ছোট গল্পঃ

প্রতারক

শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১

প্রতারক
প্রচ্ছদঃ সংগৃহীত

নারকেলের পাতা হাওয়ার সাথে বারবার টক্কর খেয়ে সরসর করে কেমন যেন একটা অদ্ভুত শব্দ তৈরি করছে। কনকনে হাওয়া গায়ে পিনফুটানো ঠান্ডার অনুভূতি থেমে থেমে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ভালো করে চাদরটাকে গায়ে জড়িয়ে নেয় আলি। মুখটা ভালো মতো ঢেকে নিয়ে নদীর বুক থেকে জন্মানো স্রোতের দিকে বিভোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে। এরা সবাই চলমান। চলছে নিজে থেকেই। চলতে দায়বদ্ধ যেন। হাবভাব এমনই যেন এক্ষুনি এক সেকেন্ড দেরি হলেই তার শেষ আটটা পাঁচের ট্রেনটা ছুটে যাবে। মনে মনে হাসে সে, তার ইচ্ছে হয় যদি সে নদীর স্রোত হতো তবে এক্ষুনি জন্মে কয়েক সেকেণ্ড বাঁচার শ্বাস নিয়ে কাবাডি কাবাডি বলে বালির চাদরটাকে একটুখানি ছুঁয়েই আজীবনের স্বাদ নিয়ে জীবন থেকে বিদায় নেওয়া যেত। কয়েক সেকেন্ডের জীবন তার তো একটা দাম আছে। কারও এগিয়ে আসার শব্দে পেছন ফিরে তাকাতেই ধক করে উঠে তার বুক। একটা কালো ছায়া গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে তার দিকে। ক্রমশ এগিয়ে এসে একটা চাদরে ঢাকা মানব অবয়ব এ পরিণত হল।
আলী একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ খিলিখিয়ে হেসে উঠল অবয়বটা। হাসিটা তার বড্ড চেনা কিছুদিন থেকেই একা থাকলেই কানে বেজে ওঠে, আর সাথে সাথে মনের ভেতরের আগুনে জল ঢেলে মনটাকে শান্ত করিয়ে দেয়।
-‘এত দেরী কেন?’
-‘আর বলিওনা, মোড়ে দাদা দাঁড়িয়ে ছিল। ওর চোখে ধুলো দিয়ে আসতে হলো তাই একটু সময় লাগল।’
-‘তুমি কিছু বলতে!’
-‘হ্যাঁ বলতাম, বলে মুখ নিচু করে নেয় সাকিনা।’
হঠাৎ নদীর দিক থেকে একটা কনকনে ঠান্ডা হাওয়া দুজনকে নাড়িয়ে দিয়ে ছুঁয়ে চলে গেল।
-‘তুমি আমার পেছন করো কেন? বারবার দেখো কেন?’
-‘এটা জিজ্ঞাসা করার জন্য ডাকলে এখানে?’
নিশ্চুপ থেকে পা দিয়ে বালিতে দাগ কাটতে থাকে সাকিনা।
-‘আমি তোমাকে পছন্দ করি।’ বলেই মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যায় আলির।
সাকিনা মুখ তুলে তার লজ্জায় লাল মুখটার দিকে একঝলক তাকিয়ে মুখ নামিয়ে মুখ টিপে হাসে। মনে মনে ভাবে যাক এত দিনে মনের মতো একজনকে পাওয়া গেছে।
-‘আমিও।’ বলে আগের মতোই বালিতে আঁকিবুকি করতে মন দেয়।
আলি বুঝতে পারে সাকিনার লজ্জা করে ওটাকে লুকানোর জন্য এরকম করছে। মেয়েরা এরকমই হয়, নিজের ইচ্ছে, লজ্জা, অভিমান, রাগ সবই লুকিয়ে রাখে। এসব প্রকাশ করা যেন তাদের কাছে অপরাধের।
‘চলো ফেরা যাক, বেশি দেরি করা যাবে না কেউ দেখে ফেললেই সমস্যাই পড়ে যাব।’
-‘আচ্ছা তোমার সাথে তো রোজ দেখা করা যাবে না? মনে পড়লে কি করব?’
-‘আমিও এটাই ভাবছি। বাড়িতে ফোন আছে?’
