পূরণ হলো না এন্ড্রু কিশোরের শেষ ইচ্ছা

পৈতৃক ভিটা কোটালিপাড়ায় করতে চেয়েছিলেন ‘প্রার্থনাকুঞ্জ’

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

পূরণ হলো না এন্ড্রু কিশোরের শেষ ইচ্ছা
২০১৮ সালে সস্ত্রীক কোটালীপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে এন্ড্রু কিশোর, ছবি: সংগৃহীত

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়োগো মাটি’, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না। এমনটাই জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

গত সোমবার সন্ধ্যায় এই গুণী সংগীতশিল্পীর মৃত্যুর সংবাদ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তার স্বজনরাসহ উপজেলাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই টিভির সামনে বসে এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যু সংবাদ শুনেছেন আর অঝোরধারায় কেঁদেছেন। পুরো এলাকা জুড়ে যেন শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।


উপজেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এই গুণী শিল্পীর এভাবে চলে যাওয়া যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এই শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে কোটালীপাড়ায় সংগীত একাডেমি বা স্কুল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে সবশেষ এন্ড্রু কিশোর সস্ত্রীক কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের পৈত্রিক ভিটায় বেড়াতে এসেছিলেন। এ সময় তিনি তার পৈতৃক ভিটায় একটি ‘প্রার্থনাকুঞ্জ’ করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার কাকাতো ভাই পূর্ণদান বাড়ৈ।

পূর্ণদান বাড়ৈ বলেন, এন্ড্রু কিশোর আমার কাকাতো ভাই। তার বাবার নাম ক্ষীতিশ বাড়ৈ। এন্ড্রু কিশোররা ছিলেন ৩ ভাই-বোন। ৩ ভাই-বোনের মধ্যে এন্ড্রু কিশোর ছিল ছোট। তার বড় ভাইর নাম স্বপন বাড়ৈ। বোন শিখা বাড়ৈ। আমার কাকা ক্ষীতিশ বাড়ৈর কর্মস্থল ছিল রাজশাহী। তিনি ওখানে চিকিৎসা পেশায় জড়িত ছিলেন। ওখানেই এন্ড্রু কিশোরের জন্ম। তবে তার বাবার জন্ম কোটালীপাড়ায়।

তিনি আরও জানান, এন্ড্রু কিশোরের বাবা ক্ষীতিশ বাড়ৈ বরিশালে মিশনারি স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে রাজশাহীতে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে তিনি তার পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতিবছরই কোটালীপাড়ায় বেড়াতে আসতেন।

এন্ড্রু কিশোরের অপর এক কাকাতো ভাই এলিও বাড়ৈ বলেন, গত ৭ মাস আগে এন্ড্রু কিশোরের সাথে আমার শেষ কথা হয়েছে। আমাদের এক কাকার মৃত্যুতে অনুষ্ঠান করার জন্য তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আমাদের যে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের সহযোগিতা করতেন। বিভিন্ন সময়ে ফোন করে আমাদের খোঁজখবর নিতেন। এন্ড্রু কিশোর একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন।

কোটালীপাড়ার সংস্কৃতিজন ও শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার ভাবুক এ প্রতিনিধিকে বলেন, সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই এই মহান শিল্পীর নামে কোটালীপাড়ায় একটি সংগীত একাডেমি বা একটি সংগীত স্কুল স্থাপন করা হোক।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে দেশের সকল সংগীতপ্রেমীরাই শোকাহত। দেশের এই মহান সংগীতশিল্পীর পৈত্রিক বাড়ি কোটালীপাড়ায়, এটা সত্যিই কোটালীপাড়াবাসীর জন্য গর্বের। আমরা এই গুণী শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার্থে কোটালীপাড়ায় একটি সংগীত একাডেমি বা সংগীত স্কুল স্থাপনের জন্য চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ জুলাই ০৮,২০২০

আরো পড়ুনঃ এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য ১৫ জুলাই রাজশাহী

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com