পুতিনকে পাগল বলা রুশ মডেলের লাশ উদ্ধার

রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২

পুতিনকে পাগল বলা রুশ মডেলের লাশ উদ্ধার
রাশিয়ান জনপ্রিয় মডেল গ্রেটা ভেদলার [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

রাশিয়ান জনপ্রিয় মডেল গ্রেটা ভেদলার। নামি-দামি অনেক প্রতিষ্ঠানেরই মডেল হয়েছিলেন তিনি। ছিল ফ্যাশন জগতে তার খ্যাতি। তবে ২০২১ সালে ২৩ বছর বয়সী এই মডেল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাগল বলেছিলেন। রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশেও ব্যাপারটি তখন ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও ভাইরাল হওয়ার আরও একটি কারণ ছিল। সেই কারণটি হচ্ছে তিনি পুতিনকে পাগল বলার কিছুদিন পরেই নিখোঁজ হয়ে যান। তাকে কোথাও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এরপর বছর ঘুরে ২০২২ সালের মার্চ মাসে তাকে খুঁজে পাওয়া গেল। তবে জীবিত নয় মৃত। সম্প্রতি এই মডেলের মরদেহ মিলেছে। তাও দুমড়েমুচড়ে রাখা, একটি স্যুটকেসের মধ্যে। তার এই মরদেহ মেলার পর থেকেই কথা উঠেছে কিভাবে খুন হলেন তিনি? এছাড়া পুতিনকে ঘিরে আরও নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে রাশিয়ান পুলিশ দাবি করছে পুতিন বিরোধী কোন কাণ্ডে নয় বরং মডেল গ্রেটার প্রাক্তন প্রেমিক দিমিত্রি কোরোভিনই তাকে খুন করেছেন।এ কথা নাকি আবার পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন ওই প্রেমিক!


গ্রেটার প্রাক্তন প্রেমিক দিমিত্রি গ্রেপ্তার হবার পর পুলিশের কাছে বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মূলত অর্থ নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়, এমনকি তা হাতাহাতিতে পৌঁছায়। এরপরই তাকে পরিকল্পনা করে খুন করেন। এই খুনের পেছনে গ্রেটার রাজনৈতিক বা পুতিন-বিরোধী কোনও কিছূর সঙ্গে সম্পর্ক নেই।’ তথ্যে আরও উঠে আসে, গ্রেটা নিখোঁজ হবার পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরণের ছবি আপলোড করে নিয়মিত আপডেট রাখতেন সাবেক প্রেমিক দিমিত্রি। তবে সেই পোস্ট দেওয়া দেখে সন্দেহ জাগে ইউজেনি ফস্টার নামে গ্রেটার এক বন্ধুর। চলমান ইউক্রেনের যুদ্ধে যে খারকিভ শহর প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা ইউজেনি। পুলিশের কাছে গ্রেটার পোস্ট সন্দেহ প্রকাশ করে একটি অভিযোগ করেন। পরে রাশিয়ার মস্কোর এক বন্ধুর সাহায্যে পুলিশের কাছে যান ইউজেনি।

এরপর ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। গ্রেটার বন্ধুর অভিযোগের ভিত্তিতে দিমিত্রিকে খুঁজে বের করে। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করে রুশ পুলিশ। তাদের তদন্ত করা একটি ভিডিওতে দেখা যায় নিজের অপরাধ স্বীকার করছেন দিমিত্রি। এমনকি গ্রেটাকে ঠিক কিভাবে খুন করা হয়েছে তারও বর্ণনা দেন তিনি। দিমিত্রি পুলিশকে জবানবন্দিতে বলেন, গ্রেটাকে খুন করার পর একটি হোটেলের ঘরে তার মরদেহের সঙ্গে তিন রাত্রি কাটিয়েছেন। তারপর গাড়িতে করে মস্কো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে লিপেৎসক অঞ্চলে গ্রেটার মরদেহ নিয়ে যান। ওই গাড়ির পিছনে মালপত্র রাখার জায়গায় একটি স্যুটকেসের মধ্যে রাখা ছিল গ্রেটার দেহ। সেই গাড়ি ওখানে ফেলে পালিয়ে চলে আসেন তিনি।

প্রায় এক বছর ধরে লিপেৎসক অঞ্চলে সেই গাড়ির মধ্যেই সুটকেসের ভেতর গ্রেটার মরদেহ পড়েছিল। গ্রেটা মডেলিংয়ের পাশপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মুখ্যজবাব দিতেন। এমনকি দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোন কর্মকাণ্ড পছন্দ না হলে তিনি তা নিয়ে যোগাযোগমাধ্যম গুলোতে নিয়মিত পোস্ট দিতেন। তাই গ্রেটার মৃত্যুর এমন খবরে তার ভক্তরা সামাজিক মাধ্যম গুলোতে সরব য়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন আদৌ কি গ্রেটাকে তার সাবেক প্রেমিক খুন করেছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন রহস্য!

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com