প্রবাসীদের নিউইয়র্ক -ঢাকা রুটে বিমান চালুর দাবী

রবিবার, ৩১ মে ২০১৫

প্রবাসীদের নিউইয়র্ক -ঢাকা রুটে বিমান চালুর দাবী

 

বর্ণমালা নিউজ ,নিউইয়র্কঃ বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার আপাত অবসানের কারণে ব্যাপকহারে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে যাবার প্রস্ততি নিচ্ছেন। হরতাল-অবরোধ, পেট্রল বোমা সন্ত্রাসের কারনে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যারা গত বছর দেশে যেতে পারেননি তারা এবার দেশে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দেশে যেতে শুরু করবেন বলে কথা বলে জানা গেছে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এমিরেটস এয়ার লাইন্সের টিকিটের দাম মাত্র ৯০০ ডলার হবে যখন তখন এর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন ট্রাভেল ব্যবসার সাথে জড়িতরা।


জুন-জুলাইর ব্যস্ত মওশুমে প্রায় ১৪০০ ডলার মূল্যে টিকিট কেটে দেশে যাচ্ছেন সবাই । বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর দেশে যাবার প্রবণতা শুধু তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা ও গ্রীষ্মৈর ছুটি কাটানো হলেও এটি এখন বাংলাদেশের পর্যটন খাতেরও একটি বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়ালেও এর প্রতি নজর নেই সরকার বা পর্যটন পরিদপ্তরের। স্বদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে তাই ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান পুনরায় চালু করা উচিৎ বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিতরা¡ বিমানের নিউইয়র্ক রুট চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও দীর্ঘদিন দীঘ একযুগ অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের আযম শিকদার গত ১৬ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ২০১৪ সাল ছাড়া প্রতিবছরই তিনি পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে তার নিজ জেলা চট্টগ্রামে ঘুরতে যান। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছর তিনি দেশে যেতে পারেননি। আযম শিকদার জানালেন, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার দুই সন্তানের স্কুল ছুটি হবে প্রায় দুই মাসের জন্য। এই সময়টা তিনি বাংলাদেশে কাটাবেন। এরই মধ্যে তিনি টিকিট করে ফেলেছেন।

পেনসালভেনিয়ার রুমানা হক এরই মধ্যে বাংলাদেশে থাকা পরিবার আর প্রিয়জনদের জন্য কেনা-কাটা শেষ করে ফেলেছেন। তিনিসহ তার আরও তিন বান্ধবীও তাদের পরিবার নিয়ে দেশে ঘুরতে যাচ্ছেন। মৌলভীবাজারের মেয়ে রুমানা জানালেন, গত জানুয়ারিতে ছোট বোনের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতা আর হরতাল-অবরোধের কারণে দেশে যাবার সাহস পাননি। আর তাই বোনের বিয়েও পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। জুলাই মাসে বোনের বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। দেশে এখন হরতাল-অবরোধ নেই বলে তিনি খুশী।

ওয়াশিংটনে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেন রমেশ মজুমদার। পেশায় শিক্ষক। এবার তিনি চার বছর পরে আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশে যাবার পরিকল্পনা করেছেন। যদিও গত ডিসেম্বরে তার দেশে যাবার খুব দরকার ছিল। কিন্তু যেতে পারেননি রাজনৈতিক হানাহানির কারণে। পরিবার নিয়ে তিনি দেশে যাওয়া নিরাপদ মনে করেননি। এখন আর তার সেই শঙ্কা নেই।

একাধিক ট্রাভেল এজেন্সীর মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা টিকিট বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ প্রায় সব প্রবাসীই চাচ্ছেন জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশে যেতে। ফলে সবার জন্য ওই একই সময়ে চাহিদামতো টিকিট দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তারা জানান, গত বছর তারা যে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন, এবার হয়তো সেটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

একাধিক মানি একচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই দেশে যাবার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। অনেকেই আবার দুটো ঈদই দেশে করে ফিরে আসার পকিল্পনা করছেন। ফলে কোরবানির ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন।

এদিকে, দেশে যেতে ইচ্ছুক নিউজার্সির আব্দুল ওয়াদুদ, ব্রঙ্কস এর আজাদ রহমান, জ্যামাইকার আহমেদ রুবেল অভিযোগ করেছেন, ট্রাভেল এজেন্সীগুলো সুযোগ বুঝে টিকিটের এয়া লাইন্স নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দাম চাচ্ছে। যেটা প্রবাসীদের সাথে প্রতারনা বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে এটা প্রবাসীদের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে বাণিজ্য করার শামিল।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ব বৃহৎ বাংলাদেশী মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সী ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলসের কর্ণধার নাজমুল হুদার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের বাইরের ট্রাভেল এজেন্সীগুলোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা যেতে পারে কিন্তু নিউইয়র্কে প্রচন্ড প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অনেকেই এয়ার লাইন্সের ধরে দেয়া মূল্যের চেয়ে ১২/২০ ডলার কমে টিকিট বিক্রি করছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। অবশ্য এই ১০/২০ ডলার বাঁচাতে গিয়ে ক্রেতারা অনেক সময় বিমান বন্দর থেকে ফিরে আসছেন বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তারা বললেন নাজমুল হুদা। আর তাই এআরসি বা আইএটিএ সদস্য ছাড়া সাধারন ট্রাভেল এজেন্সীর কাছ থেকে টিকিট কিনে প্রতারিত না হতে আহ্বান জানিয়েছেন নর্থ আমেরিকা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ট্রাভেল এজেন্সীর সভাপতি ও এজেন্সী ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলসের কর্ণধার নাজমুল হুদা।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বারবার প্রতিশ্রুতি সত্বেও ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালু না হওয়ায় ক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। তারা মনে করেন শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি ‘এ’ করার জন্য আন্তর্জাতিক যে চাপ রয়েছে সেটা সঠিক। বছরের পর বছর সময় পেয়েও ‘এ’ ক্যাটাগরীতে উন্নীত না হতে পারা সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা বলেও তাদের মত।

উল্লেখ্য ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ‘এ’ ক্যাটাগরি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানের প্রমানের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। যার বেশ কিছু এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হলেও বাকী রয়েছে আরও অনেক কাজ। যে কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ করা যায়, প্রতি বছরই জুন মাস থেকে শুরু জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে সামার ভেকেশন থাকে। বছরে একমাত্র এই সময়টাতেই সবাই পরিবার নিয়ে দেশে যাবার বা অন্য কোথাও ঘুরতে যাবার পরিকল্পনা করে থাকেন।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৩১ মে ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩১ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com