ফ্রান্সে ২০টি মসজিদ বন্ধ

মঙ্গলবার, ০২ আগস্ট ২০১৬

ফ্রান্সে ২০টি মসজিদ বন্ধ

Inter Nationalফ্রান্স সরকার গত সাত মাসে দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ২০টি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজেনোভ এ খবর জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজেনোভ বলেছেন, ফ্রান্সে উগ্রপন্থী মতবাদ ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘এসব উগ্রপন্থা ছড়াতে যারা মসজিদকে ব্যবহার করে, প্রার্থণার নামে ঘৃণা ছড়ায়, যারা প্রজাতন্ত্রে নীতিকে সম্মান করে না এবং যারা নারী-পুরুষের সাম্যতায় বিশ্বাসী নয় এ দেশে তাদের ঠাঁই নেই।’


তিনি আরো বলেন,‘এ কারণেই গত কয়েক মাস আগে আমি মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি মসজিদ বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে। আগামীতে আরো মসজিদ বন্ধ করা হবে।’

সোমবার ফরাসি কাউন্সিলের মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফ্রান্সে সবমিলিয়ে ২৫শ মসজিদ ও প্রার্থণা কক্ষ রয়েছে। এদের প্রায় ১২০টি সালাফিজম বা কট্টরপন্থি মতাদর্শের অনুসারীদের।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজেনোভ আরো জানান, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮০ জনকে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকজনকে বের করে দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে আগামীতে কতজনকে বহিস্কার করা হবে তিনি তার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। এছাড়া এদেরকে ঠিক কি কারণে বের করে দেয়া হয়েছে তিনি সেটিও উল্লেখ করেননি।

গতবছরের নভেম্বরে প্যারিস হামলার পরই মুসলিম বিরোধী অবস্থান নেয় ফরাসি সরকার। অতি সম্প্রতি নিস শহরে ভয়াবহ হামলার পর তাদের সেই অবস্থান আরো কঠোর হয়েছে বলেই মনে হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা সে কথারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মেনুয়েল ভলস বলেছিলেন, তার সরকার মসজিদগুলোতে বিদেশি অর্থ সহায়তা নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করে দেখছে। এসব অর্থ সহায়তা উগ্রবাদী চিন্তাধারা উৎসাহিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম নিস শহরে একটি উৎসবে লরি চাপা দিয়ে ৮৪ জনকে হত্যা করে। এর আগে প্যারিস শহর জুড়ে বন্দুকধারীদের সিরিজ হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। শুধু ফ্রান্স নয়, গত কয়েক বছরে পুরো ইওরোপ জুড়ে এরকম বেশ কটি বড় হামলা হয়েছে। এসব হামলার পর থেকেই ইওরোপ জুড়ে সতর্ক অবস্থা জারি রয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের মুসলিম কাউন্সিলের প্রধান আনুয়ার কিবেখ বলেছেন, মসজিদগুলোতে অর্থ বরাদ্দ দিতে এক মাসের মধ্যে নতুন একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হবে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / আগস্ট ০২, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ আগস্ট ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com