ফারুকীর ছবি বাস্তবে! টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ এ গ্রামে

সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ফারুকীর ছবি বাস্তবে! টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ এ গ্রামে

শরীয়তপুর: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’ এর গল্পটা শুধুই গল্প নয়, বাস্তব! হ্যাঁ, ঠিক একই ধরনের গ্রাম খুঁজে পাওয়া গেল শরীয়তপুরের সদর উপজেলার বড়াইলে। এখানে টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখতে পারছেন না এ গ্রামের বাসিন্দারা। ইচ্ছে থাকলেও এক মাওলানার রোষানলে পড়ার ভয়ে অলিখিত এ ফরমান মানছেন গ্রামবাসী।

শরিয়ত লঙ্ঘনের অজুহাতে টেলিভিশন দেখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এখানে। যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, টেলিভিশন দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েজ। অলিখিত এ ফরমান জারি করেন স্থানীয় নূরানী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল হাই মুন্সী।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামে ১৬ বছর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রের ব্যবহারও আছে এ গ্রামে।  নেই শুধু টেলিভিশন।

এলাকাবাসী এ প্রতিনিধিকে জানায়, বড়াইল গ্রামের উন্নয়নে আবদুল হাই মুন্সীর অনেক অবদান রয়েছে। তিনি জীবিত থাকতে এ গ্রামে কেউ টেলিভিশন দেখতে পারবে না। এছাড়া বড়াইল গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো পুরুষ শিক্ষকও চাকরি করতে পারেন না। যদি কোনো পুরুষ শিক্ষক বিদ্যালয়ে চাকরি করতে চান তাহলে তাকে মসজিদ ও মাদরাসা কমিটি থেকে বাধা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আবদুল হাই মুন্সী বলেন, ‘আমার গ্রামে কোনো টেলিভিশন চলবে না। টিভি দেখা না জায়েজ। তাই এলাকাবাসী আমার কথা শুনে টিভি দেখা বন্ধ রেখেছেন।’

শরীয়তপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ৯০ শতাংশ অনুষ্ঠান দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে না জায়েজ। কিন্তু ১০ শতাংশ দেখা জায়েজ। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব ধরনের অশ্লীল সিনেমা দেখা যায়। আর সেই ফোন যদি পকেটে রেখে নামাজ পড়তে পারে, তাহলে টেলিভিশন ঘরে রাখতে সমস্যা কোথায়?’

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com