করোনাভাইরাসঃ

প্রায় দু’শো বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারালো অর্ধ লাখ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

প্রায় দু’শো বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারালো  অর্ধ লাখ
চার বাংলাদেশি মহিউদ্দিন, বাবলী নেওয়াজ, ফরিদ আহমেদ ও মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে প্রাণহানি ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। আমেরিকার কোনো কোনো স্টেটে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও সার্বিকভাবে এখনো আমেরিকায় করোনার ভয়ঙ্কর থাবা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ছেন। একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ এমন অসহায়ভাবে মারা যাবে তা কারো কল্পনায় ছিল না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার। যেভাবে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আশার কথা হচ্ছে এক সময় আমেরিকায় এক থেকে দেড় লাখ মানুষ মারা যাবার কথা বলা হলেও মৃতের পরিমাণ আরও কম হতে পারে। বিশেষজ্ঞ মত, ৬০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ২১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ৪০৩ জন এবং নার্সিং হোমে ৩৫ জন।


নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল মৃত্যুর তালিকায় আরও ৪৩৭ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন বাংলাদেশির নামও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তাঁরা হলেন মিজানুর রহমান, ফরিদ আহমেদ ছাইদুল, বাবলী নেওয়াজ ও মহিউদ্দিন। এ নিয়ে আমেরিকায় করোনায় ১৯৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হওয়া বাবলী নেওয়াজ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের সহসভাপতি ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল ভোরে জ্যামাইকার কুইন্স হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি জ্যামাইকায় বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। দুই সন্তান মুনমুন নেওয়াজ ও তৃণা নেওয়াজ এবং এক নাতনিকে রেখে গেছেন। বাবলী নেওয়াজের মৃত্যুতে নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক সমাজে শোকের ছায়া মেয়ে এসেছে।

এরই মধ্যে আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এখন মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৯৯-তে এবং করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৯০ জন। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার করে নতুন সংক্রমণের রোগী হাসপাতালে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে দিনে ২০ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে। অচিরেই এ টেস্টের সংখ্যা ৪০ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন।

গভর্নর কুমো বলেছেন, তিনি নির্বাহী আদেশে রাজ্যের ফার্মেসিগুলোতে করোনাভাইরাস টেস্টিং সুবিধা বিস্তৃত করছেন। ফার্মেসিগুলো টেস্টিং উপাত্ত গ্রহণ করে ল্যাবে পাঠাবে। ল্যাব থেকে টেস্টিং করে ফলাফল ফার্মেসিতে ফেরত পাঠাবে। ফলে দ্রুত রাজ্যের অধিকাংশ মানুষের জন্য করোনাভাইরাস টেস্টিং সুবিধা বিস্তৃত হবে। নগরীর ফার্স্ট রেসপন্ডার, জরুরি বিভাগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেস্ট করা হচ্ছে। এরপরই এমটিএ, পুলিশসহ সামনের সারির জরুরি কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে টেস্টিং করা হবে। দ্রুতই নিউইয়র্কের সর্বত্র টেস্টিং সুবিধা সহজলভ্য করা হবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন।

নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও জানিয়েছেন, নগরীতে করোনায় আক্রান্ত মানুষের গড় বয়স দেখা গেছে ৫১ বছর। নগরীতে আক্রান্তের মধ্যে ৫২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮ শতাংশ নারী বলে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ এপ্রিল ২৯২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com