-‘হ্যাঁ, বাড়ির, আমার নয়।’
-‘নম্বরটা নাও আমার, বাড়ি গিয়ে ফোন কোরো।’
একটা পেন এগিয়ে দেয় আলি। সাকিনা তাড়াতাড়ি জামার হাত কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে নিয়ে তাতেই লিখে নিলো আলির নম্বর।
বাড়ি ফিরে, দেখে সবাই যে যার কাজে। তাড়াতাড়ি নিজের ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা আটকে সাকিনা চোখ বন্ধ করে। বারবার তার সামনে ভাসতে থাকে আলির লজ্জায় লাল মুখটা। এটা মনে করেই সে নিজেই নিজের কাছে আরো লজ্জা পায়।
ওদিকে আলি সাহেবের দোকানে গিয়ে দাঁড়াতেই আলফাজ মুখোমুখি দাঁড়ায়।
-‘কিরে! বাটপার! পারলি আমার ভালোবাসাকে পটাতে?’
আলফাজ আর সাকিনার সম্পর্কে গোটা গ্রাম জানে। এক শুক্রবারের বিকেলে চায়ের দোকানের আড্ডায় আলফাজ আলির কাছে নিজের ভালোবাসার বড়াই করতে থাকে –
‘আমার সাকিনা ছোট থেকেই আমার। ও কোনও দিনই আমাকে ছেড়ে অন্য কারো কাছে যাবে না।’
আলির রাগ হয় সে মেয়েদের বিশ্বাস করে না, বলে ওঠে, ‘আমি সাকিনাকে এক সপ্তাহের মধ্যে আমার করে দেখাব।’
আলফাজের গায়ে লাগে কথাটা, ‘আমি আমার ভালোবাসাকে বিশ্বাস করি, তোর মতো ফিচকা ছেলের কথাই সাকিনা আমাকে ভুলে যাবে এটা হতেই পারে না।’
-‘চ্যালেঞ্জ করছিস?’
আলফাজ চুপ করে যায়।
আলি বলেই চলে, ‘এক সপ্তাহ, শুধু এক সপ্তাহ তার পর দেখ আমি কি করি। পরের শুক্রবার তোর সাথে কথা হবে। সাকিনা তোকে নিজেই বলবে ও তোকে নয় আমাকে ভালোবাসে।’ আলি নিজের বুক থাবড়ে চিৎকার করতে থাকে।
আলফাজ মুচকি হেসে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। সাকিনার বাড়ির ব্যালকনির সামনে গিয়ে সিটি মারে। সাথে সাথে সাকিনা বেরিয়ে আসে। তার ঝলমলে মুখের খুশি দেখে সে বুকের উপরে বাঁ হাতের মুঠো দিয়ে মেরে তাকে একটা উড়ো চুমু দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
তারপরে নিয়মিত সাকিনার সাথে দুবেলা দেখা করেছে, নদীর ধারের নির্জন রাস্তায় হাত ধরে সাকিনাকে নিয়ে ঘুরেছে। পাশের গ্রামের মেলায় চুড়ি, দুল কিনে দিয়েছে। সে ভুলে গিয়েছিল আলির সাথে তার চ্যালেঞ্জ এর কথা। সে মনে মনে ভাবে তার সাকিনা তারই আছে, আর সব ঠিক আছে। ঠিক থাকবে। তার পরে হঠাৎ আজ আলিকে নদীর দিক থেকে হতভম্ব হয়ে একাই এগিয়ে আসতে দেখে, উৎকণ্ঠায় বলে ওঠে,
-‘আজ মঙ্গলবার। মধ্যে আর ২ দিন। মনে আছে কি!’
