যুদন্ডে তিনি শান্তি পাননি।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৯ মে ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com