ফিলিপাইনের ব্যাংকেও সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল

বুধবার, ১৬ মার্চ ২০১৬

ফিলিপাইনের ব্যাংকেও সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল

ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউউইয়র্কে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট হওয়া অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার সময়ে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট শাখার সিসি ক্যামেরা সচল ছিল না। ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ইনকোয়ারার মঙ্গলবার সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর তেয়োফিসতো গুংগোনাকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।

ফিলিপাইনের ইতিহাসে বৃহত্তম এ অর্থ পাচারের ঘটনা অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বেশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে দেশটির অর্থ সম্পর্কিত সিনেট কমিটিও। মঙ্গলবার এ নিয়ে সিনেট কমিটিতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি অর্থ লোপাটে সম্পৃক্ত ৫ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি শুনানিতে ওই ব্যাংকের ম্যানেজার সান্তোস দিগুইতাকেও ডেকেছে।


সংবাদ মাধ্যমকে সিনেট কমিটি চেয়ারম্যান বলেন, সিসি ক্যামেরা সক্রিয় না থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক। ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা অকার্যকর থাকার তথ্য সিনেট কমিটিকে অবহিত করে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল। এ তদন্ত সংস্থা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দেয়ার কথা বলেছে।

দ্য ইনকোয়ারার প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য মতে, ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের ৮১ মিলিয়ন ডলার মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট রিজাল ব্যাংকের ব্রাঞ্চে ব্যক্তিগত চার অ্যাকাউন্টে আসে। ওই অর্থ ৯ ফেব্রুয়ারি তোলা হয়। ওই দিনও ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা সচল ছিলো না।

রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাটের এ অর্থ রিজাল ব্যাংক থেকে দ্রুত সরানোর রহস্য উদ্ধারে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দরকার বলে মনে করছে সিনেট কমিটি। ওই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার সান্তোস দেগুইতা অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত কিনা অথবা ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো তাকে ‘বলির পাঠা’ বানাতে চাচ্ছেন তা পরিষ্কার হবে ওই ফুটেজে।

উল্লেখ্য, সুইফট কোর্ড ব্যবহার করে অর্থ লোপাটের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিলিং রুমে স্থাপিত দুই সিসি ক্যামেরাও ‘নষ্ট’ ছিল বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। লোপাটের ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে একটি শাখায়। সে অর্থ তুলে নেয়ার সময় ফিলিপাইনের ব্যাংকটির শাখার সিসি ক্যামেরাও বন্ধ থাকার তথ্য প্রকাশ পেল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ব ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১০১ মিলিয়ন ডলার খোঁয়া যায়। এ অর্থের ৮১ মিলিয়র যায় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। সেখান থেকে তুলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে বৈধ করা হয়। একটি অংশ বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।

বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলংকার একটি ব্যাংকে। প্রাপক সংগঠনের নামের বানানে ভুল থাকায় ব্যাংক কর্মকর্তারা আটকে দেন ওই অর্থ। তথ্যসূত্র: দ্য ইনকোয়েবার

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ মার্চ ১৬, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৬ মার্চ ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com