-‘হ্যাঁ আছে! বাঁচাতে পারলে বাঁচিয়ে নে নিজের ভালোবাসাকে। পারবি খাঁচায় বন্দি করতে? পারবি না। কারণ, সাকিনা আমার কাছে আসার জন্য ছটফট করছে। ৪৮ ঘন্টা এখনও আছে। আমার কাছে একটা মেয়েকে ওঠানো ২ মিনিট এর ব্যাপার ….’ ব্যঙ্গ’র হাসি হাসতে হাসতে আলি বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
আলফাজ এর কেমন যেন ভয় করে। তার বুকের ভিতর শুকিয়ে আসে সে তাড়াতাড়ি সাহেব এর কাছে জল চাই। সাহেব তাকিয়ে দেখে, মনে মনে কষ্ট পায়। তাকে পাশে বসিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। গায়ে হাত বুলিয়ে বলে, ‘তোর সাকিনার উপরে যখন বিশ্বাস আছে তখন ভয় পাচ্ছিস কেন। সাকিনা তোর, শুধুই তোর।’
আলফাজ সাহেবের হাতটা আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
প্রথমে একটা ছোট্ট রিংটোন। আলি অবাক হয়। একটা অজানা নম্বর। তখন ও রিঙ্কির ফোনে ব্যস্ত। রিঙ্কি, রসালো কণ্ঠে ওপাশ থেকে বলে ওঠে, ‘কিগো ভুলে গেলে নাকি। অনেকক্ষন কোনও খোঁজ নেই যে।’
প্রেম সত্য হোক বা না হোক কথার শুরুতে মাঝে গো শব্দের ব্যবহার অনুভূতি কে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। মনে হয় একটা দায়িত্ব পালন করতে হবে। ছেলেরা এইসব দায়িত্ব পালন করতে অভ্যস্ত।আলি হা হা হা করে হেসে ওঠে বলে, ‘একটা মুরগি খুল্লা থেকে বেরিয়ে অন্য বাড়ির খুল্লাতে ঢোকার চেষ্টা করছে। আমি মুরগি ধরতে ব্যস্ত ছিলাম।’
কথার মাঝে অচেনা নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। আলি রিঙ্কিকে, ‘পরে কথা বলছি ‘-বলে রেখে দেয়।
অচেনা নম্বর এ ফোন লাগাতেই, ওপাশ থেকে একটা মনেপ ভেতর পর্যন্ত ছুঁয়ে যাওয়া আওয়াজ কানে এসে লাগে আলির। একটা অচেনা শিহরণ তার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে। গোটা গা তার শিহরিত হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি বসে পড়ে।
-‘কে?’
-‘আমি সাকিনা।’
কিছুক্ষন দুপাশ চুপচাপ।
-‘খেয়েছো?’
-‘হুম। তুমি?’
-‘খেতে ডাকেনি। ডাকলে যাব।’
-‘ওহ আচ্ছা।’
-‘কাকিমা আজ রাতে কি রান্না করেছেন?’
-‘এইতো সবজি ভাত।’
-‘ওহ আচ্ছা। আমাকে খেতে ডাকছে, রাখি?’
-‘হুম।’
আলির ভয় করে। না জানি কেন মনের ভেতর থেকে কেউ বলে ভুল করছে সে।
সাকিনা ভয়ে ভয়ে ফোনটাকে লুকিয়ে রাখে। ভাবে কেউ যদি জেনে যায়। হঠাৎ তার আলফাজের কথা মনে হয়। আরও ভয় বাড়তে থাকে।
ধীরে ধীরে রাত বাড়ে। চারিদিক অন্ধকার চাদরে ঢাকা পড়ে। সাকিনার ঘুম আসে না। বারবার তার আলির কথা মনে পড়তে থাকে। চোখ বন্ধ করলেই আলির মুখটা ভেসে ওঠে। সে সারা রাত ছটপট করতে করতে কোনো রকমে কাটাতে থাকে।
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারেনি। বাইরে থেকে সিটির আওয়াজ বারবার কানে এসে লাগছে। একটু বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে বাইরে দেখে আলফাজ দাঁড়িয়ে। তাকে নীচে ডাকে সে।
সাকিনার কেমন যেন গা টা জ্বলে ওঠে আজ।
তবুও নীচে নেমে আসে।
-‘কি হল? সকাল সকাল!’
‘হুমম, তোমাকে রাতে ডাকলাম বেরোলে না যে!
তুমি ৭ বছরে এরকম তো একদিনও করোনি সাকিনা। তোমার শরীর খারাপ থাকলেও তুমি বাইরে এসে আমাকে দেখে তবে যেতে। এরকম কেন করলে, আমি কি জানতে পারি?’
সাকিনার মনটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তাকে নিজের কাছে নিজেকেই অচেনা মনে হয়। মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। আলফাজ অনেক রকম করেই তার মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না।
-‘শেষে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে তোমার কি অন্য কাউকে মনে ধরেছে?’
গা টা দপ করে জ্বলে ওঠে সাকিনার। সে ঝাঁঝিয়ে বলে ওঠে, ‘আমার মন আমার জীবন, পছন্দ হতেই পারে। সবের কৈফিয়ত কি তোমায় দিতে হবে?’
