পোয়াতুরকুঠি ভারত হলেও আইনুলের স্ত্রী ফেরেন নি

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০১৫

পোয়াতুরকুঠি ভারত হলেও আইনুলের স্ত্রী ফেরেন নি

 

অমিতাভ ভট্টশালীঃ বাংলাদেশি ছিটমহল থেকে সদ্য ভারতীয় গ্রাম হওয়া পোয়াতুরকুঠির তরুণ আইনুল হক ভেবেছিলেন এবার হয়তো তাঁর স্ত্রী সদ্যজাত কন্যাকে নিয়ে ফেরত আসবেন বাড়িতে।


গতবছর অগাস্ট মাসে দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা বলেই বিয়ে হয় দুজনের।

দিনহাটা শহরের কাছের একটি ভারতীয় গ্রামের মেয়ে আইনুলের স্ত্রী। বিদ্যুত, ফ্যান, টিভি – এসবে ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত ছিলেন তিনি।

কিন্তু ছিটমহলের শ্বশুরবাড়িতে সেসব কিছুই নেই। নেই কোনও মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা – তাই কিছুটা ক্ষুণ্ন ছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে অভিযোগও করতেন স্বামী, শ্বাশুড়ি বা বাবাকে।

তারপর পরীক্ষা দিতে বাপের বাড়িতে গিয়ে আর স্বামীর ঘরে ফিরে আসেন নি তিনি।

“বিয়ের কথাবার্তার সময়েই মেয়ের বাড়ি থেকে বলেছিল যে মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে দিতে পারে। আমরাও রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু সেই যে পরীক্ষা দিতে গেল, তার পর আর বৌমা ফিরে আসছে না। আমার ছেলে অনেক বার গেছে ফিরিয়ে আনতে, কিন্তু সে আসে নি। কয়েকদিন আগে তো আমার নাতনীও হয়েছে,” মন্তব্য আইনুলের মা ময়না বিবির।

পরীক্ষার পরে যতবারই আইনুল স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেছেন, ততবারই নানা বাহানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

“একদিন বলল কাল যাবে, পরের দিন বলল সকালে না, বিকেলে যাবে মেয়ে। বিকেলে বলে এখন না। আবার এখন বলছে ছিটমহলে মেয়েকে সংসার করতে দেবে না তার বাবা-মা,” অভিযোগ আইনুলের।

 নিজের ঘর ফ্যালফেলিয়ে দেখছে  আইনুল হক

নিজের ঘর ফ্যালফেলিয়ে দেখছে আইনুল হক

ছিটমহলের বাসিন্দা হওয়াই যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে বিনিময়ের পরে এখন তো সেটা ভারতীয় গ্রাম। এখনও কেন আপত্তি।

আইনুলের কথায়, “বিনিময়ের খবর বেরনোর পরে তারা বলেছিল ফেরত পাঠাবে, কিন্তু এখন বিনিময়ের পরেও তো তারা কোনও কিছু স্পষ্ট করে বলছে না। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে অপমান তো করেইছে, একবার শ্বশুরজি তো মারলেনও আমাকে ছিটের বাসিন্দা বলে।”

তাঁর শ্বশুরবাড়ির কারও সঙ্গে বা তাঁর স্ত্রী এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নি, তাই তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

যেদিন বাংলাদেশি ছিটমহল থেকে ভারতীয় গ্রামে পরিণত হল আইনুলের গ্রাম পোয়াতুর কুঠি, সেদিন সবাই উৎসবে ব্যস্ত, পতাকা তোলা হচ্ছে, ভারতের সরকারি আধিকরিকরা আসছেন। কিন্তু আইনুলের মন খারাপ।

বিয়ের আগে শখ করে কেনা খাট, আলমারি, আলনায় ধুলো পড়ছে – কিছু জিনিষ ঢাকা দিয়ে রাখা। অপেক্ষায় রয়েছেন কবে স্ত্রী আর সদ্যজাত কন্যা ওই ঘরে ফিরে আসবেন।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৩ আগষ্ট ২০৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com