ফার্গুসনঃ জীবনের সাথে মিশে আছে বর্ণবিদ্বেষ

বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৪

ফার্গুসনঃ জীবনের সাথে মিশে আছে বর্ণবিদ্বেষ

 

মাইকেল ব্রাউন

মাইকেল ব্রাউন

শনিবার রিপোর্টঃ সিন জ্যাকসন বাবা হওয়ার সময়ই জানতেন, ছেলেকে শেখাতে হবে, পুলিশের সঙ্গে কী করে কথা বলতে হয়। আরো শেখাতে হবে, গ্রেপ্তার এড়ানোর ফন্দি-ফিকির। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরতলির কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনযাপন এমনই। কৃষ্ণাঙ্গ মাইকেল ব্রাউন হত্যার ঘটনায় গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শহরটি এখন চরম উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। যে শেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে ব্রাউনের মৃত্যু হয় তাকে দোষী করার মতো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে জুরি। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ।  এএফপি।


 পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা আর বর্ণবাদের অভিযোগ আনা শহরের আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটি।

বয়স পঁয়তাল্লিশের জ্যাকসন বলেন, ‘এ বিষয়টিই বেশির ভাগ মানুষ বোঝে না। কৃষ্ণাঙ্গরা ফার্গুসনে গাড়ি চালাতে ভয় পান। কারণ যেকোনো সময় পুলিশ তাকে নিয়ে টানাহিঁচড়ে শুরু করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ হলে ‘যেকোনো সময় আপনার মৃত্যু হতে পারে, জেলে যেতে পারেন বা জরিমানা গুনতে হতে পারে। রোজকার জীবনে এ ভীতি মজার বিষয় নয়।’

 গত আগস্টে ব্রাউনের মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করছে। সোমবারের ওই রায়ের পর ভাঙচুর, লুটপাটের মতো সহিংসতা শুরু করে তারা। জ্যাকসন বলেন, তিনি বহুবার পুলিশের হাতে নাজেহাল হয়েছেন। কাজেই ছেলেকে বিষয়টি খুব ভালো ভাবে শিখিয়েছেন যে, পুলিশ থামালেই ‘জি হুজুর, জি হুজুর’ করে বিপদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। ‘পুলিশের হাতে খুন হওয়া ঠেকাতে এসব তো ছেলেদের শিখাতেই হয়।’ তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সংস্কারগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে তাঁদেরটি অন্যতম। ‘কিছুই দেখিনি_এমন একটা ভাব নিয়ে চলতে এখানকার মানুষ অভ্যস্ত। তবে বাইরের লোকদের চোখে খুব সহজেই বিষয়টি ধরা পড়ে।

 যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিসটিকস জানায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত দুই হাজার ৯৩১টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা বেশির ভাগই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। নিহতদের ৩২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। যদিও মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।

বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, শেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিকদের ট্রাফিক তল্লাশির সময় অন্তত তিন ভাগ বেশি থামানো হয়। প্রতি তিনজন আফ্রিকান আমেরিকানের মধ্যে অন্তত একজনকে জীবনে একবার হলেও জেলে যেতে হয়। শেতাঙ্গ সহপাঠীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হয় কৃষ্ণাঙ্গ স্কুল শিক্ষার্থীরাও।

ডারেল আলেক্সন্ডার (৫৬) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত নার্স জানান, ‘কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হওয়ার কারণে আমি জানি, যেকোনো সময় আমাকে গুলি করা হতে পারে। ন্যায়বিচার মেলে না, ফলে তরুণরা ক্ষুব্ধ এবং তাদের ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার আছে। অন্ধ বর্ণবিদ্বেষ এটা।’

‘বিচার নেই, শান্তি নেই’ লেখা টিশার্ট পরা এম জেড টে মনে করেন, চলমান পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com