বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি চলচ্চিত্রবান্ধব উদ্যোগ নেই– প্রাচ্য পলাশ

শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭

বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি চলচ্চিত্রবান্ধব উদ্যোগ নেই– প্রাচ্য পলাশ

বিনোদনপ্রাচ্য পলাশ, বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, টেলিফিল্ম, টিভিসি প্রভৃতি নির্মাণ করেছেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যও তিনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। প্রাচ্য পলাশের ইউটিউব চ্যানেল প্রাকৃত টিভি দিনদিন দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসার ক্ষেত্রে যে নির্মাতাদের সম্ভাবনাময়ী ধরা হয় প্রাচ্য পলাশ তাদের মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন চাপাই নবাবগঞ্জ ভ্রমণে সেখানে দেখা আমাদের চাপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রব নাহিদের সাথে। শনিবারের চিঠির পক্ষ থেকে তার একটি ছোট্ট সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন আব্দুর রব নাহিদ। সাক্ষাৎকারটি নিন্মরুপঃ

আব্দুর রব নাহিদঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম প্রাচ্য পলাশ ভাই , কেমন আছেন ?


প্রাচ্য পলাশঃ ওয়ালাইকুম সালাম। আমি ভাল আছি ।আপনি ?

আব্দুর রব নাহিদঃ আমিও ভাল। আমরা জানি আপনি অনেক দিন যাবৎ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, টেলিফিল্ম, টিভিসি প্রভৃতি নির্মাণ করে আসছেন । এ বিষয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে প্রকাশিত ‘ শনিবারের চিঠির পক্ষ থেকে ছোট্ট একটা  সাক্ষাৎকার গ্রহন করতে আগ্রহী । আপনার যদি অসুবিধা না হয় কিছু বলবেন ?

প্রাচ্য পলাশঃ না, না, কোন অসুবিধা নেই । আপনি জিজ্ঞেস করুন।

আব্দুর রব নাহিদঃ বাংলা চলচ্চিত্রের দুর্দিনে চলচ্চিত্র নির্মাণে এলেন। এর পেছনের ভাবনা জানাবেন কি?

প্রাচ্য পলাশঃ বাংলাদেশের চিত্রজগতের বর্তমান চিত্র সামগ্রিক দেশের চিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। চলচ্চিত্র হলো সারাবিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম। সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যমের দুর্দিন মানে দেশের সামগ্রিক গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের দুর্দিন। বাংলা চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অর্থ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। আমার এই সাধারণ উপলব্ধি থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে নিয়োজিত হয়েছি।

আব্দুর রব নাহিদঃ বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের অভাব তো নেই। তবে চলচ্চিত্রাঙ্গণে মন্দাভাব কাটছে না কেন?

08প্রাচ্য পলাশঃ চলচ্চিত্র একদিকে যেমন সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম, অন্যদিকে তেমন এর নির্মাণ ও প্রদর্শন পদ্ধতির বিচারে ব্যাপক পুঁজির মাধ্যম। সময়ের শ্রোতে পুরো পৃথিবীর পরিবর্তন হয়েছে, সভ্যতা দ্রুত থেকে দ্রুততার সাথে বিকশিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্র সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারেনি। সত্যিকার অর্থে চলচ্চিত্র বলতে যা বোঝাই তা আমাদের দেশে কখনই ছিল না। বাংলা চলচ্চিত্র কখনো আমাদের চলচ্চিত্র হয়ে ওঠতে পারেনি। এ সংকটের প্রকটতা দেশের পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গণ যতোক্ষণ না উপলব্ধি করছে, ততোক্ষণ এ সংকট কাটিয়ে ওঠার যাত্রাও শুরু হবে না। পাশাপাশি আমি এটাও মনে করি যে, বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে কোন ব্যবসায়ী নেই। দেশে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী গড়ে ওঠেছে তাদের আমার কাছে বিজনেস লেবার মনে হয়। বাংলাদেশে একটি দক্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি থাকতো তবে দেশের চিত্র জগতের এমন করুণ সময় আমাদের দেখতে হতো না।

আব্দুর রব নাহিদঃ বর্তমানে আপনি কি কি কাজ করছেন?

