প্রথম বিতর্কে হিলারির কাছে ধরাশায়ী ট্রাম্প

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

প্রথম বিতর্কে হিলারির কাছে ধরাশায়ী ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্টঃ  আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করেছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। বিতর্কে হিলারির বাক্যবাণের কাছে ট্রাম্প ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। প্রতিটি বিষয়েই হিলারির যুক্তির কাছে ধোপেই টেকেনি ট্রাম্পের অপ্রস্তুত বক্তব্য।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টায় নিউইয়র্কের হেম্পস্টেড শহরের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ৯০ মিনিটের এ বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেলই সরাসরি সম্প্রচার করে। বিতর্ক সঞ্চালনা করেন দেশটির এনবিসি টেলিভিশনের উপস্থাপক লেস্টার হল্ট। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের বিতর্কের ৯০ মিনিট সময়কে প্রায় ১৫ মিনিট করে ছয়টি ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বিতার্কিকরা দুই মিনিট করে সময় পান।


হিলারি ক্লিনটনের প্রচার দলের এক কর্মকর্তা বিতর্কের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিক ডটকমকে বলেন, এটিই মনে হয় সবচেয়ে ভারসাম্যহীন বিতর্ক। বিতর্কের সময় হিলারি ক্লিনটন ছিলেন শান্ত ও হাস্যোজ্জ্বল। অন্যদিকে জেদি ও একরোখা মনোভাব প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

বিতর্ক শেষ হওয়ার পর হিলারি ক্লিনটনের প্রচার দলের রবি মুক সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পকে বারবার নিজের পায়ে গুলি করার সুযোগ দিয়েই (আত্মঘাতী বক্তব্যের) বিতর্কে জিতেছেন হিলারি ক্লিনটন। বিতর্কের পুরো সময়টাই হিলারি ছিলেন শান্ত এবং ধৈর্যশীল। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী হিলারির অতীত অবস্থান নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করেছেন। আবার হিলারির কথায় বারবারই উত্তেজিত হয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অতীত টেনে হিলারির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন।

হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কের দুজনের বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি :

নেতৃত্ব দেওয়ার শারীরিক সক্ষমতা
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁর (হিলারির) শারীরিক সক্ষমতা নেই। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজন।’

এমন মন্তব্যের উত্তরে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘১১২টি দেশ ঘুরে, শান্তিচুক্তি, অস্ত্রবিরতি, ভিন্নমতাবলম্বীদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা করে অথবা ১১ ঘণ্টা কংগ্রেশনাল কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তিনি (ট্রাম্প) আমার সঙ্গে শারীরিক ক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে পারেন।’

খারাপ অভিজ্ঞতা
বিতর্কের একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারির অভিজ্ঞতা আছে, তবে খারাপ অভিজ্ঞতা।’

বিতর্কের অনেক প্রস্তুতি
বিতর্কের প্রস্তুতির জন্য ট্রাম্প তাঁর সমালোচনা করছেন দাবি করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি প্রস্তুতি নিয়েছি। আপনারা জানেন, আমি আর কী প্রস্তুতি নিয়েছি? প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তুতি। এবং আমি মনে করি এটি ভালো বিষয়।’

আপনার নিজস্ব বাস্তবতা
ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তিতে সমর্থন দেওয়ায় হিলারির সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আপনি নিজের বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করেন, কিন্তু এগুলো প্রকৃত বাস্তবতা নয়।’

একটি বর্ণবাদী মিথ্যা  
হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম নিয়ে বর্ণবাদী মিথ্যা বিতর্কের ইতি টানতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ তিনিই (ট্রাম্প) বিতর্ক শুরু করেছিলেন, আমাদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট মার্কিন নাগরিকই নন।

করের হিসাব এবং ই-মেইল বিতর্ক
হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘এমন কোনো কারণ নেই যে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে, তিনি (ট্রাম্প) কর প্রদানের হিসাব দেবেন। তিনি কিছু একটা লুকাচ্ছেন।’

এর উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁর (হিলারি) মুছে দেওয়া (ডিলিট করা) ৩৩ হাজার ই-মেইল প্রকাশ করা হলে, আমি আইনজীবীদের ইচ্ছায় আমার কর প্রদানের হিসাব প্রকাশ করব।’

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে বিতর্ক
হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ধনীদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আবার আসবে। এটি হবে সবচেয়ে ভয়াবহ রকম। ’

অন্যদিকে হিলারির অর্থনীতিক পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতিবিদের কথা, কোনো পদক্ষেপ নেই। এটি কাজ করবে না। এটি কখনোই ঘটবে না। ’

বিশ্ব পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সময়ের মিত্র দেশগুলোকে নির্দেশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব মিত্রকে সহায়তা করতে চাই, কিন্তু আমরা এ জন্য শতকোটি ডলার হারাচ্ছি। আমরা বিশ্বের পুলিশ হতে পারি না, সারা বিশ্বের দেশগুলোকে আমরা রক্ষা করতে পারি না। আমাদের যা প্রয়োজন, তা দিচ্ছে না তারা। ’

মধ্যপ্রাচ্য এক বিশৃঙ্খলা
হিলারিকে উদ্দেশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকান। এটি পুরোপুরি বিশৃঙ্খল, যার বড় অংশই ঘটেছে অপনার সময়ে। আপনি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ধ্বংসের কথা বলেন, অথচ এটি যখন ছোট ছিল তখন আপনিই ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন আইএস ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আপনি আইএস থামাবেন। আমি তা মনে করি না।’

আইএসকে পরিকল্পনা বলে দেওয়া
শত্রুকে সব পরিকল্পনা বলে দিয়েছেন বলে হিলারির প্রতি অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যা করতে চান তার সবই শত্রুদের বলে দিয়েছেন। ’

হিলারি উত্তরে বলেন, ‘না, আমরা এটি বলিনি।’

হিলারিকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
বিতর্কের শেষ পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করতে চাই আমি। আমি এটা করতে পারব। হিলারিকে বিশ্বাস করি না আমি। তবে তিনি (হিলারি) জিতলে তাঁকে পুরোপুরি সমর্থন দেব আমি।’

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / সেপ্টেম্বর ২৮,  ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com