আলফাজ বাক্য হারিয়ে ফেলে। রাগে সে সাকিনার গালে চড় বসিয়ে দেয়।
সাকিনা রাগে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে।
আলফাজ সকাল বিকেল সাকিনার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। শিস দেয় কিন্তু সাকিনা সাড়া দেয় না।
ওদিকে আলির সাথে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তাদের প্রেমালাপ এখন আর দশ মিনিট এ সীমাবদ্ধ নয়। বরং সেটা বেড়ে দশ ঘন্টায় গিয়ে ঠেকেছে।
আলি এখন অত সময় পাই না চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে। তবুও সেদিন কি মনে হল হঠাৎ সাহেবের দোকানে গেল।আলফাজ নিজেকে না মেরে কোনও রকমে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই ক’দিনে সে ভুলে গেছে কিভাবে বেঁচে থাকতে হয়। আলিকে সামনে দেখে তার বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসে।সে ঝুকে পড়ে আলির পা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। বলতে থাকে, ‘ও আমার জীবন আলি। আমার বেঁচে থাকার কারণ, এই ভাবে ছিনিয়ে নিয়ে যাস না, আমি মরে যাব।’নারী পুরুষের ভূষণ, অহঙ্কার। কিন্তু সেই নারীই যখন তার দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় তখন সেটা অন্য কোনও পুরুষকে জানাতে নেই! পুরুষ মানুষ অন্যের অধিকৃত জিনিসের উপর একটু বেশি নজর দেয়। আর সুযোগ পেলে সেটাকে ছিনিয়ে নিতে একটুও দ্বিধা বোধ করে না। তাই নারীকে না বলতে শিখতে হয়।
(২)
শীতের শেষ বসন্ত এলো। আলফাজ নিজেকে সামলে নিয়ে বাস্তব জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে। সে এখন মানুষ চিনতে শিখেছে। নতুন ভাবে জীবন শুরু করতে যাচ্ছে আজ। যদিওবা তার এখন বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না তবুও মায়ের জোরাজুরিতে মেয়েটাকে দেখতে গেছিলো সে। বেশ শান্ত একটা ছোট্ট মেয়ে। মিষ্টি করে কথা বলে। প্রথমবার দেখেই মনে ধরে তার। তাই আর দেরি করেনি, হ্যাঁ বলে দেয় বাড়িতে।
এটা এপ্রিলের কথা। এখন জুনের শেষ। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর সাকিনাকে আর মনে পড়ে না আলফাজের। তবুও বিয়েতে নেমন্তন্ন পাঠাতে ভুল করেনি। আর সকাল থেকে এতক্ষন তার জন্যই অপেক্ষা করছিল সে।
‘আমার খুব ইচ্ছে হয় বউ সাজতে, আমি লাল বেনারসি পরব আর তুমি খয়েরী শেরওয়ানি। বিয়েতে বসার আগে আমার সাথে একবার দেখা করতে আসবে তুমি। জিগ্যেস করবে কেমন আছি। আজ কেমন লাগছে আমার। আমি লজ্জা পেয়ে কোনও উত্তর না দিয়ে তোমার বুকের উপর মাথা রেখে বলব, পাগলা বিয়ের আগে বউকে দেখতে আসতে নেই। টান কমে যায়।
হঠাৎ একদল পায়রার ডানা ঝাপটানির আওয়াজ। সাকিনা কোল থেকে উঠে গিয়ে পায়রা গুলোর উড়ে যাওয়া দেখতে থাকে।’
আলফাজ ছটপট করতে থাকে। এখনও পর্যন্ত কেন এলো না সে। অন্ততঃ একবার যদি এসে বলত, তোমাকে বর বেশে দেখার শখ মেটাতে এলাম। এসে যদি পাগড়িটাই ঠিক করে দিত না হয়। খারাপ লাগুক, ভালো লাগুক আজ যদি মুখের উপর এসে বলে দিত সেটাকেই যত্ন করে গ্রহণ করত আলফাজ। বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বন্ধুকত্বের সম্পর্কে আজও ছেদ পড়েনি। আলফাজ মনে করে সাকিনা আর যাই করুক না কেন তাদের বন্ধুকত্বকে বোধহয় আজও ভোলেনি।
কিন্তু নারি মন যে কত নিষ্ঠুর সেটা পয়গম্বরেরও বোধহয় অজানা। তার মন যেমন মায়া মমতায় পরিপূর্ণ ঠিক তার অর্ধেক নিষ্ঠুরতায় ভরা আর তাই তো সে পারে জন্মস্থান ত্যাগ করে সারা জীবন অন্যের বাঁদি হয়ে কাটাতে। আর যাই হোক মানুষের ইচ্ছেও কোনো দিন বদলে যায় ,সাকিনাও বদলে গেছে তা তার অবুঝ মন এখনও মেনে নিতে পারেনি। সাকিনা এলো না। ভাইবোনের তাড়ায় গাড়িতে গিয়ে বসতে হল তাকে।
মেন রাস্তা থেকে একটা গলি নেমে গেছে নিচের দিকে, ওই গলির শেষের বাড়িটায় সাকিনার টিউশন। মাত্র মিনিট দশেক আগে ছুটি হল তার। গলির মুখে এসে দাঁড়াতেই সামনে দিয়ে একটা সুসজ্জিত বিয়ের গাড়ি বেরিয়ে গেল। ওটা দেখে তার মনে হয় আলি একদিন তাকে এরকম একটা সুন্দর করে সাজানো গাড়িতে করে এসে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। ভাবতেই মুখটা তার লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
বাড়ি ফিরে তড়িঘড়ি আলি কে ফোন লাগায়,
-‘কি করছো?’