প্রাচ্য পলাশঃ চলচ্চিত্রের সব শাখাতেই আমি কাজ করি। তবে আমার প্রধান শাখা দুটো হলো এক. পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও দুই. টিভি কমার্শিয়াল (টিভিসি)। প্রধান দু শাখাতেই কাজ চলছে, অন্যান্য শাখার কাজও করছি।

আব্দুর রব নাহিদঃ আপনার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে বলুন।

প্রাচ্য পলাশঃ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি, তাতে কোন সন্দেহ নেই। যে কোন সময় স্যুটিং শুরু করবো। প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিস্থিতি ইতিবাচক। চলচ্চিত্র স্যুটিং থেকে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত যাবতীয় সংবাদ চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকরা পেয়ে যাবেন।

আব্দুর রব নাহিদঃ আপনার ইউটিউবভিত্তিক স্মার্ট চ্যানেল প্রাকৃত টিভির অনুষ্ঠানে সাড়া কেমন?

প্রাচ্য পলাশঃ কোন ধরণের প্রমোশনাল প্যাকেজ চালু না করে যে সাড়া পাচ্ছি তা নিঃসন্দেহে আশাব্যাঞ্জক। দিনদিন প্রাকৃত টিভির দর্শকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউটিউব রিপোর্ট অনুসারে প্রাকৃত টিভি দেখতে দর্শকরা মোবাইল, কম্পিউটার, স্মার্ট টিভি সেট, ট্যাবলেট, গেম কনসোল ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করছে। আমেরিকা, বৃটেন, সৌদী আরব, বাংলাদেশ, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশের নারী-পুরুষ দর্শক চ্যানেলটি দেখে থাকেন। ইতোমধ্যেই ৩০ হাজারের অধিকবার দর্শকরা চ্যানেলটি দেখেছেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের মাঝে প্রচারণার প্রশ্নে প্রাকৃত টিভি ফিটনেস অর্জন করেছে।

আব্দুর রব নাহিদঃ বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কি?

প্রাচ্য পলাশঃ বাংলা চলচ্চিত্র নিজস্ব মহিমামণ্ডিত করতে যে পরিবর্তন দরকার তার কোন সরকারি-বেসরকারি চলচ্চিত্রবান্ধব উদ্যোগও বর্তমানে নেই। অবশ্য মাঝে-মধ্যে সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের এ বিষয়ে দরদী বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে দেখা যায়। লোকসানের ঝুকি নেয়া প্রযোজক-গুণী নির্মাতা-বরেণ্য শিল্পীদের দর্শক সারিতে নিরবশ্রোতা রূপে বসিয়ে রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীকে পাশে নিয়ে মঞ্চে বসে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া চলচ্চিত্রবান্ধব বক্তৃতার মাঝে ভণ্ডামী ছাড়া অন্য কিছু দেখি না। এভাবে শিল্পের স্রষ্ঠা নির্মাতাদের সম্মান দেখানোর পরিবর্তে অপমান করা ও সরকারি কর্মচারীদের প্রশ্রয় দিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের খবরদারী ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা একধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংকট নিরসনের পরিবর্তে সংকট আরো ঘণিভূত করার ইঙ্গিতবাহী বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন দরকার এখুনি। বাংলা চলচ্চিত্র উন্নয়ন পরিপন্থী অচলায়তন ভাঙতে সবকিছুর আগে সমস্যা ও সংকটগুলোকে চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলা চলচ্চিত্র সংস্কৃতি উন্নয়ন ও লালন-পালনের সব পর্যায়ে সরকারি উদাসীনতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও রুচিবোধের অভাব, নির্মাতা-কলাকুশলীদের সৃজনশীল মেধা, শিক্ষা, দায়বদ্ধতা, সততা, আর্থ-সামাজিক জ্ঞান ও রুচির অভাব, প্রযোজক-পরিচালক-প্রদর্শকদের অতিরিক্ত লাভ-লোভী দৃষ্টিভঙ্গি, সমাজ সচেতনতামূলক সুস্থ ও নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্রের প্রতি সাধারণ দর্শকদের অনীহা, সর্বোপরি জাতীয় ঐক্যমত্যের অভাব ইত্যাদি অন্যতম। বহুবিদ সমস্যায় জর্জরিত এ অচলায়তন অতিক্রম করে বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচনা করতে তিন ধরণের উদ্যোগ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। এক. চলচ্চিত্রবান্ধব সরকারি কর্মসূচি, দুই. নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ প্রদান ও তিন. নির্মাণ-প্রদর্শন পদ্ধতির সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আব্দুর রব নাহিদঃ শনিবারের চিঠিকে সময় দেয়ার জন্য প্রাচ্য পলাশ আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রাচ্য পলাশঃ আপনাকে , আপনার পাঠক সমাজকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা। ঈদ মুবারক ।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ১৭ জুন, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ জুন ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com