পুলিশ পাহারায় পালালেন ছাত্রলীগ নেতা রানা

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬

পুলিশ পাহারায় পালালেন ছাত্রলীগ নেতা রানা

Raj mapরাজশাহীঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত এম মিজানুর রহমান রানার প্রত্যক্ষ মদদে হাতে গোনা কয়েকজন বহিস্কৃত ও অস্ত্রধারী নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। বহিস্কৃত ও অস্ত্রধারীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল ছাত্রলীগের ত্যাগ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিপাকে ফেলতে বারবার অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেন ছাত্রলীগ নেতা রানা। অবশেষে রানার অব্যাহতিতে ক্যাম্পাসে সবার মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। শনিবার ক্যাম্পাসের সেই ভয়ানক মূর্তি এম মিজানুর রহমান রানাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

রাবি ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২০ জুলাই মিজানুর রহমান রানাকে সভাপতি ও এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে রাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ২২ আগস্ট সম্পাদক তুহিনের ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় শিবির। ওই সময়ই এঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি রানার যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ তোলে সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। তুহিনের অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য শুরু করে রানা। সংগঠনের সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের দুরে ঠেলে দিয়ে বহিরাগত ও শিবির ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অপকর্ম শুরু বলে অভিযোগ অধিকাংশ ছাত্রলীগ নেতার।


এদিকে, দলীয় শৃংখলাভঙ্গের দায়ে মিজানুর রহমান রানাকে সংগঠন থেকে বহিস্কারের পর রানা গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় হল ছেড়ে পালিয়েছে। হল ছেড়ে যাওয়ার পর রানার নিয়ন্ত্রিত ১০টি কক্ষ দখলে নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সদ্য বহিস্কৃত রানার সঙ্গে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে তল্পিতল্পাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে ছিল অপকর্মের দায়ে বহিস্কৃত রানা চৌধুরী, মেহেদী হাসান, আতিকুর রহমান সুমন, মাহবুবুর রহমান পলাশ, মোহাম্মদ আলী, সাইদুল ইসলাম রুবেল, মুজাহিদ শুভ্র, আরিফুল ইসলাম, রাজিবসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

পুলিশ প্রহরায় হল থেকে বের হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রধান ফটক দিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস ছাড়ে তারা। একইসঙ্গে রানার আশ্রয়ে হলে থাকা শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাও হল ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এসময় তার সাঙ্গপাঙ্গদের কাছে অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

শনিবার প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় যুক্ত থাকার দায়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের জরুরি সভায় মিজানুর রহমান রানাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। তার স্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এঘটনার পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে বহিস্কৃত রানার অনুসারীরা বঙ্গবন্ধু হলে জড়ো হতে থাকে।

এসময় নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাঞ্জু ও রানা বিরোধী গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রানা ও তার অনুসারীদের ভোর হওয়ার আগেই হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এতে তারা রাজি হওয়ায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে বের করে দেয়া হয়।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ১৮ জানুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com