-‘এই তো অফিসের জন্য তৈরি হলাম। তুমি কি করছো?’
-‘পড়তে গিয়েছিলাম এখুনি ফিরলাম।’
-‘কি খেলে?’
-‘এখনও খাইনি। শুনো না, আজ আমি একটা বিয়ের গাড়ি আমার সামনে দিয়ে যেতে দেখলাম।’
-‘তো !!’
-‘তো আর কি। আমি চাই তুমিও আমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে এসো, ওরকম একটা গাড়িকে গোলাপে মুড়ে নিয়ে।’
-‘ফের বিয়ে! তোমাকে কত বার বলব, আমি এখন বিয়ে করতে পারব না। তুমি কেন অবুঝ এর মতো বারবার একই কথা বলো।’
মনটা ঘেঁটে যায় তার!
সকাল সকাল বিয়ে নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান। বেশ রাগ করেই ফোনটা কেটে দেয় আলি।
জাফর এসে বলে, ‘আলি ভাই আজ সলমনের “টাইগার ইজ ব্যাক” মুভির রিলিজ আছে! আমরা সবাই যাবো। আপনি  যাবেন? ‘
-‘হ্যাঁ যাবো। আমার জন্যও একটা টিকিট রেখো।’
আলি খুব দ্রুত ব্যাগ নিয়ে অফিস বেরিয়ে যায়।
(৩)
মাসখানেক পরে হঠাৎ একদিন সকালে ঘুম ভেঙে দেখে ঘরের বাইরে শোরগোল।
কি হয়েছে? সাকিনার মাথাটা সকাল সকাল গরম হয়ে গেল। নড়বড় করতে করতে সে নিচে নেমে আসে। তার মা কে সামনে পেয়েই চিৎকার শুরু করে,
-‘এই বাড়িতে কোনো দিন শান্তি পাওয়া যাবে না, কেন এরকম করছো তোমারা সবাই?’
ওর মা মুখ টিপে হাসে। তার শক্ত হয়ে যাওয়া হাত সাকিনার নরম গালে বসিয়ে বলে, ‘আজ বিকেলে তোকে দেখতে লোক আসছে।’
সে থতমত খেয়ে যায়। কোনো রকমে নিজেকে সামলে আলিকে ফোন করে,
-‘কি ব্যাপার আজ রাজকুমারি সকালেই উঠে গেছে যে।’
তার মুখ থেকে কথা বের হয় না। আলি যদি সামনে থাকতো তবে দেখত তার মুখের থেকেও চোখ বেশি কথা বলে। ঠিক যেমন বরফ গলা পানি সূর্যের তাপে গলে মাধ্যাকর্ষণ এর চাপে নীচে নেমে আসে নিঃশব্দ জলপ্রপাত এর মতো! তার চোখ থেকে অফুরন্ত ধারা জলপ্রপাতের মতো বইতে লাগলো। তার গর্জন, গোঙানির শব্দ শোনা যায় না। শুধু বইতে দেখা যায়।
‘আমাকে আজকে দেখতে আসছে আলি।’
কোনও রকমে কথা গুলো বলে সব কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠে সে।
আলি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে। মন ভোলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সাকিনা কিছুই বুঝতে চায় না। সে বারবার একটি কথাই বলে চলে, ‘আলি প্লিজ বাড়িতে বলো, আমাকে নিয়ে যাও। আমি অন্য কাউকে গ্রহণ করতে পারবো না। আমি আমার জীবনে তোমার জায়গা অন্য কাউকে দিতে পারব না।

