বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের আংশিক ভাঙার অভিযোগে মাদ্রাসার দুই ছাত্রসহ মোট ৪ জন গ্রেপ্তার

সোমবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২০

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের আংশিক ভাঙার অভিযোগে  মাদ্রাসার  দুই ছাত্রসহ মোট ৪ জন গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. খ মহিদ উদ্দিন। ছবি সংগ্রহ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের আংশিক ভাঙার ঘটনায় সিসি টিভি ফুটেজ দেখে আটক চারজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা পুলিশ গণমাধ্যমের কাছে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়েছে।

সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মাওলানা মোহাম্মদ মামুনুল হক ও সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আবু বক্কর ও নাহিদ গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।’


সেই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. খ মহিদ উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী ইউটিউবে ভাস্কর্যবিরোধী নানা ধরনের ভিডিওর বক্তব্যে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাস্কর্য ভেঙেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের তাঁরা জানিয়েছেন।’

ভাস্কর্য নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে সারা দেশে বিক্ষোভ করছে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো।

এরই মধ্যে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা সবাই স্থানীয় ইবনে মাসউদ মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত কিংবা সেখানকার শিক্ষক। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন আবু বকর ও নাহিদ।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ড. খ মহিদ উদ্দিন জানান, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রথমে ভারত সীমান্তের দৌলতপুরের ফিলিপনগর গোলাবাড়ি নামক নিজ গ্রাম থেকে সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০) ও মিরপুর উপজেলার শিংপুর থেকে আবু বকর ওরফে মিঠুনকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। এরা কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পশ্চিমপাড়ার ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। পরে দুই শিক্ষককে আল আমিন (২৭) ও ইউসুফ আলীকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের এবং ইউসুফ আলী পাবনা জেলার আমিনপুর থানার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

ড. খ মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ ও আবু বক্কর ওরফে মিঠুন সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙবেন। তারপর গভীর রাতে তাঁদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হাতুড়ি দিয়ে ভাস্কর্য ভাঙেন।’

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় মাদ্রাসার দুই শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।

‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় পুরো দেশ যেমন ব্যথিত হয়েছে আমরা পুলিশও ব্যথিত। কারণ, আমরা এই দেশ মাতৃকার সন্তান। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদেন রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে’, যোগ করেন ডিআইজি।

গতকাল শনিবার ভাস্কর্যের আশপাশ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এই ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তবে এই গোলাগুলির ঘটনা ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’

ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনাটি সেখানকার একটি সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ভিডিউতে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৬ মিনিটে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত দুজন হেঁটে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যস্থলে আসেন। কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ওই ভাস্কর্যের গাঁ ঘেষে থাকা মই বেয়ে উপরে ওঠেন। এরপর পিঠে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর হাতের উঁচু তর্জনীতে আঘাত করে। পরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হাত ও মুখের অংশে ভাঙচুর করেন। প্রায় নয় মিনিট পর একই মই দিয়ে নেমে হেঁটে চলে যান তাঁরা।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ডিসেম্বর ০, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com