ফেঁসে যাচ্ছেন শিশু নির্যাতক কম্পাউন্ডার দুলাল মিয়া

বুধবার, ২২ জুলাই ২০১৫

ফেঁসে যাচ্ছেন শিশু নির্যাতক কম্পাউন্ডার দুলাল মিয়া

 

Barislবরিশাল: বরিশাল শিশুসদনের দুই শিশুকে নির্যাতন অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।


খুব শিগগিরই ওই তদন্ত প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনকারী বরিশাল শিশুসদনের (উত্তর) কম্পাউন্ডার মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিরও সুপারিশ রাখা হবে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানান, দুই শিশু নির্যাতনের যে ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল এ থেকেই তদন্ত কমিটি নির্যাতনে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া শিশুসনদে কর্মরত একাধিক কর্মচারী এবং কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলে অভিযোগের প্রমাণ মিলিছে।

যদিও জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর বাইরে কিছু বলতে নারাজ জানিয়ে বলেন, ‘আগামি ২/১দিনের মধ্যে প্রতিবেদনটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে জেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে দীর্ঘক্ষণের আলাপচারিতায় অভিযোগ প্রমাণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত কম্পাউন্ডার মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে বিভাগীয় এবং পরবর্তীতে শিশু নির্যাতন আইনেও মামলা দায়ের করা হতে পারে। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কম্পাউন্ডার দুলালের ভবিষ্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্তও নিতে পারে দপ্তরটি। পাশাপাশি শিশু নির্যাতন আইনিও তার সাজা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত কম্পাউন্ডার দুলাল মিয়াকে অনেক আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

বিষয়গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) জুলফিকার হায়দার বুধবার রাতে বাংলামেইলকে জানান, যদি কোন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে শিশু নির্যাতন আইনের ২০১৩এর ৭০ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি তাকে উভয় দণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।

সঙ্গত কারণে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু নির্যাতনের এই অভিযোগেই ফেঁসে যাচ্ছেন বরিশাল শিশুসনদের কম্পাউন্ডার মো. দুলাল মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টায় বরিশাল সরকারি শিশুসদনের দুই শিশুর ডালিয়া (১০) এবং আঁখি (৯) ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় একই দপ্তরে কর্মরত কম্পাউন্ডার দুলাল মিয়া। অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা ওই নির্যাতনের ৩ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়টি ভিডিওসহ একটি সংবাদ অধিক গুরুত্ব দিয়ে (১৪ জুলাই) মঙ্গলবার প্রকাশ করে অনলাইন দৈনিক বাংলামেইল নিউজপোটাল। ফলশ্রুতিতে বিষয়টি চাউর হয়ে গেলে ওই নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

যে ঘটনায় ওইদিন গভীর রাতে নির্যাতনকারী বরিশাল সরকারি শিশুসনদের কম্পাউন্ডার মো. দুলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন ১৫জুলাই সকালে ঘটনা তদন্তে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্যাহ আল মামুন প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

অবশ্য এদিনই ঢাকা থেকে সড়ক পথে বরিশালে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং নির্যাতিত দুই শিশুর সঙ্গে কথা বলেন দপ্তরটির পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) জুলফিকার হায়দার।

পরে একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে ১৫ জুলাই রাতে শোকজ করে বিষয়টির ব্যাখ্যা লিখিত আকারে চেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

ওই দুই কর্মকর্তা হলেন-বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজ কুমার ঘরামি ও সরকারি শিশু পরিবার বালিকা (উত্তর) উপ-তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত আরা খানম।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২২ জুলাই ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com