‘লেখা পাঠান
শনিবারের চিঠির সাহিত্য পাতায় প্রতি শনিবার  গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী প্রভৃতি প্রকাশিত হয় ।  লেখা  পাঠাতে চাইলে আপনার লেখা সংযুক্ত করে নিচের ইমেইলে  পাঠিয়ে দিন। লেখার সঙ্গে অবশ্যই ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে হবে। ইমেইলঃ feature@thesaturdaynews.com । দুঃখিত হাতে লেখা, স্ক্যান করা লেখা গ্রহণ করা হয় না।
——————————————————————————————————–
-‘আরে পাগলি, দেখতে এলেই কি বিয়ে হয়ে যায়? আর ওরা তোমাকে শুধু দেখতেই তো আসছে! আসুক দেখে যাক। তুমি কেঁদো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। বাড়িতে কিছু জানাবে না, কেমন! আমি ফিরি, তারপর কিছু একটা করব।’
সাকিনার কষ্ট হয়। মন ভাঙার আওয়াজ কেউ কেন শুনতে পাই না। যদি পেতো, সেই আওয়াজের তীক্ষ্ণতা সুদূর মহাকাশ থেকে ছুটে আসা বড় কোনো উল্কার পতনের থেকে কোনও অংশেই যে কম নয় সেটা অনুভব করত। তখন হয়তো ভয় পেত তারা। একবারের জন্যও মনের মানুষ গুলোকে জীবন থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে।
ঠিক পাঁচটা বেজে পঁচিশ। পাঁচ জনের একটা গাড়ি এসে দাড়ালো বাড়ির মেন দরজার বাইরে। বাড়িতে একটা চঞ্চলতা দেখা দেয়। আরশাদ সাহেব তাড়াতাড়ি কুর্তার হাতা গুটিয়ে অথিতিদের আপ্যায়নে লেগে পড়েন।
সাকিনার মন ভালো নেই। সে এখনও তৈরি হয়নি। বিছানা লেপ্টে শুয়ে রয়েছে। তার বোন এসে তাকে তৈরি করে। সে যেন একটা জীবন্ত লাশ। তার নিজের সমস্ত অনুভূতি সে হারিয়ে ফেলেছিল।
নারির মন বোঝা খুব শক্ত। তারা উপযুক্ত পরিস্থিতিতে এসে ঠিক নিজেকে বদলে নেয়।
তার পরিবারের কথা ভেবে, আলির আদেশ মনে করে, সে নিজের জীবন্ত লাশটাকে তাদের সামনে রেখে দেয়।
-‘মা তোমার নাম কি?’
-‘সাকিনা সুলতানা ।’
-‘পড়াশুনা কত দূর?’
-‘বাংলা অনার্স, শেষ বর্ষ।’
পাশে থেকে আরেকজন, ‘এই কাগজে নিজের নাম আর ঠিকানাটা একটু লিখে দাও তো মা।’
সাকিনা কাঠের পুতুলের মতো তারা যা যা বলেন করে যায়।
সাকিনা বুঝতে পারে আলি ফিরবে না। সে তাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিচ্ছে। সে অনুভব করে সে একাই বরাবর এর মতো একাই !
