পৌর নির্বাচনঃ নড়াইলে কে পাচ্ছেন আ’লীগের মনোনয়ন?

বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৫

পৌর নির্বাচনঃ  নড়াইলে কে পাচ্ছেন আ’লীগের মনোনয়ন?

রাজনীতি নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩ ডিসেম্বর মনোনয়পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন, ৫ ও ৬ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যাহার এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর জোর আলোচনা চলছে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন?

অপরদিকে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভা রয়েছে ঘোষিত তফসিলে। এদিকে মনোনয়ন সঠিক না হলে এবারও নড়াইল পৌরসভার নির্বাচনী ফসল উঠতে পারে বিএনপির ঘরে।


কে পাচ্ছেন নড়াইল পৌরসভার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। চায়ের দোকান থেকে অফিস পাড়া সবখানেই একই আলোচনা। দলীয় মনোনয়নে পৌরসভার নির্বাচন হওয়া এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র প্রার্থীরা তোড়জোড় শুরু করেছেন। জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং-লবিং থাকায় উভয় গ্রুপ তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে দেন দরবার চালাচ্ছেন। তেমনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভোটের আশায়।

দলীয় সূত্র জানায়, নড়াইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় দীর্ঘদিন বিভক্ত হয়ে চলছে। এর একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। অপর অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস পুনরায় সভাপতি মনোনিত হন এবং বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন। ছাত্রলীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে মুক্তির অংশে সভাপতি-সম্পাদকের একজন এবং সুবাস চন্দ্র বোস ও নিলু খানের অংশে একজন করে কমিটি গঠন করা হয়। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কবিরুল হক মুক্তির পক্ষ পদবঞ্চিত হন এবং রাজনৈতিকভাবে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে এ অংশটি।

কবিরুল হক মুক্তির পক্ষের রয়েছে একাধিক মেয়র প্রার্থী। জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান এবং নড়াইল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলম। তিনি অবশ্য আগেই ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্রভাবে মেয়র প্রার্থী হবেন।

অপরদিকে, সুবাস চন্দ্র বোস ও নিলু খানের অংশে রয়েছে একমাত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস। উভয় পক্ষয় তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

প্রথম শ্রেণির নড়াইল পৌরসভায় সম্ভাব্য ১০ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একজন বিএপি, একজন জাতীয় পার্টি এবং বাকি আওয়ামী লীগের। এখানে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন-জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরখাস্তকৃত মেয়র জুলফিকার আলী মণ্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোস্তফা কামাল মোস্ত, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান, নড়াইল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা শিক্ষক আঞ্জুমান আরা, নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল মুনসুর বিল্লাহ, সাবেক কাউন্সিলর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মুনির হোসেন।

তবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস এ তিন জনের মধ্য থেকেই দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ার জোর সম্ভবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নড়াইল আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাঁটি বলে বিবেচিত হলেও এখানে দলটি দলীয় কোন্দলে জর্জরিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে নড়াইল ও লোহাগড়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপি এখানে বিজয় অর্জন করে।

নড়াইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী মণ্ডল নড়াইল পৌরসভায় ৮ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো নড়াইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস (৬ হাজার ৮৫২ভোট) এবং চারবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব হোসেন পান ৪ হাজার ৫৩৯ ভোট।

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি নড়াইলে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের মামলায় নড়াইল পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী মণ্ডল গ্রেপ্তার হন। কয়েকটি নাশকতার মামলা ও হাজতে থাকার কারণে তিনি পৌর মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত হন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ১নং ডেপুটি মেয়র মোস্তফা কামাল মোস্ত।

কালিয়া: কালিয়া পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ৮ জন। এদের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। এরা হলেন-নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তির চাচাতো ভাই বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক টুলু ও সাবেক পৌর মেয়র একরামুল হক টুকু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ পদ ঘোষ, বর্তমান মেয়রের বোনের মেয়ে পৌর কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেত্রী সোহেলী ইসলাম নিরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান হিরা, আওয়াম লীগ নেতা ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন, উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খোকন চন্দ্র সিকদার ও আওয়ামী লীগ নেতা লায়েক হোসেন।

এসব প্রাথীদের কেউ ঘরে  বসে নেই। সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকার নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন মানুষের কাছে। কখনও কখনও এলাকার মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় হাত বাড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

কালিয়া থানা বিএনপির কয়েক নেতা জানিয়েছেন, এখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ ব্যাপারে কেউ খোঁজ-খবরও রাখছেন না।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস জানান, নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। শুনেছি জেলার তিনটি পৌরসভায় একাধিক মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করা হবে। সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সিকদার জানান, কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত পৌর নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে আমরা সেভাবেই কাজ করব।

জেলা নির্বাচন কমিশনার সেখ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জেলার নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২৫ নভেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com