ফ্রান্সে বুর্কিনি পরায় মুসলিম নারীকে পুলিশি হেনস্থা

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৬

ফ্রান্সে বুর্কিনি পরায় মুসলিম নারীকে পুলিশি হেনস্থা

বিবিসি, বাংলাঃ ফ্রান্সে মুসলিম মহিলাদের সাঁতারের পোশাক বুর্কিনি নিষিদ্ধ করা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই পটভূমিতে ফরাসি পুলিশকে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দেখা গেছে। সে সময়কার একটি ছবিও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

ওই ছবিতে দেখা গেছে, বুর্কিনি পরার জন্য সমুদ্রসৈকেত ফ্রান্সের পুলিশ একজন মহিলাকে জরিমানা করছে।


তারপর ওই মহিলা নিজের বোরখা সরাচ্ছেন এবং তার দেহের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে।

ফরাসি রিভিয়েরার সৈকত শহর নিস-এর মেয়র দাবি করেছেন, গত মাসে সেখানে বিধ্বংসী সন্ত্রাসী হামলার পর বুর্কিনি নিষিদ্ধ করা ‘অত্যন্ত জরুরি’ হয়ে পড়েছে।

কিন্তু বুর্কিনি নিষিদ্ধ করা নিয়ে ফ্রান্সে বিতর্ক যে রকম ‘বিপজ্জনক মোড়’ নিচ্ছে তাতে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে সে দেশে মুসলিমদের সংগঠন ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব দ্য মুসলিম ফেইথ’।

তাদের বক্তব্য, এর ফলে ফ্রান্সে মুসলিমদের কলঙ্কিত করার প্রবণতা বাড়বে বলেই আশঙ্কা করার কারণ আছে।

বিকিনি বনাম বুর্কিনি

বিকিনি বনাম বুর্কিনি

তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন। সেই আবেদনের শুনানি হবে আজ বৃহস্পতিবার।

নিসের সমুদ্রসৈকতে যেখানে পুলিশকর্মীদের বুর্কিনি পরার জন্য জরিমানা করতে দেখা গেছে, সেই ঘটনাস্থলের খুব কাছেই গত ১৮ জুলাই ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসে জিহাদি হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

নিস শহরের মেয়র রুডি স্যালস বলেছেন, বুর্কিনির মতো পোশাক পরে সমুদ্রসৈকতে আসাটা ওই এলাকার মুসলিমদের ‘রেওয়াজ নয়, অভ্যাসও নয়’।

ফ্রান্সের আর একটি মুসলিম অধিকার গোষ্ঠী ‘কালেক্টিভ এগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া’ বলছে, গত দুসপ্তাহের ভেতর ১৪জন মহিলাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় জরিমানা করা হয়েছে।

এই গোষ্ঠীর বক্তব্য, ওই মহিলারা বুর্কিনি নয় – বরং হেডস্কার্ফ, টপ ও লেগিংস পরেছিলেন মাত্র।

সম্প্রতি ফ্রান্সের মোট ২০টি পুরসভা এলাকায় এই বিতর্কিত সাঁতারের পোশাক নিষিদ্ধ করে নির্দেশ জারি করা হয়, তবে তখন থেকেই এ নিয়ে তীব্র বাগবিতন্ডা চলছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / আগস্ট ২৫, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com