হঠাৎ করে প্রচণ্ড ভাবে একা হয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে বাইরে থেকে দেখতে ঠিক আপনার আর আমার মতোই। কিন্তু তারা ভেতর থেকে ভীষণ একা। একাকিত্ব তাদের কুরেকুরে খায়। তারা প্রতিনিয়ত মরে। আমার আর আপনার থেকে তাদের পার্থক্য শুধু এটাই যে, তারা প্রতিটা মুহূর্ত লড়াই করে। পৃথিবীর সমস্ত নিয়মের বিরুদ্ধে! সে নিয়ম, যে নিয়মে তাকে বেঁধে দেওয়া হয় তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে। সাকিনা তাদের মধ্যে একজন।
সময় নিজের তেজে এগিয়ে যায়। কেউ পারে না তাকে আটকাতে। পাত্র পক্ষের এতই তাকে পছন্দ হয়ে যায় যে ঠিক তার চার দিন পরেই বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যায়।
নিয়তি এতই কঠিন সত্য যখন তখন সেটা গ্রহণ করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। সাকিনা পারেনি। জল যখন মাছের কাছে মৃত্যুর কারণ হয়ে যায় তখন সে বুঝতে পারে বাস্তবতার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকাটা ঠিক কতটা কঠিন। কতটা স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়, কতটা নিজেকে বদলাতে হয়। ডুবন্ত মাছের মতো বাস্তবতার কাছে খাবি খায় সাকিনা। এ কি ভুল হল তার, আলফাজেরও ঠিক এরকমই কষ্ট হয়েছিল। আজ তার জায়গায় নিজেকে খুঁজে পাই সে! সাকিনা চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। তবুও মনোবল হারায় না। ফোন লাগায় আলিকে –
আলি ফোন তোলে না। নিজেকে আরও অসহায় মনে হয়। কোনও কথা বেরোয় না তার, শুধু কেঁদে যায়।
আলি ওদিকে সিনেমা হলের ভেতর। বিনোদনে ঢুকে থাকা মনের ভেতরে সাকিনার আর্তনাদ পৌঁছায়নি।
হাফটাইম শুরু হতেই বাইরে এসে সিগারেট ধরিয়ে ফোনে হাত দেয়। এত গুলো মিসডকল দেখে অবাক হয়। তাড়াতাড়ি ফোন করে –
‘হ্যাঁ বলো ….কি হল!’
-‘আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল আলি। তুমি যে বললে দেখতে এলেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায় না। তবে কেন এমন হল!’
দুপাশেই চুপ। সাকিনার নিঃশব্দ কান্না আলিকে অস্থির করে তোলে।
-‘চারদিন পর বিয়ের দিন ঠিক হল আলি , আ…আলি …কি হল এটা! কেন হল? আমি পারবো না বিয়ে করতে। তুমি ওদের বলে দাও, আমি পারবো না।’
আলি সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে। এটা ওটা বলে।
শেষে, সাকিনা শর্ত দেয়। তার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে হবে।
আলি রাতের গাড়িতে উঠে পড়ে।
সাকিনাকে রাতভর সেই প্রথম দিনের পরিচয়, গল্প, খুনসুটি কুরে কুরে খায়। কখনও কখনও এগুলো তাকে বিরক্ত করছিল বা এগুলো তাকে কাঁদাচ্ছিল! সীমাহীন রাতটা বরফের মতো কঠিন। যেন সকালটাকে আসতেই দেয় না।
বিয়ের সাজ আজ তার জন্য রংহীন বিধবার সাজের মতো মনে হল। বাড়িতে বুঝাতেই পারেনি, তার মন অন্য কারও, সে শুধু তারই হয়ে থাকতে চাই। যেতে চাই না তার প্রিয়কে ছেড়ে।
পরিবার সবসময় তার সাজানো সামাজিক সম্মান দেখে। দেওয়া কথার দাম রাখে। সেটা রাখতে কাকে বলি হতে হল দেখে না। এটাকে তারা ভদ্র ভাষায় ‘সমঝোতা’ বলে। বাস্তব পক্ষে সেটা মেয়েকেই করতে হয়।
বিয়ের আগের দিন রাতে আলি সাকিনাকে বলেই দিল, ‘আমি সময় চাইলাম তুমি তো সময় দিলে না, এখন আর কি করবে। যা হওয়ার সেটা তো হয়েই গেল। বিয়ে করে নাও। আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।’
সাকিনা রাজি নয়। সে পালানোর জন্য প্রস্তুত।
কান্নাকাটি শুরু করে। আলি তাকে তার আব্বু আম্মুর অবস্থার কথা, মানসম্মানের কথা মনে করায়। তাতেও পাথর গলে না।
শেষে বলে, ‘ফোনেই আমরা কবুল করে নিই, বল তুই রাজি?’
-‘হু! ‘
-‘বল, মুরসালীন শেখের ছেলে অলিউল আলিকে তুই বিয়ে করতে রাজি আছিস? যদি থাকিস কবুল বল।’
-‘কবুল! কবুল! কবুল!’
-‘হু এবার তুই বল আমাকে ……
-‘আরশাদ এর বড় মেয়ে সাকিনা সুলতানাকে তুমি কি তোমার পনি রূপে গ্রহণ করছো? যদি তার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব পালন কর তবে কবুল বলো।’
-‘কবুল! কবুল! কবুল!’
-‘এবার তুই আমার। শুধু আমার। আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।’
-‘এবার তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করবে না কোন দিন কথা দাও।’
-‘হু কথা দিলাম, আমি তোরই থাকবো।’
এই পাগলামির কোনও বাস্তবতা নেই আমি জানি। কিন্তু একটা অবুঝ মন যখন তার শেষ সাহারাটুকু হারিয়ে ফেলে তখন এই পাগলামিতে সে একটু বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পাই।
আলি বউ সাজে সাকিনাকে দেখতে যায়নি। তাকে এই শহরটাকে অনেক পর বলে মনে হচ্ছিল। শহরের বাইরে লুকিয়ে ছিল সে ফোন বন্ধ করে।
সাকিনা অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সে আসেনি। কথা দিয়েও আসেনি আলি। আর কোনদিন এখানে ফিরবে না। এমন অভিমানে সে রাগ করেই গাড়িতে উঠে যায়।
আলির বিকেলের দিকে মনে পড়ে, তার দেওয়া কথা সে রাখতে গেল না। সাকিনা অন্য কারোর ভাবতেই তার ভেতরটা জ্বলে ওঠে। কোন রকমে সামলে নিয়ে ভেতরের রাস্তা ধরে সে বাড়ির পথে এগিয়ে যায়। গ্রামে গিয়ে জানতে পারে সাকিনা বিদায় নিয়ে চলে গেছে।
সে তাড়াতাড়ি গাড়ি ঘুরিয়ে তার শ্বশুর বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। পথে যদি দেখা দেয় একবার শেষ বারের মতো না হয় দেখবে তাকে। কিন্তু হায় রে ঈশ্বরও মনে হয় প্রতারক দের সময় মতো সাথে থাকে না।
আলি সেদিন বোকামি করে একটা বড় ভুল করে বসে। সে সাকিনার স্বামীকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘এখানে একটু আগে যে মেয়েটার বিয়ে হয়েছে তার বাড়ি কোনটা !’
সাকিনার স্বামী একটু রগচটা! সেদিন আলি বাড়ি ফিরতে পারেনি।
সাতদিন পরে যখন ফিরলো তখন গ্রামে আর থাকেনি।
সাকিনা এখন আর আলির জন্য অপেক্ষা করে না। তার ফুটফুটে একটা মেয়ে রয়েছে। সে বেশ আছে স্বামী সংসার নিয়ে। আমি গেছিলাম তার সাথে কথা বলতে, সে আমায় বলেছে, ‘কেউ যদি আপনাকে ছেড়ে চলে যায়, নিশ্চিন্তে ভেবে নেবেন আপনার প্রতি তার ভালোবাসা আর মায়া কোনোটিই আর কাজ করে না। তাই সে চলে গেছে। কারণ, মায়া- ভালোবাসা থাকলে হাজার ঝড়ের মাঝেও আপনার হাত সে আকঁড়ে ধরে রাখতো। আপনাকে আগলে রাখতো। কখনই আপনাকে ঝড়ের কবলে ফেলে উড়ে যেত না। ‘আমি অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম তার দিকে, নিজেকে তুচ্ছ মনে হচ্ছিল তার আত্মসমানের আগে।
আলির সাথে আমার দেখা হয় প্রায়। সেও বেশ আছে। পরে যে প্রেম করেনি তা নয়। আমার দেখা সে বেশ কয়েকজনের সাথেই প্রেম করে। তারপরেও দিন শেষে সে সাকিনার জন্য কাঁদে। তাকে ফিরে পেতে চাই। নিজেকে জিজ্ঞাসা করে, এই জায়গায় কেন সে। তার জীবনটা অন্য রকম হওয়ার কথা ছিল। এখন সে ভাবে ওই দিন যদি কথা গুলো ফোনে না বলে তাকে নিয়ে দূরে কোথাও গিয়ে কাউকে সাক্ষী রেখে তাকে শুধু নিজের করে নিতে পারত, তবে হয়তো তার জীবনটা সার্থক হত। সেও বাঁচে কিন্তু কাপুরুষের মত!
আমার মনে বলে, “এই যে সবাই বিচ্ছেদ হয়েছে বলে বেড়ায়, আসলে কি ভালবাসার বিচ্ছেদ হয়? বিচ্ছেদ নিলেই বরং বিচ্ছেদটা আর হয় না,মানুষটার পুরোটাই থেকে যায় তার না থাকা জুড়ে।”


ধুলিয়ান, মুর্শিদাবাদ ।।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com